Skip to main content

Full text of "Pragoitihasik Bangla (প্রাগৈতিহাসিক বাঙলা) ( Paresh Chandra Dasgupta (পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত)"

See other formats










পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত 


অণিমা প্রকাশনী 


যী] ১৪১, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রীট 


কলকাতা - ৭০০ ০০৯ 


PRAGAITIHASIK BANGLA 
(Ancient History of Bangal) 


Written by 
Published by 


Published on 
Illustrated & 
Enlarged Edition on 


Price 


Sr 


প্রকাশ কাল 
বর্ধিত এবং 
পরিমার্জিত সংস্করণ 


প্রকাশক 


প্রচ্ছদ শিল্পী 
আলোক চিত্র 


যান্ত্রিক শব্দগ্রন্থুক 


o 
o 


oo 


৩০ 


Paresh Chandra Dasgupta 


D. Kar, Anima Prakashani 
141, Keshab Chandra Sen Street 
Kolkata — 700 009. 


August 15, 1981 


Calcutta Book Fair, January 2004 
Rs. 60.00 

গ্রন্থকার 

রাখী পূর্ণিমা, শ্রাবণ ৩০, ১৩৮৮ 


কলকাতা বইমেলা, মাঘ ১৪১০ - 


দ্বিজদাস কর, অণিমা প্রকাশনী 
১৪১, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রীট 
কলকাতা - ৭০০ ০০৯ 
ধীরেন শাসমল 


রণজিতকুমার সেন 

পঃ বঃ রাজ্য প্রত্বুতত্ব অধিকারের সৌজন্যে মুদ্রিত 
PAC 4 

২০৯/২৩, মহারাজা নন্দকুমার রোড 
কলকাতা - 300 ০৩৬ 

সাহারা প্রিন্টার্স 
১১০/১/১সি, ডাঃ লালমোহন ভট্টাচার্য রোড 
কলকাতা - ৭০০ ০১৪ 


৬০.০০ 


P উৎসর্গ e 


ভারতের প্রত্বুতত্ব গবেষণায় ও সমীক্ষণে যিনি ছিলেন অগ্রকর্মী 
ও পথপ্রদর্শক সেই নিবেদিত প্রাণ যুগপ্রবর্তক রাখালদাস 
বন্দ্যোপাধ্যায় মহোদয়ের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে = 


— লেখব 


39 Wl og 


লেখক পরিচিতি 

মুখবন্ধ 

ভূমিকা (প্রথম সংস্করণ) 

ভূমিকা (দ্বিতীয় সংস্করণ) 
পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন ও সভ্যতার আবির্ভাব 
মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের AAS 
পশ্চিমবঙ্গে আদি প্রস্তর যুগ 

পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ 
নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ 

তাত্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় 


সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসূচী 
লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী 


p, লেখক পরিচিতি € 


শ্রী পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত ১৯২৩ সালের 
১লা এপ্রিল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার 
পিতা ডঃ তমোনাশচন্ত্র দাশগুপ্ত (১৮৯২-১৯৬৯) 
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাংলাভাষা 
E এনেছিলেন তাদের অন্যতম এবং বাংলাভাষা ও 
এ e সাহিত্যের প্রথম প্রধান এবং রামতনু লাহিড়ী 
অধ্যাপক | আচার্য (ডঃ) দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন 
তার মাতামহ। 


স্বৰ্গত পরেশচন্ত্র দাশগুপ্তের জীবৎকাল সীমিত, মাত্র ৫৯ বছর। কিন্তু 
এই ৫৯ বছরেই তিনি প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের উপাদান ও ভাবনার খোলনলচে 
বদলে দিয়েছেন। "Academic Decolonisation"-43 ও সেটা BF | 
ASAA লিখলে মানবো নাহলে নয় — এসব ধারনা ও অভ্যাস তিনি ১৯৪৭. 
১৯৪৮ সাল থেকেই বাতিলের পর্যায়ে ফেলে দিয়ে সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় বাংলার 
তথা পূর্বভারতের ইতিহাসের পর্দা কয়েক হাজার বুধ পিছন দিকে গুটিয়ে 
ফেলেছেন রীতিমত পাথুরে প্রমাণের দ্বারা। পরেশচন্দ্র দাশগুপ্তের আগে ভাবা 
হত বঙ্গের ইতিহাস খুব বেশী হলে আলেকজান্ডারের আক্রমণ ও মৌর্য বংশ 
থেকে, তার আগে সব কিছুই ভাসাভাসা পৌরাণিক, ইত্যাদি। ১৯৪৮ থেকে 
১৯৮২ অবধি এই ৩৪ বছর ধরে অনলস খননকার্য ও সংগ্রহের দ্বারা তিনি 
বাংলায় তাতপ্রস্তর যুগের আবিষ্কার করলেন এবং অন্যান্য পুরাতাত্বিক সংগ্রহ ও 
খননকার্ষের দ্বারা বাংলার ইতিহাস ও ইতিহাস ভাবনাকে সম্পূর্ণ পাপ্টেদিলেন। 
১৯৬১-১৯৬৯ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রমাণিত হল আজ থেকে সাড়ে চার হাজার 
বছর আগেও বাংলার সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিল যার সাথে যোগাযোগ, ছিল তূমধ্যসাগরীয় 





প্রাগেতিহাসিক বাংলা 


সভ্যতাগুলির। এসব ক্ষেত্রে তিনিই একা, পথপ্রদর্শক ও AAMAS পূর্বভারতে 
এক্ষেত্রে তার ভূমিকা রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মতই — বস্তুতঃ শেষ পুস্তকটি 
(প্রাগৈতিহাসিক বাঙলা) তিনি রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কেই উৎসর্গ করে গেছেন। 


এইসব করতে গিয়ে তাকে বারেবারেই বৃত্তি ও পদ পরিবর্তন করতে 
হয়েছে। অতি সংক্ষেপে ১৯৪৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচীন 
ইতিহাসে এম.এ. (Archaoclogical Survey of India-3 প্রাক্তন 
Director-General ডঃ দেবলা মিত্র তার সহপাঠিনী ছিলেন) পাশ করবার 
পরে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অধ্যাপনা শেষে তাশ্রলিপ্ত কলেজ 
ও পরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প বয়সেই অধ্যাপকের পদে বৃত হন। ১৯৬০ 
সালে লেখা 02175911096 : a forgotten Civilization (Journal of 
the Department of Letters - Calcutta University) প্রবন্ধটি 
আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। এই জন্য যে প্রবন্ধটিতে বিধৃত আছে — “বাঙলার 
মৃত্তিকার নীচে এক ভুলে যাওয়া সভ্যতা বিদ্যমান” (তার স্বল্প জীবনের সুকার্য 
সেই হারানো সভ্যতাটিকেই তুলে ধরে)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে Department 
of Museology-3 উদ্ঘাটন করেন, পরে খননকার্ষে সুবিধার জন্য সদ্যগঠিত ' 
পশ্চিমবঙ্গ YASS বিভাগে প্রথম Director হিসাবে যোগদান করেন ও ১৯৮১ 
সাল অবধি (অবসর গ্রহণ কাল) সেই পদে ছিলেন। ১৯৮১-র শেষে তিনি 
Australia-3 Melbourne University তে Faculty of Asia-Pacific 
Archaoclogy-3 Dean হিসাবে নির্বাচিত হন। কিন্তু অকস্মাৎ অসুস্থ হয়ে 
০৯.০৯.১৯৮২ র ভোরবেলা ইহলোক ত্যাগ করেন। 


BA WIT ফণীভূষণ গুপ্ত (১৯০০-১৯৫৬) ভারতীয় সরকারী আর্ট 
কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তার পত্নী, এক পুত্র ও চার কন্যা বর্তমান। রচনাবলী 
ংখ্য ও বিভিন্ন ভাষায়, আনুমানিক ছয় হাজারের CTA প্রধান কয়েকটি গ্রন্থ 
যেমন — Excavation of Pandu Rajar, Dhibi, প্রাগৈতিহাসিক শুশুনিয়া, 
অরণ্যছায়ার দুর্গে, Exploring Bengali Past, ইত্যাদি। 


কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ১৪ ১০ 


p TU a 


মানব সভ্যতার সূচনাপর্বের কথা সমস্তদিক থেকে সম্ভবত আজও 
সুস্পষ্ট নয়। কবে বা কোথায় বিবর্তনের ধাপ পেরিয়ে বুদ্ধি বিকাশ শুরু হল 
এবং মানুষ তার প্রয়োজনের হাতিয়ার তৈরী করতে শিখল তা নিয়ে অনেক 
বিতর্ক হয়েছে এবং হবে। তবে একথা অনস্বীকার্য ভারতবর্ষও বিশ্বের অন্যান্য 
অংশের মত এই আদি মানবের ক্রমবিকাশ বা অগ্রগতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে 
ছিল না। বিষয়টা জটিল কেননা তথ্য এবং সূত্র খুবই সীমাবদ্ধ। তবুও 
ভ্যালেন্টাইন বল থেকে শুরু করে নির্মল বসু, এইচ. ডি. সাঙ্কালিয়া, ভি. ডি. 
কৃষ্ণস্বামী, কে. ডি. ব্যানার্জী প্রমুখের গবেষণা এবং অনুসন্ধান অনেক তথ্যের 
জোগান দিয়েছে। কিন্তু বাঙলার প্রত্বতান্তিক গবেষণার ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় পরেশনন্দ্র 
দাশগুপ্তের অবদান অনন্য | নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে ক্ষেত্রসমীক্ষার দ্বারা তিনি 
বিশেষত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রস্তরযুগের 
আদিপর্ব থেকে শুরু করে ধারাবাহিকতার যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন বা 
বিশ্বপ্রেক্ষাপটে তার এক তুলনামূলক আলোচনা তার রচিত প্রাগৈতিহাসিক 
বাঙলা রচনাটির মূল বিষয়বস্তু 


ইতিপূর্বে বাংলা ভাষায় এ বিষয়ে বিশদ তথ্যযুক্ত arg প্রকাশিত হয়নি 
বলাযায়। শ্রী দাশগুপ্তের অনুকরণীয় ভাষাশৈলী বিষয়টিকে চিত্তাকর্ষক করে 
তুলেছে। প্রস্তর যুগের আদি বিন্যাস এবং বাঙলার বিভিন্ন স্থান বিশেষত 
APS! জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলির বিশ্লেষণ রচনাটিকে 
সমৃদ্ধ করেছে সন্দেহ নেই। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে বিবৃত নবাশ্মীয় পর্ব এবং 
তাশ্রযুগের বাংলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র প্রত্বুতাত্তিক সমীক্ষা এবং 
মননের সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত গ্রস্থকারের খননকার্ষে আবিষ্কৃত 


প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


পান্ডুরাজার টিবির নিদর্শনসমূহ বাঙলার নবাশ্মীয় এবং তাত্রপ্রস্তরযুগের এক 
অসাধারণ দলিল। পুস্তকটি একাধারে যেমন বাঙলার মানুষের প্রাগৈতিহাসিক 
যুগ থেকে এঁতিহাসিক যুগে উত্তরণের বিবরণ বহন করছে তেমনই বিশ্বের 
অন্যান্য স্থানে পাওয়া নিদর্শনসমূহের সঙ্গে এক তুলনামূলক আলোচনার 
দ্বারা এখানকার আবিষ্কারগুলির তাৎপর্য নির্ণয়ে দিকনির্দেশ করছে। 

অত্যন্ত অল্প মূল্যের এই পুস্তকটি লেখকের জীবদ্দশায় ১৯৮১-তে 
প্রথম প্রকাশিত হওয়ার অল্পকালের মধ্যেই নিঃশেষিত হওয়ায় এবিষয়ে 
উৎসাহী গবেষক এবং পড়ুয়ারা অত্যন্ত অসুবিধায় পড়েন। এটি পুনর্মু্রিত 
হলে বহুকালের অভাব দূর হবে। আজ এই জ্ঞানতপন্থবী আমাদের মধ্যে 
AS তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা আমরা এই প্রকাশনার দ্বারাই নিবেদন করতে 
পারব বলে মনে করি। 


মহালয়া, ১৪১০ — বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় 


ভারতীয় প্রত্বুতত্তব অধিকারের 
কলকাতা চক্রের অধিকর্তা 


e 


প্রথম সংস্করণ 


প্রাচীন বিশ্বে মানুষের প্রথম অভ্যুদয়কে ঘিরে যে সব কাহিনী রচিত 
হয়েছে তাদের তাৎপর্য প্রকৃতই অসাধারণ। প্রাসঙ্গিক এই রহস্যময় ইতিবৃত্তের 
প্রতিটি অনুপর্ব আজ বিজ্ঞানীর জীবনসাধনার দীপশিখায় ক্রমঃ আলোকিত। 
MEAT যুগের শতস্মৃতিঘেরা আঙ্গিনার ওপারে যেন বিবর্তনের ও প্রগতির 
দীর্ঘ পথ হারিয়ে গেছে এক আশ্চর্যময় নিসর্গচিত্রের মধ্য দিয়ে দূরের ANTS | 
পৃথিবীর বহু দেশেই এই হারানো ইতিবৃত্তের পূর্ণ মূল্যায়ন আজও হয়নি। 
PUI ধারায় পরিচালিত নানা গবেষণার ভিত্তিতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে 
পুরাতাত্তিকদের আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে আজ স্পষ্টীকৃত হয়ে চলেছে প্রস্তর 
যুগের পরম্পরাগত অধ্যায়গুলির রহস্য এবং তামা ও ব্রোঞ্জ প্রচলন-চিহ্নিত 
পর্বসমূহের সংস্কৃতির কাহিনী। সব মিলে এ এমন এক মহাকাব্য যেখানে 
খুঁজে পাওয়া যাবে বিস্মৃত সেই প্রথম প্রহরের আদিম মানুষের জীবনসংগ্রামের 
রূপরেখা, তার বিবর্তনের চারণ-গান এবং উত্তরণশীল চেতনার সাক্ষ্য, নবীন 
সংস্কৃতির উপাখ্যান প্রকৃতপক্ষে, এই একই বিবর্তন, উত্তরণ ও জীবনালেখ্যর 
সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায় প্রাচীন আফরিকা, এশিয়া ইয়োরোপের গহনে বিভিন্ন 
নিসর্গবৃত্তে নানা গিরি, নদী ও অরণ্যের পটভূঁমিকায়। মানুষের আগমন প্রসঙ্গে 
পুরাতাত্বিকদের উদ্যম ও অন্বেষা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আজও GIA | 
গবেষণার ক্ষেত্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব থাকলেও সর্বত্রই প্রতিভাসিত 
হয় সর্বশ্রেণীর মানবগোষ্ঠীর তথা “হোমিনিড'-দের আচরণে ও অনুভবে 
বিরাজমান এক মূলগত এঁক্য এবং সাংস্কৃতিক একাকীত্ব সত্তেও এক সমান্তরাল 
অথবা কিছুটা তুলনীয় ব্যাপ্তি। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু প্রাগৈতিহাসিক বাংলার 
কাহিনীকে উপলব্ধি করা যাবে এই বিশিষ্ট প্রসঙ্গে যেখানে গবেষকদের ভাবনা 


১২ 


প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


ও প্রয়াসকে অভিষিক্ত করে নব নব SHRM | SSS প্রাইস্টোসিন পর্বে 
বাংলায় অবস্থানকারী কিংবা এ দেশে পর্যটনশীল প্রস্তরযুগের মানব 
গোষ্ঠীগুলির পরিচয়যোগ্য সাংস্কৃতি ও ধীর প্রগতি আলোচিত হয়েছে সীমিত 
পরিসরে প্রস্তরযুগের পরবর্তী অধ্যায়কে ব্যক্ত করবার জন্য নিবেদিত হয়েছে 
পশ্চিমসঙ্গে অতিবাহিত তাশ্রযুগের কাহিনী। আজ থেকে তিন হাজার বছরেরও 
আগে এ দেশের এক সুবিস্তৃত অঞ্চলে উন্নত তাশ্রাশ্মীয় (ক্যালকোলিথিক') 
সভ্যতার উপস্থিতি প্রাচ্-ভারতের ইতিহাসকে যে এক নব পরিসর দান করেছে 
সে বিষয়ে এখন পুরাতাত্বিকগণ GEMS | এখানে উল্লেখ্য, মগধের রাজা 
বিদ্বিসার ও তৎপুত্র অজাতশক্রুর কিংবদস্তীমুখর পর্বেরও পাঁচ শতাধিক বসব 
পূর্বে এই সভ্যতার অভ্যুদয় ও প্রসার ঘটেছিল। 


অবিভক্ত বাংলার প্রাগৈতিহাসিক জনজীবনের পরিবর্তনশীল 
পর্যায়গুলির বিভিন্ন Woe ছড়িয়ে আছে এই ভূখণ্ডের প্রাচীন পাললিক 
বিন্যাসে এবং শিলাময় কিংবা পার্বত্য পরিবেশে | পশ্চিমের আরণ্যক ভূমিতে, 
বিভিন্ন গিরির পটভূমিকায় এবং গ্রীষ্মে বিশীর্ণ স্লোতস্বতীগুলির কিনারায় যেমন 
বহু হাজার বছর পূর্বেকার এক ছায়াময় অতীতকে খুঁজে পাওয়া যাবে তেমন 
উত্তরে নিন্ন-হিমালয়ের বিভিন্ন উপত্যকায় ও কৃষি চত্বরে মেঘ ও রৌদ্রের 
লীলাক্ষেত্রে আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় (নিওলিথিক') সংস্কৃতির সৃষ্টি 
সংখ্যাতীত হাতিয়ার। “দার্জিলিং হিমালয়ে*র গহনে মহারঙ্গিত নদীর কিনারায় 
প্রসারিত গিরিশিরায় অবস্থিত মহাশ্মীয় (€মেগালিথিক') কীর্তির এক সমষ্টি 
স্বভাবতই এক বিশিষ্ট রহস্যের অবতারণা করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও সংগৃহীত 
হয়েছে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির নিদর্শন মসৃণ কুঠার। এখানে উল্লেখ্য, ইতিহাসপূর্ব 
কালে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার সীমান্তপারে ব্ৰহ্মদেশ ও আসাম ছিল প্রস্তরযুগের 
এই নবীন সংস্কৃতির লীলাক্ষেত্র। বর্তমান গ্রন্থে প্রাগৈতিহাসিক বাংলার 
পুরাতাত্বিক ইতিবৃত্ত আলোচিত হয়েছে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে। 


পুরাতাত্তিক ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত বহু বছরের গবেষণা ও 
সমীক্ষা বর্তমান আলোচনার ভিত্তিবরূপ। এখানে সর্বপ্রথম স্মরণ করি বিগত 
শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভ্যালেন্টাইন TAPS আবিষ্ত্রিয়াকে যার ফলে ওড়িশা 


ভূমিকা 


ও তৎকালীন ASA সমন্বিত বাংলা তথা প্রাচ্য-ভারতের প্রস্তরযুগের 
সংস্কৃতির প্রতি সর্বপ্রথম গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। ভ্যালেন্টাইন বল- 
এর আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণের অনেক বছর পর বাংলায় সাম্প্রতিক অতীতে 
গবেষণার এই ব্যাপক ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত 
নৃতত্ব বিভাগ এবং ভারতীয় পুরাতত্তব সর্বেক্ষণ। উল্লিখিত নৃতত্ব বিভাগের 
প্রচেষ্টা এবং ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণের দ্বারা অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উৎখনন, 
অনুসন্ধানকার্য ও আবিষ্করয়া প্রাগৈতিহাসিক বাংলার চিত্রটিকে তাৎপর্যময় 
করে তুলেছে নিঃসন্দেহে | তবে এই চিত্রটি সুস্পষ্ট রূপ প্রাপ্ত হয় বিশ্বের 
প্রত্ুতান্তিক মানচিত্রে বাংলাকে তার যথার্থ গৌরবময় স্থানে অভিষিক্ত করেছে 
বিগত কুড়ি বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের AOG অধিকারের দ্বারা 
পরিচালিত বিভিন্ন উৎখনন ও নানা গুরুত্বপূর্ণ অভিযানকার্যের ফলে। ১৯৬০ 
সালের শেষ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যস্ত দুই দশক উল্লিখিত অধিকারের 
অধিকর্তা রূপে এই সব খনন কার্যে, অভিযানে ও আবিস্ক্রিয়ায় আমাকে 
নিবিড়ভাবে অংশ গ্রহণ করতে হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, প্রাগৈতিহাসিক বাংলার 
যে অসাধারণ ইতিবৃত্তের ভাবরূপ আজ প্রকাশিত হয়েছে তার মূলে আছে 
নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগ আর নানা বিচিত্র ঘটনাক্রম। রাজ্যের প্রত্তত্তব 
অধিকারের উদ্যোগেই উৎখনন পরিচালিত হয়েছে পাগুরাজার টিবি ও বাণেশ্বর 
ডাঙ্গার তাত্রাশ্মীয় ধবংসাবশেষে এবং এই অধিকারের দ্বারা আবদ্ধ ধারাবাহিক 
পর্বতসমূহের প্রচলিত হাতিয়ার শ্রেণী। শেষোক্ত হাতিয়ার ও নানা বিলুপ্ত 
প্রাণিকুলের, বিশেষতঃ মেরুদণ্ডী পশুর, প্রস্তরীভূত ভগ্ন কঙ্কালগুলি নির্দেশ 
করে প্লাইস্টোসিন পর্বের এক প্রাচীন আবহাওয়া ও পরিবেশের প্রতি। এই 
গবেষণাকে আরও সার্থকতা দান করেছে ১৯৭৮ সালের একটি আবিষ্কার, 
মেদিনীপুর জেলার সিজুয়ী গ্রামের অদূরে আবিষ্কৃত এক তরুণ মানবের 
(‘হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স”) আংশিক রূপে শিলীভূত ভগ্ন চোয়াল। 
ভারতীয় GG বিভাগের প্রাচীন প্রাণী বিজ্ঞান শাখার বিশেষজ্ঞগণ এই 
“ফসিল’টিকে নির্দেশ করেছেন আজ থেকে প্রায় দশ হাজার বছর পূর্বের 
দিগন্তে আদি-হোলোসিন পর্বে। 


৯৩ 


১৪ 


প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


রাজ্যের AYSS অধিকারের দ্বারা অনুষ্ঠিত উৎখনন, অনুসন্ধানকার্য, 
গবেষণা ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন অমূল্য সাহায্য ও উপদেশ দানের 
জন্য ধন্যবাদ জানাই পুণে নগরীতে অবস্থিত “ডেকান কলেজ পোষ্ট গ্রাজুয়েট 
রিসার্চ ইনসটিটুট'-এর ভূতপূর্ব অধিকর্তা ডঃ এইচ. ডি. সাঙ্কালিয়াকে, ভারতীয় 
নৃতত্ব সর্বেক্ষণের পূর্বতন অধিকর্তা প্রয়াত অধ্যাপক নির্মলকুমার CAAT, 
ভারতীয় SHS সর্বেক্ষণের প্রাণীবিজ্ঞান শাখার প্রাক্তন অধিকর্তা শ্রী এম. 
ডি. এ. শান্ত্রীকে, প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ শ্যামাদাস চ্যাটাজীকে এবং রাজ্যের 
ARGS অধিকারে নিযুক্ত কর্মীদের আত্মনিবেদিত ARCA ASICS | 


পরিশেষে ধন্যবাদ জানাই প্রীতিভাজন শ্রী বিমলেন্দু চত্রবর্তীকে,যীর 
একক উদ্যমে এই গ্রন্থটির প্রকাশনা সম্ভব হল। বইটির প্রুফ দেখে শ্রী দ্বিজদাস 
কর ও শ্রীলঙ্ষ্মীকাস্ত মান্না আমাকে WH করেছেন। পরিশেষে, গবেষণা 
উপলক্ষে বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ দিয়ে সদা সাহায্য করেছেন রাজ্য প্রত্বতত্ব 
অধিকারের কর্মী শ্রী ভাঙ্কর ভট্টাচার্য এবং ভারতীয় FATS সর্বেক্ষণের অন্তর্গত 
পূর্বচক্রের গ্রস্থাগারিক শ্রী দেবপ্রিয় দাশগুপ্ত । এই গ্রন্থ পাঠকদের মনে আনন্দ 
ও আগ্রহের সঞ্চার করলে নিজেকে পুরস্কৃত ও ভাগ্যবান বোধ PAT | 


কলকাতা — পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত 
শুভ ১লা বৈশাখ, ১৩৮৮ 


5 ভূমিকা a 
দ্বিতীয় সংস্করণ 


সুদীর্ঘ ২৩ বছর পরে আমার পিতা 'পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত মহাশয়ের 
“প্রাগৈতিহাসিক বাঙলা” পুস্তকটি পুনঃ প্রকাশিত হচ্ছে — প্রকাশক শ্রী দ্বিজদাস কর 
এইজন্য আমার কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন। 


আর্কিওলজিকাল সার্ভে অবইন্ডিয়ার “কলকাতা চক্রে”-র (পূর্বতন পূর্বচক্র) 
প্রধান ডঃ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরলস অনুপ্রেরণা ও সহায়তা ছাড়া এই পুস্তকটি 
কোনও দিনই আর বার হত না। দুই নবীন পুরাতত্তববিদ্‌ ও নৃতাত্বিক ডঃ কৌশিক গঙ্গে 
পাধ্যায় ও ডঃ শুচিম্মিতা সেনচৌধুরী নানাভাবে, নানাসময়ে নিজেদের মুল্যবান সময় 
এবং শ্রম খরচ করে আমাকে সাহায্য করে গেছেন। 


আর সহয়তা পেয়েছি সকল সহকর্মীদের কাছ থেকে নিরলস, আপ্রাণ ও 
স্বার্থহীন। যেমন তিন Assistant Superintending Archaoelogist শ্রী 
তপনজ্যোতি চক্রবর্তী, শ্রী aay মাইতি ও শ্রী সমর ঘোষালের কাছ থেকে__ 
Draughtsman শ্রী পূর্ণেন্দু বিশ্বাসও আছেন। শুধু তাই নয়, বাবার প্রকাশিত ও 
অপ্রকাশিত বিপুলকায়, সমুদ্রপ্রমাণ রচনাবলীর যে সম্ভার আজ অনেকটাই WANT 
বিস্মৃত এবং লুপ্ত, হয়তো বা ধ্বংসপ্রাপ্ত/বিনষ্ট। তার যেটুকু ""Herodotus-43 
পান্ডুলিপি”-র মত উদ্ধার করা গিয়েছে — যেমন ০৭.০২.১৯৭০ সালের অপ্রকাশিত 
পান্ডুলিপি “পুরুলিয়া জেলার পুরাকীর্তি”__ সেইসব যাতে প্রকাশিত হয় সেদিকেও 
তারা আগ্রহী, বিশেষ করে বিভাগীয় প্রধান ডঃ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় 


প্রকৃত সন্তানের ভূমিকা এনারাই পালন করেছেন এবং করছেন। অতীব ACH 


১৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


বাবা তার সংক্ষিপ্ত জীবনে পূর্বভারতের পুরাতত্ত্চর্চাকে যে আর্ন্তজাতিক উচ্চতায় নিয়ে 
গিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা এনারাই রাখবেন (যখন সর্বপ্রকার “পড়াশোনা” 
অস্তমিত — কলকতার তথা বঙ্গের গ্রস্থাগারিকরা একেবারেই জানেন না IDL কাকে 
বলে — তা সুখে থাকুন তারা। বাবার লেখা মাত্রই ১৯৬০ (C.U) সালের JDL- 
যোগাড় করতে পুরো একবছর লেগে গেল। তার সহকর্মী শ্রী সুধীনকুমার দে যোগাড় 
করে না দিলে কিছু করবার ছিল না)। ধন্যবাদ দুই সুপ্রাচীন বন্ধু বর্তমানে ভারত সরকারের 
শিক্ষা দপ্তরের দুই মৃখ্যসচিব শ্রী জহর সরকার ও শ্রী পল্লব গোস্বামীকে, প্রায় বার দশক 
ধরে এনারা বাবার গুণমুগ্ধ, তিনি ২২ বছর আগে মারা গেলেও, এটি বিরল ঘটনা | 
বন্ধুবর শ্রী তরুন পাইন ও শ্রী ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী, বাবার ছাত্র অধ্যাপক ডঃ সমীর কুমার 
মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের YASS বিভাগের অধীক্ষক ডঃ গৌতম সেনগুপ্ত, 
গবেষক শ্রী যজ্ঞেশ্বর চৌধুরী, অধ্যাপিকা ডঃ দুর্গা বসু, ডঃ সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডঃ 
বিষ্ণুপ্রিয়া বসাক, ডঃ সোমনাথ চক্রবতী এবং আমার “মৃতভাষা, মৃতলিপি”-র শিক্ষক 
ডঃ সত্যরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় নানা সময়ে ও নানাভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন ও করবেন 
বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । সাড়ে ছয় হাজার রচনাবলীকে এক করা — ২২ বছর পরেও লেখাপড়া 
যখন অস্তমিত, (উদাহরণ দিয়েছি) কম কথা নয়। 


পত্রী শ্রীমতী আনন্দময়ী দাশগুপ্তা এবং অবশ্যই মাতা সবসময়েই পাশে আছেন 
এই বিশাল কর্মকান্ডে। তবে এটা স্বীকার করতেই হয় যে বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকৃতার্থে 
সুপন্ডিত ডঃ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয়ভাবে আমাকে সাহায্য (এবং সর্বপ্রকারে) ও 
সহয়তা না করলে কোনও কিছুই কখনও প্রকাশিত হত না। এই পুস্তকটি দিয়ে শুরু 
এবং উপরোল্লিখিত প্রকাশিতব্য বিশাল Corpus প্রকাশ হবেও «Tt, দ্বিতীয় সংস্করণটি 
আমি তাকেই উৎসর্গ করলাম শ্রদ্ধাভরে | 


কোজাগরী লক্ষ্মীপুজা, ১৪১০ — দেবপ্রিয় দাশগুপ্ত 


প্রথম অধ্যায় 


পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন ও সভ্যতার আবির্ভাব 


বাংলার ভূপ্রকৃতির আপন বৈশিষ্ট্যে সর্বদাই বিজ্ঞানীদের স্বতঃস্ফূর্ত কৌতৃহলের 
বিষয়বস্ত। স্মরণাতীত কাল থেকে এই দেশের ভৌগোলিক তথা ভূতত্তবীয় রূপ এশিয়ার 
ইতিবৃত্তে রচনা করেছে তার নিজস্ব দিগস্ত। নবীন ও প্রাচীন পাললিক সমাবেশ, TPCT, 
বালুকাপ্রস্তর ও আগ্নেয় শিলার উপস্থিতি অথবা প্রসারণ এবং অপরাপর পাষাণ পিণ্ড 
কিংবা স্তরের সাহচর্য সমগ্র ভূচিত্রকে তাৎপর্যময় করে তুলেছে। এক কথায় সমগ্র 
বাংলার ভূপ্রকৃতি ও ভূতত্ব এমন সব অতীত আবহাওয়া ও সংশ্লিষ্ট নিসর্গ বৈচিত্র্যের 
পরম্পরার সাক্ষ্য দেয় যা বিলুপ্ত প্রাণীজীবনসমূহের প্রসঙ্গে একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের 
নদী এবং ক্রোতস্বতীসমূহের গতিপথ যে এক সুপ্রাচীন জনজীবনের উত্তরণকে উদ্বুদ্ধ 
করেছে তাতে সন্দেহ নেই। যেসব জলধারা আজও প্রবহমান তাদের গুরুত্ব যেমন 
প্রশ্নাতীত তেমন যেসব SSAA আজ SAS প্রান্তরে মিশে গেছে কিংবা মরুসদৃশ 
কঙ্করাকীর্ণ উপত্যকায় হারিয়ে গেছে গোত্রহীন গিরিখাতের রূপ নিয়ে তাদের তাৎপর্য 
কখনো বা সঞ্চিত আছে অতীতের নিভৃত গহনে। দৃষ্টি-গ্রাহ্য নিসর্গ পরিবেশের অন্তরালে 
নিহিত আছে বিভিন্ন ইতিহাসের কথা, প্রস্তরযুগের কাহিনী ও হারানো সভ্যতার 
নিদর্শনাবলী। 

আজ যেখানে দিগস্তপ্রসারী পার্বত্য প্রান্তর কিংবা পাথর ও বালুকামিশ্রিত 
অরণ্যাঞ্চল অথবা অনাবৃত ভূমি সেইসব অঞ্চলেই একদা গুরঞ্জরিত হয়েছে বিবর্তনপথে 
পর্যটনশীল মানুষের জীবনকাহিনী। এইসব উত্থান-পতন ও মুক্তাঙ্গন বিশ্রামস্থল অথবা 
অধিবসতি রচনার পশ্চাতে রয়েছে প্রাচীন আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল প্রকৃতি। স্বভাবতই 
পুরাতত্তে “পেলিয়োক্লাইমেটোলজি'র গুরুত্ব যথাযথভাবে স্বীকৃত। এই বিষয়টির সঙ্গে 


প্রাগৈতিহাসিক — ২ 


১৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


বিজড়িত ভূত্তরসংলগ্ন জীব-জীবনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ | “বায়োষ্ট্যাটি গ্রাফি' বিষয়ক এই 
সমীক্ষা, “পলিয়োক্লাইমেটোলজি' সংক্রান্ত গবেষণার সহায়ক! প্রস্তরীভূত অস্থি, দাত 
ইত্যাদির মাধ্যমে অতীত পর্বসমূহে জীবিত প্রাণীকুলের পরিচয়-নির্ণয় দ্বারা অবহিত 
হওয়া যায় সংশ্লিষ্ট আবহাওয়াকে। এইভাবে হাতী, সিংহ, হায়না, ঘোড়া, শুকর, মহিষ 
ও অন্যান্য গবাদি পশু, হরিণ, জিরাফ, Pala, কচ্ছপ ইত্যাদির জীবাশ্ম তথা শিলীভূত 
দেহাবশেষ প্রমাণ করতে সক্ষম জলবায়ুর বিভিন্ন প্রকৃতি ও প্রাসঙ্গিক জীবনবৃত্তের 
কাহিনী। প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণীজীবনের সামঞ্জস্য বিধান ও সম্পর্কেই নিহিত আছে 
আবহাওয়ার ইতিহাস ও পরিবেশতত্ত তথা ইকোলজি'র মূল কাহিনী। 


সভ্যতার বিবর্তন-প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক ও SOSA মূল্যায়ন উল্লিখিত 
ও অপরাপর বিশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল । সম্মিলিত বঙ্গের ভূসংগঠন ও প্রাকৃতিক 
বৈশিষ্ট্য এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশের সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সমুদ্রের তটসংলগ্ন। 
অরণ্য, ভগ্ন উপকূল, দ্বীপমণ্ডলী ও বালুকার আবরণ এই তটরেখাকে বৈচিত্র্য দান 
করেছে। এই বালুকাস্তীর্ণ অথবা আরণ্যক ও ছ্বীপময় বঙ্গোপকুলের ইতিহাস যে আজও 
বহুলাংশে অনাবিষ্তৃত, সন্দেহ নেই। বিভিন্ন তথ্যাদির দ্বারা সহজেই প্রতীয়মান হয় যে 
নিন্ন-গাঙ্গেয় উপত্যকা তথা সমুদ্র তীরবর্তী আরণ্যক কিংবা দ্বীপময় অঞ্চলের ইতিহাস 
এক সুপ্রাচীন কাল পর্যন্ত প্রসারিত। বিপুল পাললিক সমাবেশ কিংবা লবণান্ধু ও আর্রতার 
প্রভাব যে এখানে প্রচ্ছন্ন আছে অথবা বিনষ্টিকৃত হয়েছে এক প্রাচীন ভূপ্রকৃতি সে 
বিষয়ে সন্দেহ CAS | এই অতীত পরিবেশেই লালিত হয়েছে এক বিস্মৃত মানবগোষ্ঠী। 
এখানে GSS ইতিবৃত্তের এক বিস্মৃত সীমান্তে বিকীর্ণ হয়েছে সভ্যতার প্রথম 
আলোকরশ্মি। ব্রমান্বয় পুরাতাত্তিক অনুসন্ধানের ফলে আজ যে চিত্রটি আমাদের সামনে 
উপস্থিত হয়েছে তার দ্বারা বিভিন্ন বিপ্রবাত্মক ধারণা প্রতিষ্ঠিত সত্যের মর্যদা লাভ 
করতে WHI | বিজ্ঞানসম্মত ও পরিকল্পিত অভিযান, উৎখনন ও পর্যবেক্ষণের দ্বারা 
আবিষ্কৃত হয়েছে তাৎপর্যময় তথ্যাদি যা ইতিহাস রচনার অপরিহার্য উপাদান। এই 
দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্ন-গাঙ্গেয় উপত্যকার গুরুত্ব যেমন অসাধারণ তেমন আকর্ষণীয় পশ্চিম 
বাংলার পুরাতন পাললিক সংগঠন ও প্রস্তরাকীর্ণ প্রান্তরভূমি। মেদিনীপুর, বীকুড়া, বর্ধমান, 
বীরভূম এবং পুরুলিয়ার উষর বনাঞ্চল ও পার্বত্য ভূমি যে দূর অতীতে মানবসংস্কৃতির 
লীলাভূমি ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। 


ছোটনাগপুর, মালভূমি সংশ্লিষ্ট উচ্চ ভূখণ্ডের অংশ ও প্রতিবেশী অঞ্চল নিয়ে 
গঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ভূভাগ। এখানে এক দিকে যেমন দেখা যায় 


পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন ও সভ্যতার আবির্ভাব ১৯ 


প্রাগৈতিহাসিক পর্বতমালার জীর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ তেমনি এখানে ছড়িয়ে আছে ক্রমাৰয় 
বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার চিহ্ন মাকড়া তথা ল্যাটেরাইটের সংগঠন | উল্লিখিত মাকড়া কখনও 
প্রাথমিক (প্রাইমারী) এবং কখনও বা দ্বিতীয় পর্যায়ের (সেকেন্ডারী)। নৈসর্গিক বিধি 
অনুসারে FAA থেকে অপসারিত হয়ে অপর স্থানে সঞ্চিত ল্যাটেরাইটই এই দ্বিতীয় 
পর্যায়ের অবস্থিতি। রাজ্যের নদনদীগুলিও স্বভাবতঃই এই ভূখণ্ডের বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক। 
সুবর্ণরেখা, শিলাবতী, কংসাবতী, রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বর, জয়পাণ্ডা, দামোদর, অজয়, 
কুনূর, ব্রাহ্মাণী, ময়ুরাক্ষী ইত্যাদির ESA এক প্রাচীন ভূসংগঠনের উপর ছড়িয়ে 
আছে ছিন্নমাল্যের মত স্থানীয় ভূবৃত্তের ক্রমঃবিলীয়মান ঢালসমূহকে অনুসরণ করে 
সমতলের অভিমুখে | বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই শ্নোতধারাগুলির গতি পশ্চিম থেকে পূর্বে 
এবং অবশেষে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত। রাজ্যের ভূসংগঠন, প্রাকৃতিক বারিচরিত্র 
(হোইড্রোগ্রাফি), আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য, অরণ্যের সমাবেশ ইত্যাদি প্রাগৈতিহাসিক কাল 
থেকেই এদেশের মানবজীবনকে প্রভাবিত করে এসেছে। এছাড়া নি্ন-হিমালয়ের অনুন্নত 
উপত্যকাগুলি এবং তরঙ্গিত বঙ্গোপসাগরও সুপ্রাচীন পর্ব থেকেই বাংলার সভ্যতাকে 
দান করেছে তার নিজস্ব বৈচিত্র। এই সমগ্র ভূভাগের মধ্যে পশ্চিমের শৈলাঞ্চল ও 
প্রাচীন পাললিক ভূমি সংগঠনের গুরুত্বই বারংবার অনুভূত ZA | উত্তরে হিমালয়ের 
উপস্থিতিও বাংলার পুরা ইতিহাসকে আরও বৈশিষ্ট্যময় করে তুলেছে। 


ভৌগোলিক তথা GOS দৃষ্টি-ভঙ্গিতে পশ্চিম বাংলার পাহাড় এবং কঙ্করময় 
প্রান্তর ও উপত্যকাগুলির নিজস্ব রূপের পশ্চাতে আছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস যার 
আখ্যানমালা ছড়িয়ে আছে নানা নিদর্শনের মাধ্যমে স্থানীয় পরিমণ্ডলে এবং সন্নিহিত 
অঞ্চলগুলির গভীরে। প্রায় ৮৬০ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৮৮ পূর্ব-দ্রাঘিমা পর্যন্ত প্রসারিত 
অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ এই ভূবৈচিত্র। এখানে সমতল বাংলার চিত্র পরিবর্তিত এবং 
প্রকাশিত এক প্রাচীন পরিমণ্ডলের ভাবমূর্তি। এর প্রতিষ্ঠার কাল ব্যাপ্ত এক সুদূর অতীতে 
স্থানবিশেষে আরকেয়ান অথবা আদি গোণ্ডোয়ানা (পারমিয়ান) পর্বে এবং এর দিগন্ত 
তার নিজস্ব বর্ণপ্রভায় উজ্জ্বল টারসিয়ারি ও কোয়াটের্নারি যুগের নিকটতর অধ্যায়সমূহে। 
কোয়াটের্নারি যুগের অন্তর্গত প্লাইস্টোসীন পর্বেই দেখা যায় মানুষের চিত্তাকর্ষক বিবর্তন 
এবং সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ। অবশ্য সমগ্র জীবজীবনের ইতিবৃত্তে মানুষ তথা “হোমিনিডে”র 
যখন অভ্যুদয় হয় অনেকটা মর্কটজাতীয় অস্ট্রালোপিথেসীনের। 


পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন স্থানে প্লাইস্টোসীন যুগের ভূসংগঠনের উপস্থিতি যে 
এক বিস্তৃততর গবেষণার বিষয় সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এই সংগঠনের অসাধারণ 


30 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


গুরুত্ব একটি দৃষ্টান্তের দ্বারাই উপলব্ধি করা যাবে। বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত শুশুনিয়া 
পাহাড়ের চারপাশে প্রসারিত এইরকম এক প্রস্তরাকীর্ণ সমাবেশেই আবিষ্কৃত হয়েছে 
আদি প্রত্বাম্মীয় কালের (লোয়ার পেলিওলিথিক) অসংখ্য হাতিয়ার এবং কোয়াের্নারির 
প্রাচীন অধ্যায়ে বিচরণশীল প্রাণীকুলের প্রস্তরীভূত PEA | কতকটা তুলনীয় পরিস্থিতিকে 
দেখা গেছে মেদিনীপুর জেলার সুবর্ণরেখার দক্ষিণে প্রসারিত প্রস্তরাকীর্ণ ভূখণ্ডে । 
প্রকৃতপক্ষে, প্লাইস্টোসীন কালের একটি বিশিষ্ট সমাবেশ ও স্তর ছড়িয়ে আছে মেদিনীপুর, 
পুরুলিয়া, বীকুড়া, বর্ধমান ও বীরভূম জেলায়। চব্বিশ-পরগণার একটি স্থানের ভূগর্ভে ও 
প্লাইস্টোসীন যুগের কোন এক তুলনীয় স্তরের উপস্থিতি অনুমান করা যায় আবিষ্কৃত 
নানা নিদর্শনাবলীর ভিত্তিতে। আবিষ্কৃত এই দৃষ্টাত্তগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চার্ট, Bo 
ও চ্যাল্সেডোনি জাতীয় বিভিন্ন প্রস্তরপিণ্ড এবং শেষ প্রত্বাশ্মীয় (আপার পেলিওলিথিক) 
কালের অসংখ্য স্বল্পায়তন হাতিয়ার। আপাতদৃষ্টিতে চব্বিশ-পরগণার সংগঠন নবীন 
অনুভূত হলেও এই জেলার বিভিন্ন স্থানে আদি-এতিহাসিক ও প্রাগৈতিহাসিক কালের 
বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। POG বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা, মানচিত্রসমূহের সুক্ষ্ম 
বিচার এবং প্রত্বতত্তবীয় অভিযান ও আবিষ্টিয়ার দ্বারাই এই জেলায় অতিবাহিত ইতিহাসপূর্ব 
কালের চিত্রটি স্পষ্টতর হতে NTA | চব্বিশ-পরগণা ও মেদিনীপুর জেলাদ্ধয়ের তথা 
সমগ্র অবিভক্ত বঙ্গের তটরেখার ভূপ্রকৃতি নির্ণয়ে Gos ‘ইউস্ট্যাসি’ সম্পর্কিত 
ঘটনাবলীর গুরুত্ব অনুভব করা যায়। এই ঘটনাক্ৰম প্রাচীন সমুদ্র-তটসমূহের অবস্থান 
নির্ণয় প্রসঙ্গে সবিশেষ তাৎপর্যময়। 


বিজ্ঞানীরা প্রমাণিত করেছেন, বিগত প্রায় দশ হাজার বছর থেকে দশ লক্ষ 
(মতান্তরে ছয় লক্ষ) বছর পর্যন্ত প্রসারিত প্লাইস্টোসীন মহাপর্বে উত্তর গোলার্ধে চারবার 
হিমপ্রবাহ সম্প্রসারিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধেও সক্রিয় হয় অনুরূপ শৈত। এর ফলে 
সমুদ্রজলের সামগ্রিক পরিমাণ লঘুতর হয় এবং তটরেখাগুলি উন্নীত হয় যথাযথভাবে। 
বারবার বহু সহস্র বৎসর ব্যাপী যুগসমূহে সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অবনমন ও উত্থান ভূবিজ্ঞানের 
এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু | 


ইয়োরোপ মহাদেশে যে চারটি তুষারযুগের পরিচয় পাওয়া যায় মোটামুটিভাবে 
তা সমগ্র পৃথিবীর নিসর্গচিত্রকে প্রভাবিত করে। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের দ্বারা প্রমাণিত 
হয়েছে, গুন্জ্‌, মিণ্ডেল, রিস্‌ ও ভ্যর্ম এই পর্বতসমূহে পৃথিবীর উত্তরাংশ বরফাবৃত 
হবার ফলে এবং অন্তর্বতী উষ্ণ অধ্যায়গুলিতে সঞ্চিত তুষার রাশি দ্রবীভূত হবার জন্য 
সমুদ্রপৃষ্ঠ অবনমিত ও উত্থিত হয় যথাক্রমে প্রায় ১৫০ মিটার এবং ২০০ মিটার 


পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন ও সভ্যতার আবির্ভাব ২১ 


পৰ্যন্ত | এই “গ্লেসীয়ো-ইউস্ট্যাটিক' প্রভাবের ফল বঙ্গোপসাগরের তটরেখায় কতখানি 
পরিব্যাপ্ত হয়েছিল তা অবশ্যই নির্ণয়যোগ্য। নিম্ন-গাঙ্গেয় উপত্যকা, বিশেষতঃ সুন্দরবনের 
ভূগর্ভে নিহিত অতীতের সংগঠনগুলির প্রকৃত মূল্যায়নের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন 
প্রাসঙ্গিক পুরাতাত্তিক সিদ্ধান্ত | গাঙ্গেয় “ব দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ 
স্থান ফারাক্কা ও তার সন্নিহিত অঞ্চল। রাজমহল শৈলমালার সমীপে প্রসারিত 
প্রান্তরভূমির ইতিহাস যে সুপ্রাচীন তা সন্দেহাতীত। মুর্শিদাবাদ জেলার সীমাস্তভূমিতে 
অবস্থিত ফারাক্কার পুরাতাত্তিক সম্পদ তাৎপর্যময়। রাজমহলের সমুন্নত পাহাড় এবং 
সদাপ্রবাহিত গঙ্গার মধ্যবর্তী অঞ্চল স্বভাবতঃই এক ব্যাপক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের 
উপযোগী | এখানে উল্লেখ্য ময়ুরাক্ষী, দ্বারকা, ব্রাহ্মণী, বাসলোই ও গুমানীর উৎসস্থল 
রাজ্যের সীমাস্তপারে প্রসারিত রাজমহল পর্বতমালার পরিমণ্ডলে | 


আগ্নেয় শিলায় গঠিত রাজমহল পর্বতমালা সুপ্রাটানকাল থেকেই বাংলার 
ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। ইয়োরোপের সুপরিচিত আল্পস্, পিরেনিজ ও শেভিয়ট 
পর্বতমালার মত রাজমহল গিরিশ্রেণীর ভূমিকাও তাৎপর্যময় অবিভক্ত বাংলার পূর্ব- 
সীমান্তের শৈলাঞ্চলও বৈশিষ্ট্য পূর্ণ | পার্বত্য চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা এবং গারো পাহাড় ও তার 
সন্নিহিত সুবিস্তৃত মধুপুর অরণ্যের SOS ইতিবৃত্তও AGIS? রচনা করেছে এক 
সুপ্রাচীন যুগের পটভূমিকা। টারসিয়ারি পর্বের বালুকাপ্রস্তর (স্যান্ডস্টোন) এবং কর্দমপ্রস্তর 
(শেল) গঠিত চট্টগ্রাম এবং ত্রিপুরার পাহাড়গুলি সৃষ্টি করেছে প্রাগৈতিহাসিক 
মানবজীবনের অনুকূল একটি নিজস্ব পরিবেশ । চট্টগ্রামে এবং সীমান্তপারে অসম রাজ্যে 
অবস্থিত কাছার জেলায় আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শনাদি। এইসব 
আবিক্ক্রিয়ার পারস্পরিক গুরুত্ব যথাস্থানে আলোচিত XA | 


কাছার জেলায় অবস্থিত দেওজালি হাদিং-এ প্রাপ্ত নবাশ্মীয় দৃষ্টান্তসমূহের অনন্য 
তাৎপর্য পার্বত্য ত্রিপুরার প্রাগৈতিহাসিক দিশত্তকে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। তুলনীয় 
কারণে মধুপুর অরণ্য ও তার সন্নিহিত ভূমির গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। অসমের 
অন্তর্গত গারো পাহাড়ের পরিমণ্ডলে থেব্রংগিরিতে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রস্তরযুগের বিভিন্ন 
নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে, সমগ্র বাংলার বিভিন্ন স্থানে সুপ্রাচীন কালের SWAG নানা সমাবেশ 
দেখা যায়। সমগ্র দেশের উত্তরাঞ্চলে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রসারিত বারিন্দের লাল মাটি 
পুরাতন পাললিক সমাবেশেরই পরিচায়ক। বারিন্দ ও মধুপুরের বন দুইয়েরই প্রাচীন 
পাললিক ভূমি আবহাওয়ার সংস্পর্শ জনিত কারণে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। পশ্চিমাঞ্চলে 
যে পরিস্থিতিতে মাকড়া তথা ল্যাটেরাইটের সৃজন এখানে সেই একই নিয়মে মাটির রং 
লাল। বিভিন্ন প্রকারের এইসব FORA প্রেক্ষাপটেই বিচার্য প্রাচীন সভ্যতার DANA | 


২২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


সমগ্র গাঙ্গেয় T দ্বীপের গুরুত্ব আরও বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষার বিষয়বস্তু৷ সুবিস্তৃত নদীগুলি 
কীর্তিনাশা হলেও স্থানে স্থানে আবিষ্কৃত হতে পারে সুপ্রাচীন নানা অধিবসতির চিহ্নরাশি। 


পশ্চিম বাংলার নিসর্গ-চিত্রকে এক অসাধারণ সৌন্দর্য ও গৌরব দান করেছে 
হিমালয়ের বিপুল পর্বতশ্রেণী। তরাইয়ের গভীর অরণ্য, বর্ষায় উচু থেকে নেমে আসা 
উদ্দাম জলপ্রবাহশ্রেণী, নিন্ন-হিমালয়ের শিবালিক গোত্রীয় নবীন পর্বতশ্রেণী এবং 
দুরতিক্রম্য শৃঙ্গগুলি সব মিলে সৃষ্টি করেছে এক অসাধারণ পরিবেশ। “সাব-মন্টেন' 
গিরিশ্রেণী অথবা সাব-হিমালয়ান fers অবয়বের বহিরাংশে ও উত্তরে মূলতঃ পরিচয় 
পাওয়া যায় কোমল ও অপেক্ষাকৃত দৃঢ় বালুকাপ্রস্তর (স্যান্ডস্টোন) এবং “কোয়ার্টজাইট” 
‘শেল’ ও কয়লার। এর উর্ধে হিমালয়ের সংগঠনে আছে GAD, ফিলাইট এবং “ডালিং 
সিরিজ'-এর কোয়ার্টজাইট প্রস্তর | আরও উঁচুতে পর্যবেক্ষিত হয় সুকঠিন “নাইসীয়' 
(gneissic) পাষাণপুঞ্জ এবং VATA স্তর (মাইকা শিস্ট) ভূতাত্তিকদের অনুমান, 
হিমালয়ের গভীরে তামা, লোহা, গ্র্যাফাইট ও কয়লার বিপুল খনিজ অবস্থিতি আবিষ্কৃত 
হতে পারে। 


এখানে উল্লেখ্য যে পার্বত্য দার্জিলিং-এ ইতিপূর্বে লক্ষ্য করা গেছে বিগত যুগে 
ব্যবহৃত তাত্রখনির অবস্থিতি। উত্তঙ্গ পর্বতপৃষ্ঠে আকরিক তান্রের উপস্থিতি একদা 
মানব-সভ্যতার উত্তরণে সহায়ক ছিল সন্দেহ নেই। হিমালয়ের সানুদেশে বিস্তৃত আদিম 
অরণ্য এখনও স্থানে স্থানে নিজের প্রাচীন বৈশিষ্ট্যকে বজায় রেখেছে। এই বনের নিবিড়তা 
ও ছায়াচ্ছন্ন অন্তর্লোক সৃষ্টি বরবে পুরাতাত্তিকের কৌতৃহল। পাহাড়ের সমীপে কিংবা 
অনেক উর্ধে জনহীন চত্বরে কিংবা চুড়ায় জটা-জটিল মহীরুহ ও নানা তরুলতার গহনে 
আবিষ্কৃত হয়েছে অতীতের বিভিন্ন রহস্যময় সৌধ ও কীর্তি। হিমালয়ের সান্নিধ্য 
জলপাইগুড়ি জেলা ও কোচবিহারকে এমন এক বৈশিষ্ট্য দান করেছে যার গুরুত্ব 
অসাধারণ। এই সামীপ্য অনুভূত হবে আরও দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাসেও | হিমালয়ের 
উপত্যকাসমূহ থেকে আগত মহানন্দা, করতোয়া, তিস্তা, জলঢাকা, তোরসা, কালজনী, 
গদাধর, চিনচু, সঙ্কোশ ইত্যাদি নদী ও স্রোতস্বতীগুলি বহু শতাব্দী ধরে সংযুক্ত করেছে 
সমতল বাংলাকে উত্তরের বিপুল পর্বতমালার সঙ্গে । এগুলির মধ্যে তিস্তার পথটিই 
ছিল তিব্বতের তুষারাবৃত মালভূমির সঙ্গে প্রধান সংযোগরক্ষাকারী। ক্রমানবয় পর্বগুলিতে 
এই স্নোতপথসমূহই আহ্বান করেছে যোদ্ধা, অভিযাত্রী, সার্থবাহ ও তীর্থকামীদের। বাংলার 
ভৌগোলিক সত্তা ও GOS ইতিবৃত্ত প্রায়শই পরিচয় বহন করে দূর অতীতের | ভিন্ন 
ভিন্ন ভাবে সুপ্রাচীন আরকেয়ান পর্ব থেকে শুরু করে প্লাইস্টোসীন যুগ পর্যস্ত প্রসারিত 


পশ্চিমবঙ্গের ভূসংগঠন ও সভ্যতার আবির্ভাব ২৩ 


এদেশের পার্বত্যভূমি এবং অসমতল ও প্রস্তরাকীর্ণ উপত্যকার SAA গাঙ্গেয়‘ব’ 
দ্বীপ যা আপাতদৃষ্টিতে নবীন তারও ইতিহাস রহস্যময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেখানেও রয়েছে 
SNA স্পর্শ। 


একদা বহু হাজার বছর আগে পশ্চিম বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে এখনকার নানা 
উষর উপত্যকায় অতীতের বিভিন্ন ক্ষয় প্রাপ্ত পাহাড় ও টিলার চারপাশে এক বিলুপ্ত 
অরণ্য ও প্রাণীকুলের মাঝখানে যে মানুষের প্রথম সংস্কৃতি বিকাশ লাভ করেছিল সে 
বিষয়ে তথ্য-প্রমাণাদির অভাব নেই | PATA আবিষ্কারের পথ ধরে বিজ্ঞানীর প্রচেষ্টা 
প্রাগৈতিহাসিক বাংলার চিত্রটিকে নিঃসন্দেহে পূর্ণ তর PACA | 


দ্বিতীয় অধ্যায় 
মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত 


মানুষের বিবর্তন পথে যা সমাত্তরালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তা হল তার 
সাংস্কৃতিক উত্তরণ। এই অগ্রগতির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে, এক দীর্ঘ আদিম পর্বের 
অবসানে, পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই পরিচয় পাওয়া যায় এক তুলনীয় মানসিকতার যদিও 
এখনও প্রধান লক্ষ্য খাদ্যসংগ্রহ তবুও মানুষের জীবনে উন্মেষিত হয়েছে তার ভবিষ্যত 
প্রতিভার প্রথম পুষ্পগুচ্ছ। প্রত্বাশ্মীয় দিগন্তেই প্রথম দেখা যায় মানুষের সৌন্দর্যবোধ, 
সমষ্টি-চেতনা এবং কারিগরি প্রতিভা। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইয়োরোপে সর্বত্রই মানব- 
সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারাবাহিক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় স্ব স্ব পরিবেশে এক-একটি 
তাৎপর্যময় নিসর্গ বৈচিত্র্ে। প্রাচীন পর্বতমালার পরিবেশে কিংবা অতীতের নদী 
উপত্যকায় ও তটচত্বরে একদা সৃজিত হয়েছে মানুষের প্রথম হাতিয়ার এবং স্থাপিত 
হয়েছে সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর। সামগ্রিক বিচারে এই কাহিনীর মূল দিগন্ত প্লাইস্টোসীন 
কাল এবং এর প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে পূর্বতন প্লায়োসীন পর্বে বহু লক্ষ বছর আগে। 
এই প্রসঙ্গে জীব-জগতে মানুষের অভ্যুদয় এবং তার সাংস্কৃতিক বিবর্তন সম্বন্ধে কিছুটা 
আলোচনার প্রয়োজন 


এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে অতিবাহিত প্লাইস্টোসীন পর্বের 
ইতিহাসকে বিবেচনা করা সম্ভব হবে। পৃথিবীর প্রত্বাশ্মীয় ইতিবৃত্তে এই রাজ্যের কাহিনীও 
প্রকাশিত করে একটি সমাত্তরাল তাৎপর্য। এখানেও যথানিয়মে পর্যবেক্ষিত হবে 
জীবন-সংগ্রামে পরিবেশের গুরুত্ব এবং পাথরে তৈরী হাতিয়ারসমূহের সুপরিচিত আকৃতি 
ও নির্মাণশৈলী। পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রাচীনতম কাল 
থেকে তাকে কেমন করে চেনা যাবে, তার কোন্‌ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য? এখানে বিজ্ঞানীরা 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ২৫ 


নানা যুক্তির অবতারণা করে থাকেন। মনে করা হয়, মানুষের মূল চরিত্র তার মানবিকতা 
ও ধ্যান-ধারণা | মর্কটগোত্রীয় বৃক্ষচারীদের থেকে আলাদা হয়ে তারা কেমন করে প্রথমে 
একাত্ত খাদ্যান্বেবী এবং বিচরণরত হয়ে কালাতিপাত করে এবং দীর্ঘ বিবর্তনের পর 
ক্রমে শিল্প, অস্ত্যেষ্টিরীতি, কৃষি ও পশুপালনে আত্মনিয়োগ করে তা পুরাতত্ত বিজ্ঞানের 
একটি অন্যতম অধ্যায়। 


মানুষের প্রধান পরিচয় তার হৃদয়বেত্তা ও মননশীলতা। কোনো বস্তুকে 
আয়ুধরূপে ব্যবহার করার মধ্যেই এই পরিচয় নিবদ্ধ TA | আচরণে বুদ্ধির প্রতিফলনও 
স্বভাবতঃই মানবতার একমাত্র অভিব্যক্তি হতে পারে না। অবশ্য মানুষ তার আদিমতম 
পর্যায়ে তার ভাবী মননশীলতার প্রাথমিক ও অস্পষ্ট গুণাবলীরই অধিকারী fier নৃ- 
বিজ্ঞানীর কাছে বিবর্তনশীল মানুষের একটি সামগ্রিক নাম “হোমিনিড" | এই নবীন 
জীবজীবনের প্রেক্ষাপট রচনা করেছে এক সুদীর্ঘ বিবর্তনকাহিনী যার এক পরিচয়যোগ্য 
সুত্রপাতকে চেনা যায় দেড় কোটি থেকে আড়াই কোটি বছর আগে জীবিত এক শ্রেণীর 
বনচারীর দেহসংগঠনে। এই বানরগোষ্ঠী যথানিয়মে গাছে উঠতে পারলেও মাটিতেও 
জীবননির্বাহ করতে পটু ছিল। এদের প্রস্তরীভূত কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে এশিয়া, 
ইয়োরোপ এবং আফ্রিকায় | আফ্রিকার “সাভান্না" প্রান্তর ও অরণ্য যে একদা তাদের 
অনুকূল বাসভূমি ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভিক্টোরিয়া হৃদে অবস্থিত রুসিঙ্গা 
দ্বীপের প্রাগৈতিহাসিক ভূসংগঠনে এবং বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির ঢালসমূহে পর্যবেক্ষিত 
তুলনীয় সমাবেশে আবিষ্কৃত হয়েছে মায়োসীন পর্বের বিভিন্ন ফল, বীজ এবং পতঙ্গের 
অমূল্য জীবাশ্ম | 


এখানে উল্লেখ করা সঙ্গত যে মায়োসীন ও তৎপরবর্তী প্লায়োসীন যুগকে 
একত্রীভূতভাবে কায়নোজোইক যুগের অস্তর্গত শেষ টারসিয়ারি (আপার টারসিয়ারি) 
যুগ রূপেও বর্ণিত করা VA | সাধারণতঃ অনুমান করা হয়, এই সম্মিলিত অধ্যায় বিগত 
প্রায় দশ লক্ষ বছর থেকে সাড়ে ছয় কোটি বছর পর্যন্ত প্রসারিত। প্রকৃতপক্ষে, লেমুর ও 
অন্যান্য আদিম মর্কটগোষ্ঠীর দৈহিক ক্ষমতাকে অনেকাংশে অতিক্রম করে গেছে 
ড্রায়োপিথেকাস-এর উৎকর্ষ | এখনও উন্নত হয় নি এদের বাহুর ব্যবহার, তবু দেখা 
দেয় ভবিষ্যত মানবজীবনের ক্ষীণতম রশ্মিরেখা। মনে করা হয়, এরা এক রহস্যময় 
IET | 


আজ থেকে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লক্ষ বছর আগে অভ্যুত্থান হল আরও 
বিবর্তিত রূপ, রামাপিথেকাস। আকৃতিগতভাবে এরা মানুষের নিকটবর্তী এবং মনে 


২৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


করা যেতে পারে “হোমিনিড' গোষ্ঠীর দূরতম প্রারভ্তসূচক। রামাপিথেকাসের মুখ এবং 
দাতের প্রস্তরীভূত ভগ্ন নিদর্শনাদি আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতে ও পূর্ব আফ্রিকায় | এদের 
অপর কোন কঙ্কাল, যা সমগ্র অবয়ব সম্বন্ধে ধারণা এনে দিতে পারে, আজ পর্যন্ত 
আবিষ্কৃত হয় নি। তবে এদৈর দাতের গঠন এবং বিন্যাসে যে বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা 
মূলতঃ মানবগোষ্ঠীর তুলনীয় রূপকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে একটি রহস্য স্বভাবতঃই 
বিজ্ঞানীদের আকর্ষণ করে, পরিচয়যোগ্য মানুষ তথা হোমিনিডের অভ্যুদয়-পর্ব সূচীত 
হয়েছে সম্মিলিত মায়োসীন-প্লায়োসীন পর্বের শেষ অধ্যায়ে | 


বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে প্রাগেতিহাসিক মানুষ ও বানর তাদের মূল 
কাণ্ড থেকে দুইটি শাখায় বিচ্ছিন্ন হয় এক সুদূর অতীতে। চিকিৎসা-বিজ্ঞানের অন্তর্গত 
রোগসম্বন্ধশূন্যতা অথবা প্রতিরোধ সংক্রান্ত তথ্যাদির (ইম্যিউনোলজিকাল ডেটা’) 
উপর নির্ভর করে এই যুগসন্ধিক্ষণকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে প্রায় তিন কোটি বছর পূর্বে 
আফ্রিকায় আবিষ্কৃত তথ্যাদি এই সমস্যাকে সবিশেষ গুরুত্ব দান করেছে। বিশ্ববিখ্যাত 
বিজ্ঞানী লিকি রুসিঙ্গা দ্বীপ এবং সোংঘোর-এর নিন্ন-প্লায়োসীন ভূবৃত্তে আবিষ্কার করেছেন 
শিবালিকে আবিষ্কৃত “রামাপিথেকাস বিকেরি*র সমগোত্রীয় “কেনিয়াপিথেকাস 
আফ্রিকানাস'-এর জীবাশ্ম। এর দ্বারা প্রমাণিত হবে, আজ থেকে প্রায় দু কোটি বছর 
আগে হোমিনিডের উপস্থিতি। এতৎসত্তেও প্রত্বুতত্ববিদ্‌ ডেসমণ্ ক্লার্ক অনুমান করেন, 
আদিমতম ‘মানব’ (হোমিনিড) এবং বানরের (পোংগিড') মধ্যে প্রথম প্রভেদ রচিত 
হয় প্লায়োসীন কালে এবং কোনো মতেই এক কোটি বছরের পূর্বে নয়। ব্রোমোসোম, 
সিরামের অন্তর্গত প্রোটিন, রক্তের লোহিত কণিকা এবং মানুষ ও বানরের আপেক্ষিক 
রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা সম্বন্ধীয় আলোচনার উপর ভিত্তি করে ডেসমণ্ড ক্লার্ক এই 
মত প্রকাশ করেছেন। একটি ধারণা এখন প্রতিষ্ঠিত হলে চলেছে যে, রামাপিথেকাস- 
এর জীবনধারা অনেকটা এখনকার গোরিলা ও শিম্পাঞ্জীর মতো ছিল। তাকেও হাটতে 
হত হাতের গাঁটের উপর ভর দিয়ে। গোরিলা ও শিম্পাঞ্জীর ন্যায় তারাও থাকত বৃক্ষ- 
লতায় আচ্ছন বিস্তীর্ণ PACS | অনুমান করা হয়, এই প্রাচীন অরণ্য একদা প্রসারিত ছিল 
আফ্রিকা থেকে উত্তর ভারত পর্যস্ত। মোটামুটিভাবে রামাপিথেকাস এবং 
কেনিয়াপিথেকাসের পরিবেশ সম্ভবতঃ ছিল একই ধরনের 1 সে যুগে,অর্থাৎটারসিয়ারি 
পর্বের শেষার্ষে অনুকূল স্থলভাগ দিয়ে আফ্রিকা ইয়োরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্তন্যপায়ী 
ও মেরুদন্তী প্রাণীকুল ছড়িয়ে গেছে এমন প্রমাণ পাওয়া A | 


এক তুলনীয় জীব-জগতের পরিচয় পাওয়া যায় পশ্চিম বাংলায় শুশুনিয়া 
পাহাড়ের চারপাশে বহুদূর পর্যস্ত প্রসারিত শিলাকীর্ণ ভূখণ্ডে। শুশুনিয়ায় আবিষ্কৃত 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ২৭ 


জীবাশ্মগুলির দিগন্ত অবশ্য আরও অনেক পরে, প্লাইস্টোসীন পর্বের শেষার্ধের কোনো 
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে যখন এতদঞ্চলের আর্দ্র পরিবেশ, দূর-ব্যাপ্ত তৃণভূমি ও অরণ্য হস্তী, 
বন্য ঘোড়া, হরিণ, সিংহ, জিরাফ ইত্যাদি পশুকুলের জীবনধারণের পক্ষে সহায়ক ছিল। 
পূর্ব আফ্রিকায় ভিক্টোরিয়া aora পূর্বে অবস্থিত ফোর্ট টের্নানে প্রাপ্ত তথ্যাদির উপর 
নির্ভর করে জানা যায় কেনিয়াপিথেকাস (ভারতের রামাপিথেকাস বিকেরির গোত্রীয়) 
মাংসভোজী ছিল এবং তারা হয়ত একটি সাধারণ প্রস্তরখগুকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার 
করার পক্ষপাতী ছিল। ফোর্ট টের্নানে একটি দীর্ঘ অস্থি এবং একটি ভগ্ন আগ্নেয় শিলা 
(লাভা)-কে এক সঙ্গে দেখা গেছে। হাড়ের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল FAIS | মনে 
হয় TRITT] কেনিয়াপিথেকাস গ্রহণ করেছে অস্থির মজ্জাকে। অবশ্য এক্ষেত্রে কোনো 
বস্তুকে হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করলেই প্রমাণিত হবে না হোমিনিডের মৌল চরিত্র | 
এই হাতিয়ারে থাকা প্রয়োজন মননশীলতার HS, একটি সুনির্দিষ্ট নির্মাণ পদ্ধতি। বিশিষ্ট 
নৃ-বিজ্ঞানী ব্যর্নেস জেন ভ্যান MUST গুডাল এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণকার্য 
পরিচালনা BCAA | তানজানিয়ায় প্রবাহিত গোম্বে নদীর অরণ্যময় উপত্যকায় তিনি 
এবং তার সহযোগী বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন শিম্পাপ্জীদের আচরণ, তারা কেমন করে 
ব্যবহার করে পাথর, লতা, গাছের ডাল ও স্পঞ্জ | এই সব পর্যবেক্ষণের দ্বারা মায়োসীন 
এবং প্লায়োসীন পর্বে জীবিত ড্রায়োপিথেকাস ও রামাপিথেকাস কিংবা তুলনীয় আদিমানব 
অথবা বিতর্কিত নর-বানরদের সম্বন্ধে একটি চিত্র রচনা করা NET | 


এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ইটালীর অন্তর্গত টাসকানি অঞ্চলের লিগনাইট ও 
বালুকা স্তরে আবিষ্কৃত হয়েছে এক শ্রেণীর বানরের প্রস্তরীভূত PFA | এই বানরকে 
বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ওরিওপিথেকাস। যে ভূত্তরে জীবাশ্মসমূহকে দেখা গেছে 
তাকে 'পন্টিয়ান” অধ্যায়ে প্রায় এক কোটি বছর আগে নির্দেশ করা হয়ে থাকে ।স্কভাবতঃই 
এই যুগটি মায়োসীন এবং প্লায়োসীনের সীমান্তে নির্দিষ্ট। ওরিওপিথেকাস বানর হলেও 
তার মুখাবয়বে হোমিনিডের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নৃ-বিজ্ঞানী আযালান হাউটন ব্রোড্রিকের 
ধারণায় একদল বৃক্ষচারী ওরিওপিথেকাস হয়ত হোমিনিডের সঙ্গে কোনো সমান্তরাল 
বিবর্তন পথের সাক্ষ্য দেয়। তাদের দীর্ঘ IAA কোনোক্রমেই মানুষের পিতৃপুরুষের 
(SCRA) পরিচায়ক নয়। 


বর্তমান ক্ষেত্রে আর-একটি নর-বানরের (কিংবা বানরের) প্রসঙ্গ উত্থাপিত 
হতে ATA | তার নাম দেওয়া হয়েছে জাইগান্টোপিথেকাস। এদের প্রস্তরীভূত দাত, 
চোয়াল ইত্যাদি সংগৃহীত হয়েছে দক্ষিণ চীনে অবস্থিত কোয়াংসি প্রদেশের গিরিগুহায় ও 
ANOTA | এদের দাতের বেড় ও আয়তন বৃহদাকৃতি হোমোসেপিয়েনস্‌ তথা ছয় ফুট 


২৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


উঁচু আধুনিক মানুষের দাতের চেয়েও আড়াই গুণ FG | জাইগানথোপাসের উচ্চতা 
তুলনীয় যুক্তিতে হয়ত পনের ফুট ছিল না, কিন্তু তার মাথা যে অন্তত খুব বড় ছিল এ 
বিষয়ে পণ্ডিতদের মতদ্বৈততা নেই। কোনিগস্ভলড্-এর মতবাদ বিশ্বাস করলে এরা 
ছিল একশ্রেণীর দৈত্যাকৃতি বানর। অপরপক্ষে, ওয়াইডেনরাইখ-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে 
এরা ছিল বিপুল দেহ আদি-মানব (হোমিনিড)। এই বিবেচনায় জাইগান্টোপিথেকাসের 
স্বতন্ত্র নামকরণ হল জাইগান্ধোপাস। কোয়াংসি প্রদেশে অবস্থিত লেংঘাই পাহাড়ের 
সমুন্নত NAA এক গুহাতে আবিষ্কৃত হয়েছে এই শ্রেণীর কোনো অতিকায় প্রাণীর 
বারটি দাত সম্বলিত নীচের চোয়াল। এই জীবাশ্ম সম্ভবতঃ কোনো অল্পবয়সী কিংবা 
মধ্যবয়স্কা স্ত্রী জাইগান্টোপিথেকাস অথবা জাইগান্থোপাসের। কল্পনা করা যেতে পারে, 
এই মাংসভোজী প্রাণী দুরারোহ গিরিগাত্রে নিয়মিত বেয়ে উঠেছে পশু-মাংস নিয়ে 
যারও প্রস্তরীভূত হাড় আবিষ্কৃত হয়েছে লেংঘাইয়ের গুহায়। 


এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, জাইগান্টোপিথেকাস আবিষ্কারের চমকপ্রদ 
কাহিনী। ১৯৩৫ সালে হংকং শহরে নৃ-বিজ্ঞানী কোনিগস্ভলড্‌ সর্বপ্রথম ক্রয় করেন 
এমন একটি দাত যা দেখে তার মনে এক শ্রেণীর অতিকায় বানর সম্বন্ধে ধারণার উদয় 
ZA I এর পরেও স্থানীয় কয়েকটি ওষুধের দোকান থেকে এই নিরলস বিজ্ঞানী সংগ্রহ 
করেন আরও বিভিন্ন জীবাশ্ম | এই সংগ্রহের অন্তর্গত ছিল পিথেকানখ্রোপাস শ্রেণীর 
আদি-মানবের এবং জাইগোন্টোপিথেকাসের প্রস্তরীভূত MNS | শেষোক্ত গোষ্ঠীর কষের 
দীতগুলিই (মোলার) ছিল আয়তনগত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী | পর্যবেক্ষণাদির দ্বারা অনুমান 
করা যায়, যবদ্ীপের পিথেকানগ্রোপাসের সঙ্গে তুলনীয় কোয়াংসির পিথেকানথোপাস 
ও অপর দিকে জাইগান্টোপিথেকাস অথবা জাইগান্ধোপাস দুই-ই সমকালীন এবং 
এদের দিগন্ত চার-পাঁচ লক্ষ বছর আগে মধ্যপ্লাইস্টোসীন পর্বে । পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন 
ওরাং-উটানও সহাবস্থান করেছে একই সময়ে | সুতরাং, মনে হয় এখানেও বিবর্তন 
ছিল বিভিন্ন শ্লোতপথে প্রবাহিত। শাখাগুলি কখনো ভিন্নমুখী কখনো সমান্তরাল। আফ্রিকার 
গহন অরণ্য কিংবা তৃণভূমি, ইটালীর পার্বত্য প্রদেশ ও স্পেন, কোয়াংসির পাহাড় 
কিংবা ইন্দোনেশিয়া সর্বত্রই একটি তুলনীয় BSAA | ভারতের শিবালিক সংগঠনে এক 
প্রাচীন প্রেক্ষাপট রচনা করেছে বিভিন্ন রহস্যময় জীবাশ্ম যাদের নামকরণ হয়েছে 
রামাপিথেকাস, ব্রহ্মপিথেকাস, শিবাপিথেকাস, সুগ্রীবপিথেকাস BON | নর ও বানরের 
সীমান্তরেখা এখানে অনির্দিষ্ট অথবা বিতর্কিত। এদের দাতের বৈশিষ্ট্য এবং করোটির 
আকৃতিতে হোমিনিডের লক্ষণ দেখা গেলেও নৃ-বিজ্ঞানী আযালান হাউটন ব্রোড্রিক অনুমান 
করেন যে এই সাদৃশ্যের মূলে হয়ত আছে একই প্রাণীকুল থেকে প্রজাত ভিন্নমুখী 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ২৯ 


শাখাসমূহের অবয়বগত এঁকে প্রত্যাবর্তন (হোমোপ্লাস্টিককন্ভা্জেন্স) যা জীবজীবনের 
ইতিহাসে অজানা নয়। তবে বিজ্ঞানীবৃন্তে ব্রোড্রিকের এই মতটি গ্রহণযোগ্য নাও হতে 
পারে। বর্তমান অধ্যায়ে উল্লেখ করা সঙ্গত ব্রন্মদেশের ইয়োসীন (Eocene) স্তরে 
আবিষ্কৃত এক শ্রেণীর আদিম বানরের প্রস্তরীভূত চোয়াল। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন 
'আযাম্ফিপিথেকাস মোগন্জেন্সিস” (Amphipithecus Mogaungensis) | 


মানুষের বিবর্তন পথের চিত্রটি স্পষ্টতর হয়ে ওঠে আফ্রিকার নিজস্ব পরিবেশে 
প্লায়োসীনের শুষ্ক আবহাওয়া যখন বিদায় নিল নবীন পর্ব প্লাইস্টোসীনের আগমনে। 
প্লাইস্টোসীনেরই আদিপর্বে আফ্রিকা মহাদেশে আবির্ভূত হয় নর-বানরের সুস্পষ্ট রূপ 
অস্্রালোপিথেসীন। ট্রান্দভালে ছড়ানো চুনাপাথরের গুহাসমূহে এবং তান্জানিয়ায় 
প্রবাহিত ওলদুভাই নদীর সুগভীর উপত্যকায় আবিষ্কৃত হয়েছে এই শ্রেণীর নর-বানরের 
CARE | এই সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্ত্রিয়ায় তিনজন বিজ্ঞানীর দান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 
এঁরা হলেন ডঃ (ANG ডার্ট, ডঃ রবার্ট Sa এবং ডঃ লুই লিকি। পরীক্ষার দ্বারা জানা 
যায়, অস্টালোপিথেসীন আধুনিক কালের বানরের সঙ্গে তুলনীয় হলেও তারা দু-পায়ে 
উঁচু হয়ে হাটতে সক্ষম ছিল এবং সৃজন ও ব্যবহার করতে পারত তাদের হাতিয়ার। 
প্রকৃতপক্ষে, এখন প্রারস্তিত হল মানুষের প্রস্তরযুগ তথা হাতিয়ার নির্মাণের পর্ব। দক্ষিণ 
আফ্রিকায় অক্টালোপিথেসীনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে টাউং, মাকাপান, স্টার্কফন্টে 
স্যোয়াটক্রান্স এবং ক্রোমদ্রাই-এ আবিষ্কৃত জীবাশ্মসমূহের দ্বারা | এই স্থানগুলির মধ্যে 
প্রথম তিনটি জায়গায় প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলি অপেক্ষাকৃত খর্বদেহ এবং হালকা আকৃতির 
অস্ট্রালোপিথেসীনদের। এদের নাম দেওয়া হয়েছে অক্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস। 
অপরপক্ষে, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানদ্বয়ে পাওয়া গেছে এদেরই দীর্ঘ ও বলিষ্ঠাকৃতি জ্ঞাতিদের 
প্রস্তরীভূত PST | এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর নামকরণ হয়েছে প্যারানথোপাস (প্রায়-মানব') 
অথবা অক্টালোপিথেকাস রোবাস্টাস। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, আফ্রিকায় সাহারা 
অক্ট্রালোপিথেসীন গোত্রীয়। দেখা গেছে, এই নিদর্শনটি অনেকটা প্যারানধ্রোপাস 
ধরনের | বিজ্ঞানীদের অনুমান, যবদ্বীপে (জাভা) আবিষ্কৃত মেগানথোপাস-এর জীবাশ্ম 
কোন কোন দিক থেকে এই একই শ্রেণীর HBAS | তবে বিবর্তন পথে মেগানথোপাস 
হয়ত আরও কিছুটা অগ্রগতির পরিচায়ক। 


দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলি যেমন চাঞ্চল্যকর তেমন তুলনীয়রূপে 
গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আরও বিস্ময়কর পূর্ব আফ্রিকায় আবিষ্কৃত কঙ্কালশ্রেণী। যে ইতিহাস 


৩০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


আজ পূর্ব আফ্রিকায় স্পষ্টতর হতে চলেছে তার গুরুত্ব অপরিমেয়। | প্রাচীনতম মানুষের 
সঙ্কটপূর্ণ ও রহস্যময় জীবনধারার প্রেক্ষাপটে এর আলোচনা প্রাসঙ্গিক অপরাপর 
বৃত্তাস্তগুলির অপরিহার্য | অতীতের জার্মান ইস্ট আফ্রিকার নিভৃত GAGA এই আবিষ্কারের 
রঙ্গভূমি। একদা জার্মানশাসিত এতদঞ্চলের পরবর্তী নাম হয় টাঙ্গানিকা। বর্তমান কালে 
এই MH তান্জানিয়া নামে পরিচিত। এখানে অবস্থিত সেরেঙ্গেতি প্রান্তর এবং 
ওলদুভাই-এর গভীর উপত্যকার SNES গুরুত্ব আজ সৃষ্টি করেছে নৃ-বিজ্ঞানী ও 
পুরাতাত্বিকদের পরম আগ্রহ। একদা ইতিহাসের দূরদিগস্তে এখানে যে অতিবাহিত 
হয়েছে মানুষের বিবর্তন-কাহিনীর এক পরম লগ্ন সে বিষয়ে তথ্যাদির অভাব নেই। 
প্লাইস্টোসীন পর্বে এই অঞ্চল বারংবার প্রভাবিত হয়েছে আর্দ্র এবং VS আবহাওয়ার 
দ্বারা। অবশ্য একটি আধুনিক মতবাদ অনুসারে এই প্রাইস্টোসীন অধ্যায়ের প্রারস্ত 
আজ থেকে কুড়ি লক্ষ বছর পূর্বে।১ ওলদুভাই উপত্যকা ও সেরেঙ্গেতি প্রান্তরে 
সংগঠনকে বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে আগ্নেয়গিরির অগ্যুৎপাত ও সংশ্লিষ্ট নিসর্গ লীলা। 
ওলদুভাই নদীর সুউচ্চ তটচূড়ার সর্বনি্নে প্রসারিত আছে ভিলাফ্রাঞ্চীয় অনুপর্বের ব্যাসল্ট 
স্তর প্লায়োসীন এবং প্লাইস্টোসীন-এর অনির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণই এই ভিলাফ্রাঞ্তীয় অনুপর্ব। 
ওলদুভাই নদীখাত (TAR) আবিষ্কারের কাহিনীটি বিশেষ চিত্তাকর্ষক। 


১৯১১ সালে জার্মান বিজ্ঞানী, পতঙ্গবিদ (এনটোমোলজিস্ট) কাটুভিংকেল 
(Kattwinkel) সর্বপ্রথম এই তিনশ ফিট গভীর খাত-এর কিনারায় উপস্থিত হন 
প্রজাপতির সন্ধানে এগোতে এগোতে এই বিরাট ঢালে যখন তাঁর পা পিছলে যায় 
তখন কাটভিংকেলের সামনে ভেসে ওঠে একটি আশ্চর্য দৃশ্যপট, প্রাগৈতিহাসিক জীবনের 
লীলাভূমি ওলদুভাই উপত্যকা | এমন একটি বিশালতার সৌন্দর্য কাটুভিংকেলের মনকে 
বিমুগ্ধ করে এবং সেই সঙ্গে বিজ্ঞানীর সাধনা লাভ করে এক নূতন পরিসর | সমুন্নত 
তটপ্রাটীরের গাত্রে তিনি দেখতে পান অতীতের প্রস্তরীভূত কঙ্কালাদি। এগুলির কিছু 
তিনি নিয়ে যান বার্লিনে | ফলে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয় ওলদুভাই (জার্মান উচ্চারণ, 
ওলদোওয়ে) উপত্যকা ও গভীর নদীখাতের (কেনিয়ন) রহস্যের প্রতি। 


এরপর এখানে এক সফল অভিযান পরিচালনা করেন হান্স রেক (Hans 
Reck) কিন্তু এসব উদ্দীপনার অবসান ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে। যুদ্ধের অবসানে 
হান্স রেক নাইরোবির কোরিনডন মিউজিয়ামে কর্মরত ডঃ লুই লিকিকে আগ্রহী করে 
তোলেন ওলদুভাই এর বিস্ময়কর সম্ভাবনার AS | ১৯৫১ সালে রেক ও লিকি যুগ্মভাবে 


১।  আ্যালান হাউটন ব্রোড্রিক £ “ম্যান eje হিজ আ্যানসেস্টরস্”, পৃষ্ঠা ১৩। 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৩১ 


এই নদী খাতে অভিযানে ব্যাপৃত হন। এই সময় থেকে লিকি তার জীবন উৎসর্গ করেন 
ওলদুভাই-এ এবং সংঘটিত হয় নানা চমকপ্রদ আবিষ্কার 1 এই সব আবিষ্কারে তীর 3) 
শ্রীমতী লিকির দানও অসামান্য | 


প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জীবনপ্রসঙ্গে এখানে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উল্লিখিত 
“কেনিয়ন' অথবা নদী খাতের সর্বনিম্ন এবং তার উপরিভাগের স্তর শয্যাদ্বয় (বেডনং 
১ এবং ২)। অতীতের বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে নিঃসৃত পদার্থসমূহকে 
পটাসিয়াম-আগন পরীক্ষার দ্বারা দুইজন সুবিখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ এভারন্ডেন এবং ডঃ 
কার্টিস্‌ প্রথম স্তর শয্যাকে বিগত দশ লক্ষ বছরের THIS! কাল থেকে প্রায় কুড়ি লক্ষ 
বছর পর্যস্ত বিস্তৃত সময়ের অস্তর্গত নানা কালদিগস্তে নির্দেশ করেন। প্রথম স্তর শয্যার 
সংস্তরগুলির প্রাটীনত্‌ নির্দিষ্ট হবার ফলে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের অভ্যুদয় এবং প্রস্তর 
যুগের প্রারস্ত সম্বন্ধে আমাদের ধারণা আরও স্পষ্টতর হয়েছে। ডঃ ফ্রেইশার, ডঃ 
ওয়াকার এবং ডঃ প্রাইস ওলদুভাই-এর একই সংস্তরগুলিতে প্রাপ্ত আগ্নেয়গিরি-নিঃসৃত 
কাচের উপর ইউরেনিয়াম ফিশন ট্র্যাক" পদ্ধতি প্রয়োগ করে কতকটা তুলনীয় প্রাচীনত্বে 
উপনীত হন। ওলদুভাই-এর প্রথম স্তর-শয্যায় (বেড নং ১) আবিষ্কৃত জীবাশ্মগুলি যে 
ধরনের হোমিনিড গোস্রীয়দের পরিচয় দেয় তাদের কিছুটা বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হল £ 


১। জিনজানথ্রোপাস বোইসেই অথবা প্যারনপ্রোপাস বোইসেই। 
এর ভগ্ন করোটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে। এই 
আবিষ্কারের গৌরব শ্রীমতী লিকির। এই খুলিটি আঠারো-উনিশ বছরের কোন তরুণের 
খুলির চূড়াকৃতি গঠন (স্যাজিটাল ব্রেস্ট) গোরিলার মতন হলেও এর লম্বাকৃতি মুখ 
এবং নাকের হাড় দক্ষিণ আফ্রিকার অসক্ট্রালোপিথেসীন থেকে ASH | 


২। হোমো হ্যাবিলিস — ক। 
উপরোক্ত আবিষ্কারের পর ওলদুভাই-এর একই স্তরে এমন কি 
জিনজানধ্রোপাস (প্যারানখ্রোপাস)-এর অবস্থান ATA আরও নীচ থেকে সংগৃহীত 
হয়েছে এই শ্রেণীর হোমিনিড-এর দেহাবশেষ, যথা করোটি ও চোয়ালের অংশ এবং 
হাত, পা ইত্যাদির হাড়। এই প্রস্তরীভূত নিদর্শনগুলি পরীক্ষা করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত 
হওয়া গেছে যে এই হোমিনিডরা প্রকৃতপক্ষে অস্ট্রালোপিথেকাস শ্রেণীর এবং তাদের 
নাম দেওয়া যেতে পারে অস্ট্রালোপিথেকাস হ্যাবিলিস। 


৩২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


৩। হোমো হ্যাবিলিস — «i 

ওলদুভাই-এর দ্বিতীয় স্তরশয্যায় (বেড ২)ও পাওয়া গেছে হোমো 
হ্যাবিলিস-এর জীবাশ্ম। এই হোমো কম হ্যাবিলিস-এর যুগ এবং প্রথম স্তরশয্যার 
হোমো হ্যাবিলিস-এর মধ্যে কালগত দূরত্ব কয়েক লক্ষ বছরের। নৃতত্ববিদ ওকলের 
ধারণায় এই পরবর্তী হোমিনিডরা আরও উন্নত ধরনের এবং এদের চোয়াল মানুষের 
মত, অস্ট্রালোপিথেসীনদের মত TA | এদের তিনি “হোমো ইরেক্টাস্” রূপে অভিহিত 
করবার পক্ষপাতী | উল্লিখিত তথ্যাদির উপর ভিত্তি করে আযালান হাউটন ব্রোডরিক 
অনুমান করেন যে অক্ট্রালোপিথেসীনদের দুইটি শাখা ছিল। একটি আলেম্ট্রাপিথেকাস 
হ্যাবিলিস যারা উন্নত হোমো ইরেক্টাস-এ রূপান্তরিত, অপরটি দক্ষিণ আফ্রিকায় 
কালাহারি মরুভূমির বৃহত্তর পরিমণ্ডলে বিচ্ছিন্ন ও বিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনগ্রসর ।১ 
নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু পূর্ববর্তী যুগের তাদেরই মূল শাখা অক্্রালোপিথেকাস- 
হ্যাবিলিস এর দক্ষতা সীমাবদ্ধ ছিল কেবলমাত্র হাতিয়ার ব্যবহারে | হোমো হ্যাবিলিস 
হয়ত যে কোন বস্তুকেই সুবিধা মত অস্ত্র হিসাবে কাজে লাগিয়েছে। কালাহারির 
অস্টালোপিথেকাসও ছিল কেবলমাত্র হাতিয়ারের ব্যবহারকারী এবং সম্ভবতঃ পরিত্যক্ত 
খাদ্যের অন্বেষক। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের প্রাণীবিজ্ঞানে পরিচিত 'স্ক্যাভেঞ্জার’ আখ্যাও 
কখনও দেওয়া হয়ে ATT | 


একদা আফ্রিকার উত্তর ও দক্ষিণে অক্টরালোপিথেসীনরা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের 
জীবনবৃত্ত স্পর্শ করে ভূমধ্যসাগরের তটরেখাকে। দেখা গেছে উপলখণ্ডকে তারা ব্যবহার 
করেছে হাতিয়ার ACH | প্যালেসটাইনের জোর্ডান উপত্যকায়ও অস্ট্রালোপিথেসীন 
গোত্রীয় কঙ্কালের সঙ্গে আবিষ্কৃত হয়েছে উপলনির্মিত অস্ত্রাদি। নৃতত্তববিদ্দের সিদ্ধান্ত 
অনুসারে ইথিয়োপিয়ার অন্তর্গত কোমো হুদ এলাকায় প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে উপলব্ধি 
করা যায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বছর আগেও এতদগ্চলে অক্টালোপিথেসীনের উপস্থিতি ।২ 
ওলদুভাই-এ আবিষ্কৃত উপলাস্ত্র (পেবলটুল) সমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এখানকার 
প্রথম স্তরশয্যার অন্তর্গত হোমো হ্যাবিলিস তথা অস্ট্রালোপিথেকাস হ্যাবিলিস আয়ুধ 
হ্যাবিলিসদের সময়ে | এই উন্নত হোমো হ্যাবিলিসরাই হয়ত ছিল আরও অগ্রবর্তী 


১। ম্যান আযাণ্ড হিজ আযনসেন্ট্রাস”, পৃষ্ঠা  ১০০। 
২। ই জেফারসন মারফি 2 “হিস্টরী অফ আফ্রিকান সিভিলাইজেশন', পৃঃ ৪-৫ WEF | 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৩৩ 


হোমো ইরেকটাস অথবা পিথেকানপ্রোপয়েডদের পিতৃপুরুষ। আদি-প্রত্াশ্মীয় কালের 
এক বড় অংশকে জুড়ে আছে হোমো ইরেকটাস। উল্লিখিত বিভিন্ন কারণবশতঃ এমন 
অনুমান করা হয় যে, উন্নত হ্যাবিলিসরাই ছিল পৃথিবীর প্রথম প্রকৃত মানুষ | অবশ্য, 
আগামী যুগের আবিষ্কারের উপর নির্ভর করবে এই ধারণার যথার্থতা ও মূল্যায়ন। এই 
প্রসঙ্গে, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় আবিষ্কৃত হোমিনিডদের শ্রেণীকৃত দেহাবশেষ সম্বন্ধে 
একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হল।১ এখানে পরম্পরা তুলনীয় হলেও সময়ের 
ব্যবধানে কোন সাদৃশ্য নেই। 


পূৰ্ব আফ্ৰিকা দক্ষিণ আফ্রিকা 
অক্ট্রালোপিথেকাস অস্ট্রালোপিথেকাস 
(প্রাক-জিনজানথোপাস) প্যারানথোপাস 
প্যারানখ্রোপাস (জিনজানথোপাস) 
হোমো ইরেকটাস হোমো ইরেকটাস 
(হোমো হ্যাবিলিস নং ২) (টেলানথোপাস) 


মানুষের ধারাবাহিক অগ্রগতির যে সব পর্যায় দেখা যায় তাদের মধ্যে একটি 
বিশিষ্ট স্থান নিয়ে আছে প্রত্বাম্মীয় কালের প্রতিনিধি পিথেকানখোপয়েড গোষ্ঠী, যাদের 
অপর নাম দেওয়া হয়েছে হোমো ইরেকটাস। পিথেকানপ্রোপয়েডদের নিদর্শন, বিভিন্ন 
প্রস্তরীভূত করোটি ও কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে এশিয়া, ইয়োরোপ এবং আফ্রিকার নানা 
অঞ্চলে। এই সব সংগ্রহের বিস্তৃত ইতিহাস অসাধারণ রূপে তাৎপর্যময়। বিজ্ঞানীর 
অনুসন্ধিংসা ও প্রেরণা আজ স্পষ্টতর করতে সক্ষম হয়েছে আদিমানবদের প্রসঙ্গে 
আমাদের ধারণাকে | বিগত শতাব্দী থেকে একটি প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত 
হয়ে আসছে, মানুষের ও তার প্রজাতির প্রথম অভ্যুদয় হয়েছে কোন্‌ দেশে? এর সঙ্গে 
একটি সমান্তরাল সম্ভাবনার কথা চিন্তা করা হয়, মানুষের BUI সেই দেশেই আশা করা 
যাবে যেখানে আজও তার নিকটতম জ্ঞাতিদের প্রাধান্য বিদ্যমান। এইভাবে গোরিলা ও 
শিম্পাঞ্জী অধ্যুষিত আফ্রিকার অভ্যন্তর এবং ওরাংউটান-এর বিচরণক্ষেত্র ইন্দো-মালয় 
অঞ্চলকে প্রায়ই একটি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ধরনের প্রত্যাশা 
কতখানি বিজ্ঞানসম্মত তা সন্দেহজনক | যবদ্বীপে (জাভা)-র পটভূঁমিকায় রচিত প্রাসঙ্গিক 


১।  আ্যালান হাউটন ব্রোডরিকি লিখিত “ম্যান ente হিজ আযানসেস্টারস্” TF থেকে 
গৃহীত। 


প্রাগৈতিহাসিক — ৩ 


৩৪ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


আবিষ্কার কাহিনীর পশ্চাতে হয়ত ছিল এই একই প্রত্যাশা যা আফ্রিকায় কর্মরত 
গবেষকদেরও প্রেরণা MAH | অনুসন্ধানের এই ইতিবৃত্ত এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধাত্তসমূহ 
এশিয়ার প্রাচীনতম মানবসংস্কৃতি এবং মানুষের ব্রমবিবর্তনের উপর এক অসাধারণ 
আলোকপাত করেছে নিঃসন্দেহে। যবদ্বীপে আবিষ্কৃত পিথেকানধ্োপাস অথবা 
পিথেকানথোপয়েড এবং মানুষের প্রথম হাতিয়ার পৃথিবীর সামগ্রিক আদি প্রত্বাশ্মীয় 
লগ্নেরই একটি বিশিষ্ট অধ্যায়ের পরিচায়ক | এখানে প্রণিধানযোগ্য, ভৌগোলিক দিক্‌ 
থেকে বাংলা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্তর্গত অথবা সীমাস্তলগ্ন। 


যবদ্বীপে অনুষ্ঠিত আবিষ্কারসমূহের প্রধান নায়ক সুবিখ্যাত ওলন্দাজ বিজ্ঞানী 
অয়খেন দুবোয়া (Eugan Dubois) | বিগত শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি এই দ্বীপে 
আবিষ্কার করেন পিথেকানথোপাস শ্রেণীর আদিমানবের বিভিন্ন প্রস্তরীভূত দেহাবশেষ | 
অবশ্য কয়েকটি তাৎপর্যময় আবিষ্কার ও তথ্য তিনি প্রায় তিরিশ বছর প্রকাশ করেন নি। 
যার ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে জাভার পিথেকানথোপাস মানুষ হোমিনিড না বানর 
গোত্রীয় এই নিয়ে কতকটা প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গবেষণার প্রবাহে অয়খেন 
দুবোয়ার আবিষ্কারগুলি হয়ে ওঠে পুরাতত্তের অমূল্য বিষয়বস্তু | পরবর্তী কালে সুপ্রসিদ্ধ 
নৃ-বিজ্ঞানী কোনিগস্ভাল্ড এবং বান্দুং-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক 
ডঃ পিটার মার্কস্‌ এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। জাভায় প্রাপ্ত প্রাসঙ্গিক 
জীবাশ্মগুলির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নে দেওয়া হল। 


১। ওয়াডিয়াক। 
১৮৮৯ এবং "৯০ সালে অয়খেন ওয়াডিয়াক দুবোয়া এখানে দুটি করোটি 
আবিষ্কার করেন। এগুলির গঠন হোমিনিডদের মত। ওয়াইডেনরাইখ-এর বিবেচনায় 
এই করোটিদ্বয় অনতিদূর অতীতের হোমোসোপিয়েনস ও প্রোটো অস্ট্রালয়েড শ্রেণীর। 


২। কেদুং ব্রেবুস। 
ত্রিনিল-এর নিকটবতী এই জায়গা থেকে পাওয়া গেছে একটি চোয়ালের 
নিন্নাংশ ও একটি দাত। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার দ্বারা জানা যায় যে, এই চোয়ালের নিদর্শনটি 
সম্ভবতঃ পিথেকানথোপাস গোত্রীয় কোন নারীর। কেদুং ব্রেবুস-এ খননের ফলে 
ওরাংউটানের প্রস্তরীভূত হাটুর হাড় ও দীতও (“আপার মোলার’) পাওয়া গিয়েছে। 
ol ত্রিনিল। 


ব্রিনিল-এর কাছেই সোলো নদীর তীরে অবস্থিত একটি গিরিগুহায় 
সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় উপরের সারির একটি কষের দাত। এই দীতটির স্থান ছিল ডান 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৩৫ 


দিকের শেষখানে (‘রাইট আপার লাস্ট মোলার”)। পরে এতদঞ্চলে দুবোয়া আবিষ্কার 
করেন একটি SA করোটির অংশ। দেখা যায়, কালপ্রবাহে করোটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বাদামী 
রং ধারণ করেছে। ধীরে ধীরে প্রমাণিত হয়, এই নিদর্শনগুলির অধিকারী ছিল কোন 
প্রাগৈতিহাসিক পিথেকানখোপাস। দুবোয়া প্রথমে মনে করেছিলেন এটি কোন শিম্পাঞ্জীর। 
এই সময়ে জারমান নৃ-তত্তববিদ হায়েকেল (Haeckel) আদিমানবের একটি বিশিষ্ট ও 
রহস্যময় পর্যায়কে বোঝাবার জন্য পিথেকানথ্রোপাস নামের প্রবর্তন করেন। ইয়েনা 
বিশ্ববিদ্যালয়ের দার্শনিক ও ভাষাত্ত্ববিদ আউগুস্ত শ্লেইশার (August Schleicher) 
অবশ্য এই নামটির GB | ১৮৯৫ সালে দুবোয়া ইয়োরোপে প্রত্যাবর্তন করেন এবং 
লীইডেন-এ আহৃত তৃতীয় আন্তর্জাতিক নৃ-তত্ত কংগ্রেস-এ তার আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণাদির 
বৃত্তান্ত বিশেষজ্ঞদের গোচরে আনেন। তার সংগৃহীত জীবাশ্মসমূহ লিজ, প্যারী, লনডন, 
এডিনবরা, বার্লিন এবং ইয়েনায় প্রদর্শিত হয়। “ত্রিনিল মানব’ নিয়ে বিতর্কের ঝড় 
ওঠে। টি, এইচ, হাক্সলী মত প্রকাশ করেন-_ এটি অতি সুপ্রাচীন কোন মানবের পরিচায়ক। 
অপরপক্ষে, অন্যান্য AIGA ত্রিনিল মানব-এর আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে শিম্পার্জী 
অথবা গিবন-এর আকৃতির সাদৃশ্য দেখতে পান | ব্রিনিল মানবকে মানুষ বলে মানতে 
রাজী হলেন না ভিরচো (Virchow), তাকে শিম্পার্জীর সঙ্গে তুলনা করলেন ওয়েনারট 
(Weinert) এবং মারসেলীন Ya (Marcellin Boule) ধরে নিলেন 
পিথেকানথ্রোপাস আদৌ মানুষ নয়, হয়ত কোন গিবনজাতীয় AA | এই সময়ে দুবোয়ার 
নিজের মনেও সংশয় ছিল। কখন তিনি যেন প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার আবিষ্কৃত 
পিথেকানখ্রোপাস মানুষ | কিন্তু, তীর বিশ্বাস ছিল এই জীবাশ্মের অধিকারী ছিল কোন 
বৃহদায়তন গিবন।১ 


৪। সাংগিরান। 

ত্রিনিল-এর ৪০ মাইল দূরে অবস্থিত সাংগিরান-এর ভূতাত্ত্বিক সংগঠন 
বিশেষ চিত্তাকর্ষক | ধূমায়িত আগ্নেয়গিরি মেরাপির পাশ দিয়ে এবং শীর্ষে মন্দির নিয়ে 
দাড়িয়ে থাকা লাবু পাহাড়ের ধার দিয়ে সাংগিরান যাবার পথ। প্রাগৈতিহাসিক বিভিন্ন 
হৃদ ও সমুদ্রসৈকতের জমানো নিদর্শনরাশি এখানে রূপান্তরিত হয়ে ছড়িয়ে আছে 
চুনাপাথরে গড়া পাহাড়ের রূপ FIT | ১৯৩৬ সালে আমেরিকার কার্নেগী ইন্সটিটিউট- 
এর দ্বারা প্রদত্ত অর্থে এখানে উৎখনন পরিচালিত হয় এবং তার ফলে আবিষ্কৃত হয় 
পিথেকানগ্রোপাস শ্রেণীর একটি ভগ্ন চোয়াল ও চারটি দীত। ১৯৩৭ সালে সেপ্টেম্বর 


১। পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে বিচরণশীল এক শ্রেণীর লেজহীন ও দীর্ঘবাহু বানর। 


৩৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


মাসে নৃ-বিজ্ঞানী কোনিগস্ভালড-এর দ্বারা নিযুক্ত একজন সংগ্রাহক এখানে একটি 
নদীর ধার থেকে পান হোমিনিডগোত্রীয় করোটির একটি ভাঙ্গা অংশ। এটি সম্ভবতঃ 
পিথেকানগ্রোপাস জাতীয় আদিমানবের ক্ষুদ্রতম করোটি | অনুমান করা হয়, সাংগিরান- 
এ আবিষ্কৃত করোটির খুলিতে নিবদ্ধ মস্তিষ্কের পরিমাণ ছিল ৭৭৫ সি. সি. (কিউবিক 
সেন্টিমিটার)। সম্ভবতঃ এটি ছিল কোন নারীর এই প্রসঙ্গে আযালান হাউটন ব্রোডরিক 
একটি প্রয়োজনীয় তুলনার অবতারণা করেছেন, যথা মূল পিথেকানপ্রোপাস-এর খুলিতে 
মস্তিষ্কের পরিমাণ সম্ভবতঃ ৯০০-৯৫০ সি. সি.। মোটামুটিভাবে উল্লিখিত এই পরিমাণ 
একজন সাধারণ ইয়োরোপীয়ের মস্তিষ্কের অর্ধেক এবং গোরিলার বৃহত্তম খুলির NYS- 
সংরক্ষণ ক্ষমতার ১৫০ সি. সি. বেশি ।১ 


সাংগিরানেরঅপরাপর কয়েকটি জায়গা থেকেও সংগৃহীত হয়েছে পিথেকানথোপাস 
গোষ্ঠীর ভগ্ন করোটি ও MNS | দেখা গেছে জাভার পিথেকানধ্রোপয়েডদের দীত জার্মানীর 
মাওয়ার মানবের মতই ছোট ছিল। চীনদেশের পিথেকানপ্রোপয়েডদের মত এদের 
দাত অত বড় ছিল না। 


& | ডূজেতিস সমাবেশ। 

১৯৩৬ সালে BOG বিভাগের সংগ্রাহক সুরবায়ার পশ্চিমে পার্বত্য অঞ্চলে 
অবস্থিত মোদ্যোকের্তো (Modjokerto) গ্রামে উৎখননের দ্বারা আবিষ্কার করেন একটি 
শিশুর করোটি 1 এর অবস্থান ছিল মধ্য প্লাইস্টোসীন পর্বে নির্দিষ্ট ভজেতিস্‌ (Djetis) 
স্তরশয্যায়। হোমো সেপিয়েন্স গোত্রের সঙ্গে খুলির সাদৃশ্য দেখা গেলেও এই জীবাশ্মের 
সঙ্গে বেশি মিল দেখা যায় পিথেকানধ্রোপয়েড বৃত্তের বিভিন্ন গঠন-চারিত্র্ের। 


১৯৩৯ সালে মোদ্যোকের্তোয় পিথেকানধ্রোপাস শ্রেণীর আদিমানবের 
আরও দুইটি করোটির অংশ এবং একটি চোয়ালের উধর্বাংশ আবিষ্কৃত হয়। এগুলি 
পূর্ণবয়স্কদের। 


১৯৪১ সালে এতদঞ্চলে পুনর্বার আবিষ্কৃত হয় আদিমানবের চোয়ালের 
অংশ ও দাত। এগুলি কতকটা বড় ধরনের । দৃষ্টাস্তস্বরূপ, দাতগুলি জার্মানির সুবিখ্যাত 
হাইডেলবার্গ মানবের দাতের চেয়েও বড়। অপরাক্ষে, দুটি “প্রিমোলার' পিকিং-এ 
আবিষ্কৃত পিথেকানপ্রোপাস-এর প্রিমোলারের সঙ্গে সাদৃশ্য বহন করে। জাভার এই 
আদিমানবের নাম দেওয়া হয়েছে “মেগানপ্রোপাস পেলিওজাভানিকাস+। বিজ্ঞানীদের 


১। ম্যান আনড হিজ আ্যানসেষ্টরস্‌”, পৃষ্ঠা ১০৯। 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৩৭ 


ধারণায় মেগানগ্রোপাস-এর মাথা যে কোন পূর্ণবয়স্ক গোরিলার চেয়েও বৃহত্তর ছিল। 
১৯৫২ সালে বান্দুং-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ পিটার 
মার্কস (Pieter Marks) সাংগিরানেও মেগানগ্রোপাস-এর একটি চোয়ালের নিন্নভাগ 
(ম্যানডিবল) আবিষ্কার করেন। এটি অবশ্য অস্ট্রালোপিথেসীনের সঙ্গে কিছুটা সৌসাদৃশ্য 
বহন করে। 


যবদ্বীপে আবিষ্কৃত পিথেকানপ্রোপয়েড শ্রেণীর কঙ্কালের নিদর্শনগুলি 
প্রাগৈতিহাসিক মানুষের বিবর্তন প্রসঙ্গে একাস্তই গুরুত্বপূর্ণ | বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে 
করেন, এইসব করোটি ও হাড় দেখে এমন একটি সিদ্ধান্ত করা যায় না যে, সুদূর 
অতীতে এই সমুদ্র পরিবেষ্টিত ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে আদিমানবেরা কোন বিশিষ্ট স্বাতস্ত্যে পরিবর্ধিত 
হয়েছিল। পিথেকান্রোপয়েডদের একটি প্রজাতিকে অপর কোন প্রজাতি থেকে সম্পূর্ণ 
বিচ্ছিন্ন করা হয়ত সম্ভব নয়। তবে একটি বিচ্ছিন্ন জীবনধারার প্রেক্ষাপটে যবদ্বীপের 
আদিমানব হয়ত বা প্রাটীনতর কাল থেকে কোন কোন বৈশিষ্ট্যকে বজায় রাখতে 
পেরেছিল প্লায়ো-প্লাইস্টোসীন মহাপর্বের অস্পষ্ট অধ্যায়সমূহে জাভা, সুমাত্রা, বোর্নিও, 
ফিলিপাইন ইত্যাদি দ্বীপমালা সম্ভবতঃ একদা সমুদ্রপৃষ্ঠের অবনমন-হেতু এশিয়ার মূল 
ভূখণ্ডের সঙ্গে মিলিত ছিল। এই প্রসঙ্গে, পণ্ডিতবৃত্তে দুইটি সন্দেহের উদয় হয়েছে। 
যথা-__ 

১। একদা বোর্নিও এবং জাভা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত 
ছিল সুমাত্রার ATA | এখানে অতীতের নানা আগ্নেয়গিরির অগ্যুৎপাতের ফলে গঠিত 
অনেক ছোট বড় দ্বীপের মধ্যে প্রায়ই ব্যবধান রচিত হয়েছে মাত্র ১৩০ ফুট থেকে ১৫০ 
ফুট গভীর সমুদ্রের দ্বারা। এ বিষয়ে ব্রোডরিকের মন্তব্য অনুধাবনযোগ্য__ 


"both Sumatra and Borneo are on platforms and a fall 
in the sea-level of say, 130 to 150 feet would link up all the 
Island-World of Western Indonesia. We may also beer in mind, 
when we are considering eustatic sea-level, that rise in the level 
(due to the melting of ice caps) is complicated by the upthrust 
of the continental masses themselves." 


সংক্ষেপে, হিমবাহ সম্প্রসারণ সংক্রান্ত কারণ ছাড়াও এখানে বিবেচ্য 
মহাদেশীয় উত্থান প্রকৃতির জটিল প্রভাব। 


১। ম্যান আ্যান্ড হিজ আযনসেস্টরস।' পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮। 


৩৮ প্রাগেতিহাসিক বাংলা 


২। অতীতে বোর্নিও এবং জাভা সরাসরি দক্ষিণ চীনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। 
প্রাগৈতিহাসিক ভূসংগঠনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন প্রাণীকুলের উপস্থিতির ভিত্তিতে এইরকম 
একটি সংযোগকে কল্পনা করা হয়ে থাকে | এখানে উল্লেখ্য, জাভার প্রাচীনতম জীবগোষ্ঠী 
বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিবালিক গোত্রীয়। এই প্রাণীশ্রেণী প্রধানতঃ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত। 
সোলো নদীর তটে অবস্থিত সাংগিরান-এ আবিষ্কৃত হয়েছে হাতী, চ্যালিকোথেরিয়াম, 
গণ্ডার ও খড়গদস্ত মার্জার গোষ্ঠীর জীবাশ্ম। জাভায় যেসব চীনদেশীয় প্রাণীর উপস্থিতি 
দেখা যায় তাদের আগমন অবশ্যই পরবর্তীকালে । এ বিষয়ে ব্রোডরিকের মস্তব্য-_ 


“The ‘original’ Java fauna (i.e. that dating back to the 
formation of the island) seems to have been of 'Indian' type. 
The 'Chinese' component of the ancient Java fauna was certainly 


: $9 
a later arrival. 


প্রাগৈতিহাসিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ‘হোমিনিড’দের অভ্যুত্থান ও 
মানবসংস্কৃতির প্রথম উন্মেষের পরিপ্রেক্ষিতে জাভা, সুমাত্রা, বোর্নিও ইত্যাদি ছ্বীপসমূহের 
মিলিত সংগঠন এবং এশিয়ার মূল স্থলভাগের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিশেষ 
গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন এক হারানো ইন্দো-বোর্নিও উপমহাদেশের ইতিহাস। এই উপমহাদেশ 
আজ অনেকাংশেই নিমজ্জিত আছে সমুদ্রের গভীরে। তবু সংশয় নেই, জাভার 
পিথেকানথোপয়েডদের বিচরণক্ষেত্র এই দেশ। ভারত ও চীন দেশের আদিমানবদের 
জীবনবৃত্ত হয়ত বা একদা প্রসারিত ছিল এখানেও প্রাগৈতিহাসিক বাংলার ইতিবৃত্ত 
রচনায় এই আলোচিত ইন্দো-বোর্নিও উপমহাদেশের গুরুত্ব স্বভাবতই অনুধাবনযোগ্য। 


প্লাইস্টোসীন পর্বে পশ্চিম বাংলার শৈলাঞ্চলে এবং প্রাচীন উচ্চভূমিতে নানা 
উপল-সমাবেশে যে শ্রেণীর হোমিনিডরা রেখে গেছে তাদের অসংখ্য ধারাল উপলখণ্ড, 
হাত-কুঠার, ছেদক ইত্যাদি আয়ুধ তাদের সঙ্গে দূর প্রাচ্যের আদিমানবের কোন সম্পর্ক 
থাকা অসম্ভব AA | এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে চীন, ব্রহ্মদেশ, থাইল্যাণ্ড (শ্যাম), 
মালয় ও জাভায় আবিষ্কৃত বিভিন্ন প্রত্বাশ্মীয় হাতিয়ার একটি বিশিষ্ট ধারার পরিচায়ক 
এবং এগুলি ভারতের তথাকথিত সোহান গোষ্ঠীর হাতিয়ারের সঙ্গে GAA প্রসঙ্গত, 
শেষোক্ত শ্রেণীর নিদর্শনগুলি সোহান ও সিন্ধু নদীদ্বয়ের উপত্যকায় আবিষ্কৃত হলেও 
এই ধরনের হাতিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শক্ষাদি ভারতের অন্যান্য স্থানেও আবিষ্কৃত হয়েছে। 


১। ম্যান আ্যান্ড হিজ আযনসেস্টরস।' পৃষ্ঠা ১১১। 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের AAS ৩৯ 


এদের অবস্থিতি পর্যবেক্ষিত হয়েছে পশ্চিম বাংলার প্রাগেতিহাসিক শৈলসমাবেশেও। 
এখানে উল্লেখনীয়, প্ৰত্নতাত্বিক স্টুয়ার্ট পিগট (Stuart Pi€o)-এর ধারণায় সোহান 
আয়ুধের নির্মাণরীতির সঙ্গে যেহেতু পূর্ব-এশিয়ার প্রত্বাশ্মীয় হাতিয়ারসমূহের শৈলী ও 
রূপের সাদৃশ্য দেখা যায়, সেইহেতু উত্তর-ভারত এবং ব্রন্মদেশের মধ্যে অস্তর্বতী 
ক্ষেত্রসমূহে আবিষ্কৃত হতে পারে একই রকম নমুনা প্রত্বাশ্মীয় উপলাস্তর, সংশ্লিষ্ট শক্ষশ্রেণী 
এবং আযাবিভিলিয়ো আশিউলিয়ো ( Abbevilio- Acheulian) হাত-কুঠারের ক্রমিক 
বিবর্তন অথবা পর্যায় ইতিমধ্যেই সুস্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষিত হয়েছে মেদিনীপুর জেলায় 
প্রবাহিত সুবর্ণরেখা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রসারিত এক শিলাকীর্ণ প্রাচীন উপত্যকায় | 
এই শ্রেণীর হাতিয়ার ও শক্কের পরিচয় পাওয়া গেছে পশ্চিম বাংলার অপরাপর বিভিন্ন 
স্থানেও। এই প্রসঙ্গে ওড়িশার গুরুত্ব ইতিপুরেই সুপ্রতিষ্ঠিত। সুতরাং, পিগটের মন্তব্য 
অবশ্যই প্ৰণিধানযোগ্য 


“But at least we can say that the Soan industry is East 
Asiatic in affinities. Intervening sites between Northern India 


and Burma should appear if field-work is undertaken.” > 


প্রকৃতপক্ষে, চীনদেশের শুকুতিয়েনীয় (Choukoutienian), ব্রহ্মাদেশের 
আনিয়াীয় (Anyathian), মালয়ের তামপানীয় (Tampanian) এবং জাভার 
পাজিতানীয় (Pajitanian) আয়ুধাদির ইতিহাস এক সুবিস্তৃত পটভূমিকার বিষয়বস্তু | 
পূর্ব এশিয়ার বৃত্তে জাপান ও শ্যাম দেশও এই পটভূমিকার অন্তর্গত। সোহান ট্রাডিশনের 
প্রসঙ্গ ব্যতিরেকেও বাংলা ও ওড়িশার হয়ত একটি স্বতন্ত্র স্থান ছিল এই একই মহাবৃত্তে। 
ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। এই স্বতন্ত্র মননশীলতা কিংবা রীতির ফলে যখন একটি 
বিবর্তনমুখী হাত কুঠার সুনির্মিত উপলান্ত্রের পর্যায়ে অগ্রগতি লাভ করে তখন সমগ্র 
বিষয়টি সহজ গবেষণার পরিপন্থী হয়। ইংরাজ, ফরাসী, ওলন্দাজ ইত্যাদি বিভিন্ন 
ইয়োরোপীয় জাতিসমূহের বিভিন্ন আচার্যবৃত্তই হয়ত এর অন্যতম কারণ। সুতরাং, 
নিঃসন্দেহে প্রয়োজন একটি এঁক্যবদ্ধ ও সমান্তরাল গবেষণা | একটি সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ 
ও প্রতিবেদন অতীত জীবন প্রবাহকে এবং বিস্মৃত সাংস্কৃতিক সীমাস্তগুলিকে আরও 
স্পষ্টতর করতে সক্ষম ACT প্লায়োসীন, প্লাইস্টোসীন যুগের হোমিনিড ও তার আকাঙক্ষা 
এমন এক দূর অতীতের ইতিবৃত্ত যার কাহিনীগুলি বিজড়িত বিভিন্ন পরিবর্তনশীল 


১।  “প্রিহিস্টোরিক ইন্ডিয়া”, পৃষ্ঠা ৩১। 


80 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


আবহাওয়ার সঙ্গে | এই কাহিনীগুলি রচিত হয়েছে নানা সংগঠনশীল, ক্ষয়িষ্ণু কিংবা 
বিলুপ্ত ভৌগোলিক পরিমগ্ডলের মধ্যে। এই জন্যই আদিমানবের ক্ষেত্রে এতিহাসিক 
কালের জাতীয় উত্থান সংশ্লিষ্ট মানচিত্রের সীমারেখাগুলি প্রায়ই মূল্যহীন হয়ে evs | 
উল্লিখিত কারণে প্লাইস্টোসীন কালের বাংলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনিষ্ঠ সংযোগ 
বিশ্বাস্য হয়ে ওঠে। পরবর্তী কালেও, বিশেষতঃ নবাশ্মীয় সাংস্কৃতিক অধ্যায়েও এই 
ঘনিষ্ঠতা প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্ন হাতিয়ারশ্রেণীর আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য এবং নবীন 
কৃষি-জীবনের পটভূমিকায়। 

প্রাচীন হোমিনিডদের বিবর্তন-প্রসঙ্গে টীনদেশের গুরুত্ব ইতিপূর্বেও উল্লিখিত 
হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এই দেশে প্রাপ্ত পিথেকানখোপাস ও তার নিকটতম জ্ঞাতিদের 
চিত্রটি এক বিশিষ্ট তাৎপর্যের অধিকারী। পূর্ব এশিয়ার পটভূমিকায় এই তাৎপর্য অবশ্যই 
এক যথার্থ বিবেচনার বিষয়বস্ত। চীনদেশের প্রসঙ্গে প্রধানতঃ উল্লেখ্য একটি আকর্ষণীয় 
কাহিনী, কেমন করে আবিষ্কার হল “পিকিং মানব'-এর প্রস্তরীভূত কঙ্কালসমূহের নানা 
বিচ্ছিন্ন নিদর্শন। ১৯০০ সালে সর্বপ্রথম এদেশে সংগৃহীত হয় প্রাগৈতিহাসিক মানুষের 
একটি «the | এটি ছিল উপরের সারির ৩নং “মোলার'। জার্মান চিকিৎসক কে, এ, 
হাবেরের (K. A. Haberer) এই দীতটিকে সংগ্রহ করেন পিকিং-এর এক ওষুধের 
দোকানে । এই নিদর্শনটি ও অন্যান্য জীবাশ্ম যা ড্রাগনের হাড় নামে পরিচিত ছিল তা 
তিনি পরীক্ষার জন্য মিউনিখ-এ পাঠিয়ে দেন। প্রথমে উল্লিখিত দীতটিকে দেখে পণ্ডিত 
NFA CNAA (Max Schlosser) অনুমান করেন, এটি কোন বানরের 
(আযনখোপয়েড)। পরে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, এই দীতটি প্রকৃতপক্ষে 
হোমো সেপিয়েন্স-এর এবং এখানে কোন বিস্ময়কর আদিমানবের প্রশ্ন ওঠে না। এই 
ঘটনার পর ক্রমশঃ নৃ-তত্তববিদদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয় পিকিং-এর অদূরে ছড়ানো 
পাহাড়গুলির দিকে যাদের খাঁজ ও সমুন্নত চূড়া স্মরণ করিয়ে দেয় চৈনিক নিসর্গচিত্রের 
সঙ্গহীন পরিবেশ ও রম্যতাকে। এই পাহাড়গুলি থেকে চুণাপাথর সংগ্রহ করতে যেয়ে 
অতীতে খননকারীরা বিস্মিত হয়েছেন প্রস্তরীভূত কঙ্কালসমূহ দেখে | পিকিং-এর অদূরে 
শুকুতিয়েনে (Choukoutien) প্রসারিত পশ্চিমের গিরিমালা প্রসঙ্গে ব্রোডরিকের 
বর্ণনা স্মরণ করা যেতে ATA | 


"The Western Hills at Choukoutien are not high, though 
they are rugged and have the farborn and dusty appearance of 
much of the northern Chinese Mountain land. In some parts of 


the range there are bold peaks and jutting cliffs that afford views 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৪১ 


sometimes resembling the strange landscapes of the South West, 
landscape that are familiar to us through Chinese paintings but 
which we are always inclined to think of as the products of the 


CE" : . 5 
artist s imagination. 


এর মমার্থ, চুকুতিয়েনে (ভিন্ন উচ্চারণে শুকুতিয়েন) অবস্থিত পশ্চিমের 
পাহাড়গুলি খুব উচু নয় এবং এদের ভাঙ্গাচারা গঠন, একাকিত্ব এবং ধূলি-ধূসর বর্ণ 
উত্তর-চীনের পার্বত্যভূমির দৃশ্যাবলীর অনুরূপ | কোন জায়গায় এই গিরি-শিরার উন্নত 
চুড়াসমূহ এবং এগিয়ে আসা খাঁজগুলি সাদৃশ্য বহন করে দক্ষিণ-পশ্চিমের এমন এক 
আশ্চর্য প্রাকৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যার পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া যায় চৈনিক চিত্রকলায়। 
অবশ্য, আমরা মনে করে থাকি উল্লিখিত চিত্রিত পার্বত্য ভূমি শিল্পীরই আপন কল্পনা | 


১৯১৬ সালে সুইডিস ভূতাত্ত্বিক গান্নার আ্যাণ্ডারসন (Gunnar Andersson) 
পিকিং-এ আমন্ত্রিত হন নব-সংগঠিত GOS সর্বেক্ষণে যোগদানের নিমিত্ত। তাকে আমন্ত্রণ 
করেন রাষ্ট্রের পুরোধা উয়ান শিকাই (Yuan Shikai) | B উয়ান শিকাই পরবর্তীকালে 
নিজেকে সম্রাট বলে বিঘোষিত করতে প্রচেষ্টিত ছিলেন এবং তাতে ব্যর্থকাম হন। 
১৯১৮ সালে চীনদেশে কর্মলিপ্ত থাকার সময় আ্যাণ্ডারসন প্রথম শুনতে পান p কু সান- 
এ আবিষ্কৃত অমূল্য জীবাশ্মসমূহের কথা। চু কু সান নামের অর্থ “মুরগীর হাড়ের 
পাহাড়’। কৌতূহলের বশবতী হয়ে আ্যাণ্ডারসন এই জায়গাটি পরিদর্শন করেন। পাহাড়ের 
বিভিন্ন গুহা এবং শৈলখাত পর্যবেক্ষণ কালে এই সুইডিস ভূতাত্তিক সংগ্রহ করেন 
অতীতের জীব-জন্তর নানা কঙ্কালাদি। কোন কোন হাড়কে হাতিয়ারের দ্বারা টুকরো 
করার অথবা ফাটিয়ে দেবার চিহ্ন দেখা AA | এর কারণ সম্ভবতঃ আদি-মানব কর্তৃক 
হাড়ের আভ্যন্তরীণ মজ্জা খাবার প্রচেষ্টা। চু কু সানের সম্ভাবনার কথা আ্যাণ্ডারসন 
যথারীতি জানিয়ে দেন তার মাতৃভূমি সুইডেনে | এর পর “মুরগীর হাড়ের পাহাড়ে’ 
জীবাশ্ম সংগ্রহে উদ্যোগী হন আইভার ক্রুগার (Ivar Kreuger) এবং ও. দানস্কী 
(O. Zdansky) | এইবার দানস্কীর প্রচেষ্টায় আবিষ্কৃত হয় প্রাচীন মানুষের দাত 
যেমন প্রথম দেখেছিলেন জার্মান চিকিৎসক ও সংগ্রাহক হাবেরার। ১৯২১ সালে “নিউ 
ইয়র্ক ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়াম'-এর পক্ষ থেকে আ্যাণ্ডারসন ও ওয়াল্টার গ্র্যাঞ্জার 
কর্তৃক চু কু সান-এ পুনর্বার পরিচালিত হয় অনুসন্ধান কার্য এবং এইবার জানা যায় এই 
গ্রামের দুরপ্রান্তে অবস্থিত চুকুতিয়েন-এর অসাধারণ গুরুত্বের SA | বিপুল প্রতিশ্রুতিময় 


১। GPT হাউটন ব্রোডরিক £ ম্যান GTS হিজ আযানসেস্টরস 2 পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮। 


83 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


ও জীবাশ্ম-আকীর্ণ চুকুতিয়েন পরবর্তী কালে হয়ে ওঠে বিশ্ববিখ্যাত। ১৯২৭ সালে 
এখানে পরিচালিত এক খননকার্ধের ফলে আবিষ্কৃত হল প্রাগ্‌-এঁতিহাসিক জীব-জীবনের 
পরিচায়ক বহুসংখ্যক জীবাশ্ম তথা প্রস্তরীভূত নিদর্শন 


এ বিষয়ে নিঃসন্দেহ হওয়া গেল, পিকিং মানবের কালে চু কু সান তথা চুকুতিয়েন- 
এর আবহাওয়া ছিল আরও উষ্ণ ও Vy | এই ধরনের সিক্ত পরিবেশেই গড়ে উঠেছিল 
মানুষ ও পশুকুল সম্বিত এক পরিমণ্ডল। জীবজস্তূর Wü হাড় এবং পাথরের 
হাতিয়ার ইত্যাদি এই প্রাগৈতিহাসিক পর্বকে স্পষ্টতর করে তোলে এবং বিস্তৃততর 
করে তোলে প্রাসঙ্গিক গবেষণাকে। ১৯২৭ সালের উৎখননে প্রধান উদ্যোগী-পুরুষ 
ছিলেন বার্জার বোহ্‌লিন (Birger Bohlin) | শুকুতিয়েনে সিনানথোপাসের অস্তিত্ব 
অবশ্য আবিষ্কৃত হয় বোহ্‌লিন-এর প্রত্যাবর্তনের পর ১৯২৯ সালে। এই বছর দোসরা 
ডিসেম্বর অপরাহ্ন চারটায় চীনা প্রত্ববিদ পেই ওয়েন চুং-এর পরিচালনায় যখন উতখনন 
অগ্রসর হতে থাকে তখন সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় সিনানথোপাসের করোটির একটি ভগ্ন 
নিদর্শন। চুনাপাথরের মধ্যে বন্দী এই জীবাশ্মটিকে উদ্ধার করতে অতিবাহিত হয় চার 
মাস। উল্লিখিত জীবাশ্ম সমুদয়ের মধ্যে ছিল একটি তরুণ পিথেকান্থোপাসের করোটি। 
এই করোটির চাপা উপরিভাগ, ললাটের প্রায় অনুপস্থিতি ইত্যাদি যবদ্বীপের 
পিথেকানথোপাসকে স্মরণ করিয়ে CHA | এই খুলিতে একদিকে যেমন হোমো সেপিয়েন্স- 
এর মৌল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তেমন পর্যবেক্ষিত হয় অতীত বিবর্তনের চরিত্র | অনুমিত 
হয়, আবিষ্কৃত পিকিং মানবের করোটিতে মস্তিষ্কের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০০ কিউবিক 
সেন্টিমিটার। পিকিং মানবের দেহাবশেষের সঙ্গে শক্ষচ্ছেদ করা নুড়ির নিদর্শন এবং 
ভস্মস্তর দেখে অনুমান করা হয়, এই যুগে মানুষ হয়ত AYP হাতিয়ার এবং আগুন 
দুইয়ের ব্যবহার জানত। তবে আবিষ্কৃত নর-করোটি অপর কোন আদি-মানব কর্তৃক 
খাদ্যরূপে আক্রান্ত কোন হতভাগ্যের হওয়া অসম্ভব নয়। এই আবিষ্কারের পর 
শুকুতিয়েনের ভূ-স্তরে সংগৃহীত হয় পিকিং মানবের আরও নানা জীবাশ্ম, করোটি, দীত 
ও হাড়ের বিভিন্ন প্রস্তরীভূত নিদর্শন। এই সব নিদর্শনগুলির মধ্যে একই কালবৃত্তে দেখা 
যায় বিভিন্ন প্রভেদ অথবা বৈষম্য। 


নৃবিজ্ঞানী আযালান হাউটন ব্রোডরিক-এর মস্তব্যানুসারে পিথেকানথোপাস 
পিকিনেন্সিসের সঙ্গে সবিশেষ সাদৃশ্য দেখা যাবে যবদ্বীপের ‘পিথেকানথ্রোপীয়’ 
(পপিথেকানখোপয়েড) গোষ্ঠীর সঙ্গে। বিষয়টি পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য, 
এখানে স্মরণ করা যেতে পারে,পিথেকানগ্রোপাস পিকিনেন্সিসের জীবাশ্মসমূহও পরিচয় 


মানুষের বিবর্তন ও প্রস্তর যুগের প্রারস্ত ৪৩ 


দেয় বিভ্বি আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের এবং করোটিতে সংরক্ষণযোগ্য মস্তিষ্কের পরিমাণগত 
তারতম্যের। দীর্ঘকাল অনুষ্ঠিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পর ভিদেনরাইখ ( Weidenreich) 
এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে পিকিং ও যবদ্ীপের পিথেকানগ্রোপাস যথাক্রমে বনু 
পরবর্তী কালের মঙ্গোলীয় এবং অ্টালয়েড জাতিমণ্ডলীর পূর্ব-পুরুষ। ভিদেনরাইখের 
এই মস্তব্য পণ্ডিত সমাজের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। এর প্রধান কারণ হয়ত একই 
কোয়াটেনাঁরি পর্বে হোমিনিডদের মধ্যে বিভিন্ন আকৃতিগত পার্থক্য। এ বিষয়ে বিবর্তন 
ও প্রজাতির ইতিহাস এখনও অনেকাংশে অস্পষ্ট। বর্তমান পৃথিবীতে বিরাজিত 
হোমিনিড গোষ্ঠীগুলির ইতিহাস নির্ণীত হওয়া সম্ভব আরও আবিষ্কার ও গবেষণার 
ভিত্তিতে | এই আবিষ্কারের উদ্যম কখনই থেমে যেতে পারে A | ১৯৫৭ সালে চীনদেশে 
হ্যাংকাউ ও ইয়াংতৃসি নদীর পশ্চিমে অবস্থিত LA অঞ্চলের এক গিরিগুহায় পুনর্বার 
আবিষ্কৃত হয়েছে পিথেকানখোপাস পিকিনেন্সিসের দাত ও মুখের হাড়ের অংশ। 
সাম্প্রতিক কালে আবিষ্কৃত আরও নানা তুলনীয় জীবাশ্ম তথাকথিত পিকিংমানবের 
ইতিহাসকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। 


পুরাতান্তিক ও নৃতাত্বিক গবেষণার ইতিহাসে ইয়োরোপে আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক 
কালের জীবাশ্ম তথা প্রস্তরীভূত কঙ্কালাদি ও হাতিয়ার সমূহের গুরুত্ব অপরিমেয়। এই 
মহাদেশে প্রস্তর যুগের শেষার্ধে সৃজিত কলা নিদর্শনগুলিও আলোকপাত করে বিভিন্ন 
যুগের সংস্কৃতির GAT প্রকৃতপক্ষে, ইয়োরোপ ভূখণ্ডে পিথেকানখ্রোপাসের উপস্থিতি 
বিশেষভাবে প্রমাণিত হয় ১৯০৭ সালে যখন জার্মানিতে অবস্থিত হাইডেলবার্গের 
অনতিদূরে এলসেঞ্জ (Elsenz) উপত্যকার উপর সঞ্চিত প্লাইস্টোসীন যুগের সুবিপুল 
বালুকাস্তরে আবিষ্কৃত হয় বিখ্যাত resta জ' (Mauer Jaw) | আবিষ্কৃত এই চোয়াল 
অথবা asp প্রথম বর্ণিত হয় হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ew বিভাগের অধ্যাপক 
অটো শোটেনসাক (Otto Shoetensack)-43 লেখায়। চীন, TIA এবং 
আলজিয়ার্সে আবিষ্কৃত পিথেকানথ্রোপাসের জীবাশ্ম সমূহের প্রেক্ষাপটে হাইডেলবার্গ 
মানবকে ইয়োরোপীয় মহাদেশে অতিবাহিত প্রাচীনতম মানুষের ক্রমঃ অগ্রগতি সম্বন্ধীয় 
অধ্যায়গুলিতে তার নিজস্ব স্থান পাবে। এ ছাড়া, ইংল্যাণ্ডে অবস্থিত স্যোয়ালসকোম্বে 
টেম্‌স নদীর শিলাসমাবেশে প্রাপ্ত নারীর করোটি, জার্মানির অন্তর্গত স্টেইনহেউমে 
আবিষ্কৃত কতকটা তুলনীয় নিদর্শন এবং ফ্রান্সে অবস্থিত ফতেঁসেবাদে নামক স্থানের 
এক ভগ্ন গিরিগুহায় আবিষ্কৃত খুলি মানুষের প্রাচীন বিবর্তনের প্রাসঙ্গিক রহস্যময় ইতিবৃত্তের 
উপর আলোকসম্পাতকারী। 


তৃতীয় অধ্যায় 
পশ্চিমবঙ্গে আদি প্রস্তর যুগ 


পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগের যে পর্বগুলি অতিবাহিত হয়েছে তাদের ইতিহাস 
অবশ্যই তাৎপর্যময়। এই ইতিবৃত্তের কাহিনীসমূহ নিহিত আছে মানব-সভ্যতার প্রথম 
উন্মেষ ও অগ্রগতির ব্যাপক পটভূমিকায়। সংস্কৃতির এই প্রসঙ্গটি যেখানে উত্থাপিত 
সেখানে তার মূল্যায়ণ সম্ভব প্রাচীন বিশ্বের যথাযথ প্রেক্ষাপটে | নগরসমূহ অথবা উন্নত 
পর্যায়ের অধিবসতিগুলির প্রতিষ্ঠার বহু পূর্বে প্রসারিত এই মহাপর্বে পৃথিবীর বহু ক্ষেত্রে 
দেখা যায় সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক বিন্যাস, শিল্পবোধ এবং আয়ুধ নির্মাণে দৃশ্যমান 
প্রযুক্তি ও শৈলী প্রায়শই সমাস্তরাল। সুতরাং, প্রস্তর যুগের ইতিহাসকে বিবেচনা করা 
প্রয়োজন তার আপন উৎস ও ক্রমাৰয়ধারা সংক্রান্ত যথার্থ তথ্যাবলীর ভিত্তিতে | 
প্রকৃতপক্ষে, প্রস্তর-নির্মিত হাতিয়ারসমূহের বিবর্তনে ও সংশ্লিষ্ট শৈলী অথবা প্রযুক্তির 
অগ্রগতিতে সর্বত্রই প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতির অগ্রগতি তথা উত্তরণ। 


এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কত যুগ আগে প্রথম নির্মিত হয়েছে এই আয়ুধ, 
আকৃতি পেয়েছে তাদের রূপ মানুষের সৃজনশীল প্রেরণায় ? তবে কেবলমাত্র হাতিয়ারের 
ব্যবহারই প্রমাণ করতে সক্ষম নয় মানুষের অভ্যুদয় | মানুষের আত্মীয় শিম্পাঞ্জিও 
ব্যবহার করতে অভ্যস্ত পাথর, গাছের ডাল ইত্যাদি। জীবজগতে বিভিন্ন সৃজনশীলতার 
দৃষ্টান্তেরও অভাব নেই। কিন্তু মানুষের পরিচয় নিহিত তার মননশীলতায় যার প্রাচীনতম 
ছিল খাদ্য-সংগ্রহ প্রসঙ্গে, জীবনধারণের প্রয়োজনে নিত্যোপযোগী বস্তু হিসাবে। বিভিন্ন 
ক্ষেত্রে এই আয়ুধকে পর্যবেক্ষণ করা যায় মানুষের শিলীভূত করোটি কিংবা অপরাপর 
অস্থির সঙ্গে | এইভাবে এক তাৎপর্যময় পরিস্থিতিতে উপলব্ধি করা যায় মানুষের প্রস্তুত 


পশ্চিমবঙ্গে আদি প্রস্তর যুগ ৪৫ 


প্রথম অস্ত্রের গুরুত্ব। নানা দিক্‌ থেকে বিচার করলে অনুমিত হবে, মানুষের বিবর্তন 
পর্যায়ে প্রথম হাতিয়ার নির্মিত হয়েছে দূর অতীতে প্লায়োসীন কালের সমাপ্তি পর্বে। 


এই প্রসঙ্গটি পূর্বতন অধ্যায়ে কিছুটা আলোচিত হয়েছে। বিগত পঞ্চাশ দশকে 
লুই লিকি ও তার স্ত্রী মেরী লিকি আফ্রিকার ওলদুভাই খাতে একই ভূস্তরে আবিষ্কার 
করেন বৃহদায়তন চোয়ালবিশিষ্ট রোবাস্টাসের প্রস্তরীভূত কঙ্কাল ও ধারাল উপলখণ্ডের 
নিদর্শনাবলী। এ থেকে সন্দেহ করা হয়, আজ থেকে প্রায় কুড়ি লক্ষ বছর আগে বর্তমান 
মানুষের পূর্ব পুরুষের এক শাখা আয়ুধ নির্মাণ করেছে তাদের নিজস্ব পরিবেশে | অবশ্য, 
এমনও হতে পারে স্বল্পবুদ্ধি অস্ট্রালোপিথেকাস রোবাস্টাস অস্ত্রের ব্যবহারই জানত, 
সে তার নির্মাণ শেখে নি। ১৯৬১ সালে লুই লিকির পুত্র জোনাথান লিকি ওলদুভাই 
উপত্যকায় পুনর্বার আবিষ্কার করেন আরও উন্নত ধরনের করোটি | আদি মানবের এই 
পর্যায়ের নাম দেওয়া হয় হোমো হ্যাবিলিস কিংবা অস্ট্রালোপিথেকাস হ্যাবিলিস। পরীক্ষার 
দ্বারা দেখা গেছে, এই জাতীয় প্রাণীর মস্তিষ্কের পরিমাণ ছিল ৭০০ কিউবিক সেন্টিমিটারের 
কাছাকাছি। মস্তিষ্কের এই পরিমাণ বর্তমান মানুষের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। যেহেতু 
আদিম অস্টালোপিথেকাসের মস্তিষ্কের পরিমাণ সাধারণতঃ ৪৫০ থেকে ৫০০ কিউবিক 
সেন্টিমিটারের মত সেহেতু অনুমান করা হয়, হোমো হ্যাবিলিস (স্ট্রালোপিথেকাস 
হ্যাবিলিস) নির্মাণ করেছে প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রথম হাতিয়ার। লুই লিকি ও তার 
সহকর্মীরা এই “হোমো হ্যাবিলিস' নামটির অরষ্টা। ইংরেজিতে এর মানে দাঁড়াবে হ্যাণ্ডি 
ম্যান’ অর্থাৎ ‘হাতের কাজ জানা মানুষ’। বিভিন্ন কারণ দৃষ্টে মনে হয়, এরা ছিল 
'অন্্রালোপিথেকাস রোবাস্টাসে'রই সমকালীন তাদেরই এক ভ্রাতৃগোষ্ঠী। 


করোটি আজ থেকে প্রায় আঠার লক্ষ বছরের পুরাতন, সাধারণতঃ নির্ধারিত প্লিস্টোসীন 
মহাপর্বেরও আগেকার এবং প্লায়োসীন দিগন্তের সীমান্তরেখার সমীপে অতিবাহিত 
কাল অধ্যায়ের অস্ত্ভক্ত। বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে সময়ের এই মাপকাঠি অবশ্যই পরিবর্তিত 
(বিষয়টি ইতিপূর্বেই আলোচিত হয়েছে) রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, অস্ট্রালোপিথেকাস 
রোবাস্টাস এবং অস্ট্রালোপিথেকাস হ্যাবিলিস, এই দুই আদি-মানবের তুলনীয় প্রাচীনত্ব 
মানবের বিবর্তন প্রসঙ্গে আলোকপাত করে, প্রমাণিত করে বিভিন্ন ধারাকে যার 
অনেকগুলিই আজ অতীতের রহস্যে বিস্মৃত ও বিলীন। আজকের মানুষ পরিচিত 
“হোমো সেপিয়েন্স রূপে | এদের উদ্ভব হয়ত এক লক্ষ বছর আগে। এই শাখার 
উদগম “হোমো সেপিয়েন্স নিয়ানডার্থালেন্সিস, এর অভ্যুদয়ে। এরপর এখনকার মানুষ, 


৪৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


“হোমো সেপিয়েন্স”। এক কথায়, পৃথিবীতে প্রস্তর নির্মিত হাতিয়ার যে ঠিক কবে প্রথম 
ব্যবহৃত হয়েছে সে বিষয়ে এখনও কোন সুস্পষ্ট ধারণায় উপনীত হওয়া যায় নি। 
দৃষ্টান্ত স্বরূপ, ১৯৭২ সালে ফ্রান্সের ‘জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (National 
Centre for Scientific Research) পক্ষ থেকে মরিস তায়েব (Maurice 
Taib) এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত “কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভারসিটি, 
(Case Western Reserve University) ও ক্লীভল্যাণ্ডের প্রকৃতি বিজ্ঞান সম্বন্ধীয় 
যাদুঘরে 3 (Cleaveland Museum of Natural History) পক্ষ থেকে ডোনাল্ড 
কার্ল জোহানসন (Donald Carl Johanson) আফ্রিকায় অবস্থিত ইথিওপিয়ার 
আফার অঞ্চলে আবিষ্কার করেন প্রায় ছাব্বিশ লক্ষ বছর পূর্বেকার পাথরের হাতিয়ার। 
এরদু-বছর পর এই আবিষ্কার-স্থলের অনতিদূরেই প্রায় তিন লক্ষ বছর পূর্বেকার পাললিক 
সমাবেশে সংগৃহীত হয় কুড়ি বছর বয়সের এক অস্ট্রালোপিথেকাসের কঙ্কাল। এই 
আবিষ্কারের গুরুত্ব যে অসাধারণ সে বিষয়ে পণ্ডিতরা একমত । সুদূর অতীতের এই 
রহস্যময়ী তরুণীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুসী’, যিনি বীটল্দের দ্বারা গীত সঙ্গীতের এক 
নায়িকা হীরক খচিত গগনে SPH) লুসীর পা দুটি খুবই ছোট ছিল এবং সে নিঃসন্দেহে 
সোজা হয়ে হাটত।১ 

প্লায়োসীন পর্বে হাতিয়ার নির্মাণের যে সূত্রপাত দেখা যায় তার তাৎপর্য অবশ্যই 
অসাধারণ রামাপিথেকাসের অভ্যুদয়স্থল ভারতেও বিভিন্ন তুলনীয় আবিষ্কার আশা 
করা যায় যথাযথ ক্ষেত্রে | তবে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে এমন দিনের জন্য যেদিন 
এদেশে শিলীভূত কঙ্কালসমৃদ্ধ কোয়াটের্নারি যুগের স্তরগুলি ও তাদের অব্যবহিত পূর্বেকার 
দিগন্তের (নিওজিন) ভূসংগঠন সম্বন্ধে রচিত হবে পর্যাপ্ত তথ্যপূর্ণ এক মূল্যবান foa i 
দীর্ঘদিন প্রতীক্ষিত আছে এই পূর্ণাঙ্গ আলেখ্য যেখানেই একমাত্র সন্ধান পাওয়া যাবে 
বিজ্ঞানীর পর্যবেক্ষণলব তথ্যাদি 


সমগ্র ভারতে আজ পর্যন্ত প্রস্তর যুগের যত হাতিয়ার পাওয়া গেছে তাদের 
মধ্যে স্বভাবতই দেখা যায় বিভিন্ন পর্বের নিদর্শন ও বিবর্তনধারার সাক্ষ্যত্বরূপ প্রগতিশীল 
অথবা পর্যায়জ্ঞাপক নানা শৈলীর প্রতিফলন এই ভাবেই প্রথম আবির্ভূত হয় উপলাস্তর 
(পেবল টুল) ও ক্রমঃবিবর্তনশীল হাত-কুঠার হ্যোগু্যাক্স)। প্লাইস্টোসীন পর্বের গহনে 
পর্যবেক্ষণ করা যায় এই সব হাতিয়ারের সমারোহ ও সংশ্লিষ্ট শক্ষাদি। প্রকৃতপক্ষে, 


১। সাম্প্রতিক কালে ওলদুভাই উপত্যকায় ও ইথিওপিয়ায় যে কঙ্কালাদি আবিষ্কৃত হয়েছে 
সে সম্বন্ধে ১৯৭৭ সালের ৭ই নভেম্বর প্রকাশিত টাইম” (Time) FBT I 


পশ্চিমবঙ্গে আদি প্রস্তর যুগ ৪৭ 


সমগ্র বিষয়টি বিস্মৃত যুগের নানা রহস্যকে অভিব্যক্ত করে। খাদ্য সংগ্রহে ব্যাপৃত প্রাচীন 
মানবের জীবনধারার অনিশ্চয়তা ও প্রত্যয়শীল অগ্রগতিকেই যেন ব্যক্ত করে প্রত্বাশ্মীয় 
দিগন্তের নিদর্শনাবলী। আদিমতম কালে মানুষ হয়ত যে কোন একটি ধারাল অথবা 
কার্যোপযোগী প্রস্তরখণ্ডকেই তার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে। এই ধরনের হাতিয়ার 
অবশ্য এক দূরত্বের অস্পষ্টতায় সীমাবদ্ধ | ‘ইওলিথ’ নামে বর্ণিত এই শ্রেণীর পাথর 
স্বভাবতই পরিচয় বহন করে না মানুষের প্রকৃত সৃজনশীলতার তবে তার প্রয়োজন 
প্রতিফলিত করে নবসূচিত জীবনধারার বৈশিষ্ট্যকে। পাথরের এই সামান্য খণ্ডই পরবর্তী 
কালে MAIS করেছে নানা কার্যকর ও সুসমঞ্জস RY | 


করা যায়। যথা, উপলাস্ত্র ও তথাকথিত হাত-কুঠার। এই দুই ধরনের নিদর্শনাবলী 
ইতিপূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে। উপলাস্ত্রের সঙ্গে যেমন বিজড়িত শক্কাযুধ ( SPH টুল) 
তেমন হাত -কুঠারের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অন্তর্গত দেখা যায় ছেদক (ক্লীভার), কর্তরি (কাটার) 
ইত্যাদি। উপলান্ত্র ও হাত-কুঠারের প্রাচীন পরিমগুলসমূহ বিশেষভাবে উল্লেখ্য সভ্যতার 
উন্মেষ প্রসঙ্গে । যদিও উপলাস্ত্রের এবং তার সঙ্গে বিজড়িত দৃষ্টাত্তগুলির একদা সবিশেষ 
প্রচলন ছিল দূরপ্রাচ্যে এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে এবং সন্নিহিত দ্বীপপুঞ্জে তেমনি হাত-কুঠার 
তথা আযবিভিলীয়-আ্যাশ্যিউলীয় (আযবিভিলিও-আ্যাশ্যিউলিয়ান) কিংবা আদি-আশ্যিউলীয় 
(আরলি-ত্যাশ্যিউলিয়ান) অস্ত্রাদির মুখ্য বিস্তারক্ষেত্র দেখা যায় পশ্চিম ইয়োরোপ, 
আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ ভারতে প্রসঙ্গস্থল ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবশ্য 
এই দুই শ্রেণীর হাতিয়ারগুলিকে পর্যবেক্ষণ করা যায় একই ভৌগোলিক JOS | সুতরাং, 
একটি সাধারণ নিয়মকে একটি সীমিত রেখায় আবদ্ধ রাখাই AGS | ভারতীয় উপমহাদেশে 
উপলাস্ত্রগুলির বিশেষ উপস্থিতি দেখা যায় পশ্চিমে নিম্ন-হিমালয়ে | এই নিদর্শনগুলি 
প্রধানতঃ একমুখী (ইউনিফেসিয়াল) যেমন হাত-কুঠার দ্বিমুখী (বাইফেসিয়াল)। এখানে 
উল্লেখ্য, হ্যাণ্-আ্যাক্সকে ‘কু-দ্য-পৌঁয়া’ (0০-৫০-০178) নামেও বর্ণনা করা হয়ে 
থাকে। এর কতকটা অর্থ __“হস্তচালিতআঘাত' (ক্রো-অফ দি হ্যাণ্ড)। উপলাস্ত্ের গোষ্ঠীকে 
আবার কাটাকুটির নিমিত্ত নির্মিত এক সুবিস্তারী নিদর্শনাবলীর (চপার-চপিং pep) 
শিরোনামার বৃত্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। 

অবিভক্ত ভারতে উপল-আয়ুধের এক প্রধান উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায় 


সিন্ধুর উপনদী সোহান্নের তটচত্বর সমুদয়ে। এই নদ্য তটচত্বরগুলিতে পর্যবেক্ষিত ভূতাত্তিক 
সংগঠন, স্তরবিন্যাস, ইত্যাদির সঙ্গে কাশ্মীরের GOST ইতিবৃত্তের সাদৃশ্য অথবা তুলনীয় 


৪৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


প্রকৃতি এই উপলাস্ত্রসমূহের প্রাচীনত্ব নির্ধারণে বিশেষ HAAS | সোহান উপত্যকায় 
আবিষ্কৃত উপলাম্ত্রসমূহ এবং দূরপ্রাচ্যের (ব্রন্মদেশ, মালয় ও জাভা) তুলনীয় 
নিদর্শনগুলিকে একটি বিশেষ শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত করা সঙ্গত মনে করেন মার্কিন পুরাতাত্তিক 
মুভিয়াস (Movius) | দূর অতীতে প্লাইস্টোসীন পর্বে একদা কাশ্মীরে সম্প্রসারিত 
হিমবাহগুলির ইতিহাস যে ইয়োরোপের অস্তর্গত আল্পস্‌ পর্বতমালায় চিহ্নিত 
হিমযুগসমূহের ইতিবৃত্তমালার সমান্তরাল সে বিষয়ে আলোকপাত করেন বরেণ্য ভূতাত্ত্বিক 
ডে টেরা (De Terra) | তার দ্বারা পরিচালিত অভিযানসমূহ অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে 
থাকবে। এই সব বৈজ্ঞানিক নিরিখের ভিত্তিতে অনুমান করা হয়, ভারতে প্রত্বাশ্মীয় 
আয়ুধের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছে প্লাইস্টোসীন পর্বে দ্বিতীয় হিমবাহযুগের শেষার্ষে 
কিংবা দ্বিতীয় অন্তহিমবাহ পর্বের প্রারস্ত কালে। বর্ণিত পর্যবেক্ষণাদির ভিত্তিতে সহজেই 
অনুমান করা যায় পশ্চিম বাংলায় আবিষ্কৃত উপলাস্ত্র অথবা উপল আয়ুধের অসাধারণ 
সংগৃহীত অসংখ্য পুরাপ্রস্তর (প্রত্বাশ্মীয়) যুগীয় হাতিয়ারসমূহের একটি অন্যতম অংশ 
এই উপলান্ত্র এবং যাদের মনে করা যেতে পারে হাত-কুঠারের রূপ-অভিমুখী 
ক্রমবিবর্তনশীল নিদর্শনাবলী | একমুখ (ইউনিফেস) থেকে দ্বিমুখ বোৌইফেস), পরিণতির 
এই পর্যায়গুলি নির্মাণে ও গঠনে স্পষ্টীকৃত। তবে এখানে এই পরিবর্তনশীল অবয়বকে 
এখনও হয়ত প্রাচীনত্বের মাপকাঠি হিসাবে ধরা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন পরিপূর্ণ 
Cares নিরীক্ষা ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক Frans পশ্চিমবঙ্গের কোয়াটের্নারি ভূতত্ব আরও 
গবেষণার দাবী রাখে তার আপন গুরুত্বে। 


এই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে আদি-প্রত্বাশ্মীয় হাত-কুঠারের উপস্থিতিও সবিশেষ 
তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্বুতত্ব অধিকার কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিযান 
এই প্রসঙ্গটিকে যথার্থ গুরুত্ব দান করেছে। ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালে এই বিভাগের 
প্রচেষ্টায় ও উদ্যমে বীকুড়া জেলায় অবস্থিত শুশুনিয়া পাহাড়ের চতুষ্পার্শস্ ক্ষয় প্রাপ্ত 
শৈল উপত্যকায় আবিষ্কৃত হয়েছে সহস্রাধিক আযশিউলীয় হাত-কুঠার ও অন্যান্য আয়ুধের 
নিদর্শন। এ-ছাড়া এতদঞ্চলে সংগৃহীত হয়েছে কোয়াটের্নারি যুগের বিলুপ্ত প্রাণীকুলের 
্স্তরীভূত অস্থি তথা জীবাশ্ম । ক্রমান্বয় ধারায় পরিচালিত এইসব অনুসন্ধানকার্যের 
ফলে আলোকিত হয়েছে দূর অতীতের একটি রহস্যপূর্ণ অধ্যায়। শুশুনিয়া অঞ্চলে 
আবিষ্কৃত আদি-প্রত্বাশ্মীয় আয়ুধের মূল দিগস্ত এখানকার এক বিচ্ছিন্ন উপলস্তর যা 
সঞ্চিত হয়েছে প্লাইস্টোসীন পর্বের কোন আর্দ্যুগের সমাপ্তি কালে হয়ত উরম হিমবাহ 


পশ্চিমবঙ্গে আদি প্রস্তর যুগ ৪৯ 


পর্বের পূর্বে কিংবা তার প্রথম দিকে | এখানে আবিষ্কৃত প্রস্তরীভূত কঙ্কালগুলি সাক্ষ্য 
দেয় অতীতের এক বিলুপ্ত AA PCTS | এই প্রাণীকুলের মূল দিগন্ত সম্ভবতঃ প্লাইস্টোসীন 
কালের শেষার্ধ। প্রাগৈতিহাসিক কালে POST আফ্রিকার মত একটি খণ্ড অরণ্য ও 
তৃণভূমি যে এখানে বিদ্যমান ছিল সন্দেহ C আর্দ্রযুগের প্রভাবে স্বভাবতই এখানে 
সৃষ্টি হয়েছে গভীর বনানী, বিস্তৃত তৃণভূমি ও জলাশয়। বাঁকুড়া-পুরুলিয়া সীমান্তের 
উত্তরে প্রসারিত দেখা যায় ছবির মত দাড়িয়ে থাকা এক পাহাড়-সমষ্টি। এদের ঢালু 
সানুদেশ অতীতের MAIL SM রূপাস্তরিত হওয়া একান্তই স্বাভাবিক। এখনও 
বৃষ্টিপাতজনিত কারণে এই অঞ্চলটি কিছুটা ডুবে যায়। পশ্চিমবঙ্গের পুরাতত্ত অধিকারের 
দ্বারা শুশুনিয়া অঞ্চলে যে সব প্রাণীর ফসিল সংগৃহীত হয়েছে তাদের একটি সীমিত 
তালিকা নিম্নে দেওয়া হল। এই তালিকায় উল্লিখিত জীবকুলের পরিচয়জ্ঞাপক নামও 
যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে। 


শুশুনিয়ার পরিমণ্ডলে আবিষ্কৃত জীবাশ্মের পরিচয় 


১। পেলিওলোক্সোডন নেমাডিকাস (Palaeoloxodon namadicas)—হাতী। 
২। প্যান্থেরা “সি এফ’ লিও (Panthera cf. Leo) সিংহ। 

Ol ইকুয়াস নেমাডিকাস (Equus namadicas)— ঘোড়া | 

8| বোস্‌ নেমাডিকাস (Bos namadicas)—TAI পশু | 

tl JANA পেলাইগ্ডিকাস (Bubalas palaeindicas)—3f23 | 

৬। জিরাফা (01799) _জিরাফ। 

৭। বুবালিস বুবালিস লিন্‌ (Bubalis Bubalis linn)— 

rl RZA এসপি (Hystrix sP.)-_শজারু (শল্লকী)। 

>| CMT (Rodent)—3f3« CNE | 


এই সব প্রাণীর দেহাবশেষ ছাড়া শুশুনিয়া অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে হায়না, 
শুকর, হরিণ, কচ্ছপ ও কুমীরের শিলীভূত কঙ্কালের নিদর্শন। এই আবিষ্ট্রিয়ায় ভারতের 
we সর্বেক্ষণের (জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া) দানও অসামান্য | এই অধুনা 
মরুকল্প ভূখণ্ডে কোয়াটের্নারি যুগে কুমীরের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে এই বিভাগে কর্মরত 
বিজ্ঞানী শ্রীসুধাংশু বিশ্বাস ও শ্রীদিলীপ দাশশর্মা কর্তৃক পরিচালিত এক অভিযান ও 
সমীক্ষার ANT | হায়নার (Crocuta 51৬21017515) নিদর্শন, একটি ভগ্ন চোয়াল আবিষ্কৃত 
হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পরিব্রাজক সমিতির দ্বারা কয়েক বছর আগে পরিচালিত এক 
অনুসন্ধান কালে। একমাত্র ৬নং (জিরাফ) ছাড়া উপরে প্রদত্ত পরিচয়গুলি সবই নিরূপিত 
প্রাগৈতিহাসিক _- s 


৫০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


হয়েছে ভারতের SSS সর্বেক্ষণের প্রাচীন প্রাণীতত্ব ও OVS সংক্রাস্ত বিজ্ঞান শাখার 
(পেলিওন্টোলজি ত্যাণ্ড স্থ্যাটিগ্রাফি ডিভিসন)বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। ৬নং নমুনাটি 
(স্পেসিমেন) পরীক্ষিত হয়েছে ভারতের প্রাণীতত্ত্ সর্বেক্ষণের (জুলজিক্যাল সার্ভে 
অফ ইণ্ডিয়া) বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। 


শুশুনিয়া পাহাড়ের চারপাশে আবিষ্কৃত জীবাশ্বাগুলি সম্ভবত কয়েকটি ক্রমান্বয় 
পর্বের সাক্ষ্য দেয়। এর আদিপর্ব ছিল সম্ভবত মানুষের হাতে প্রস্তুত প্রত্বাশ্মীয় আয়ুধের 
সমকালীন | এই অঞ্চলের প্রাচীন আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং এখানকার 
অতীত পশু জীবনের ইতিবৃত্তকে আরও স্পষ্টভাবে জানতে গেলে প্রয়োজন বিস্তৃততর 
উতখনন ও অনুসন্ধান | 


এখানে আবিষ্কৃত সিংহ ও হায়নার ফসিলদ্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন 
ভারত সরকারের ভূতাত্বিকগণ। এ বিষয়ে একটি মূল্যবান্‌ নিবন্ধ রচনা করেছেন প্রাচীন 
প্রাণী-জীবন সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানী শ্রীঅরুণকুমার দত্ত। শ্রীদত্ত দেখিয়েছেন যে শুশুনিয়ার 
সিংহ ছিল ভারতের জীবিত সিংহের চেয়েও বৃহদাকৃতি এবং হায়নাটি ছিল শিবালিকের 
(পিঞ্জোর) চিত্রিত হায়নার (স্পটেড হায়না) সমগোত্রীয়। শুশুনিয়ার বিলুপ্ত কেশরী 
সম্বন্ধে তার 3T 3] — | 


"The size of the present specimen is larger than the Indian 
living lion. This variation in size is more or less similar with 
fossil and living tigers as is seen in case of tigers of China, Java 
and other countries where the Pleistocene tiger is much bigger 
than even the Indian tiger, the biggest of all living tigers. It is 
believed that the small size of so many insular species has 
something to do with restricted habitat, inbreeding, scarcity of 
food etc.” 


এই প্রসঙ্গে শ্রীদত্ত উল্লেখ করেছেন যে, বিগত শতকেও বিহারে অবস্থিত 
পালামৌ এবং ভারতের অন্যান্য কয়েটি অঞ্চলে সিংহের বাস ছিল। 


১. শ্রী অরুণকুমার দত্ত £ “অকারেন্স অফ ফসিল লায়ন আযগু স্পটেড হায়না ফ্রম 
প্লাইস্টোসীন ডিপোজিটস অফ শুশুনিয়া”, জারনাল অফ দি জিওলজিকাল সোসাইটি 
অফ ইণ্ডিয়া, সপ্তদশ খণ্ড, তৃতীয় সংখ্যা, ১৯৭৬, পৃষ্ঠা £ ৩৮৮ WS 


পশ্চিমবঙ্গে আদি MBA যুগ ৫১ 


হায়নার ফসিল সম্বন্ধে শ্রীদত্তের সিদ্ধাত্তও বিশেষ তাৎপর্যময়। এই ফসিল যে 
একদা শিবালিকে বিচরণশীল হায়নার সমগোত্রীয় ছিল সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হওয়া 
গেছে। শিবালিকের হায়নার (ক্রোকুটা শিবালেন্সিস) ছিল চিত্রিত অথবা ফৌটাদাগ 
সম্বলিত (স্পটেড)। এদের আগমন দেখা গেছে পিঞ্জোরে চিহ্নিত প্লায়োসীন পর্বের 
দিশন্তে। ইয়োরোপ, আফ্রিকা ও চীনদেশে এদের আধিপত্য ছিল প্লাইস্টোসীনের সমাপ্তি 
ALG | অধুনা এদের উপস্থিতি কেবলমাত্র আফ্রিকা মহাদেশে সীমাবন্ধ। সম্ভবতঃ প্রতিকূল 
পরিবেশজনিত কারণে চিত্রিত হায়না শিবালিকের পার্বত্য ভূমি ত্যাগ করে দক্ষিণ অভিমুখে 
গমন BA শ্রীদত্তের মন্তব্য নিম্নে উদ্ধৃত করা হল। 


"Crocuta sivalensis appeared in Pinjor horizon in upper 
Pleistocene. The spotted hyena lived in wide areas of Europe, 
Africa and China and dominated till the end of Pleistocene finally 
surviving only in Africa at the present day. Crocuta has probably 
migrated from Siwaliks to Peninsular India during Pleistocene 
may be due to unfavourable climatic conditions and for non- 


availability of food.'? 


এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে যে, ভারতের ডোরাকাটা হায়নাকুল (স্ট্রাইপড 
হায়না) যাদের এখন সন্ধান মেলে, তাদের মূল ভূমি ছিল আফ্রিকা | এই মহাদেশে 
এদের আর দেখা যায় না, যেমন এখন চিত্রিত তথা ফৌটাদাগ-সম্বলিত এই প্রাণীকে 
দেখা যায় না তার অতীতের প্রিয় ভূমি ভারতীয় উপমহাদেশে 


আবিষ্কৃত বুবালিস বুবালিস লিন্‌ সম্বন্ধে ভারতের প্রাণীতত্ব সর্বেক্ষণের বিজ্ঞানী 
শ্রীমনোময় ঘোষ তাঁর প্রতিবেদনে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, এই পশুকুলকে 
এখন ভারতে একমাত্র অসমের কোন কোন অংশে দেখা যায়। এরা বাস করে নদীর 
সান্নিধ্যে তৃণাচ্ছাদিত নিম্ন ভূমিতে। শ্যামল সমতল ভূমিতে তাদের বিচরণ যথাবিহিত 
রূপে প্রাগৈতিহাসিক শুশুনিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর আলোকপাত PNA | 
বুবালিস বুবালিস লিন্‌ সম্বন্ধে শ্রীঘোষ কর্তৃক প্রদত্ত মন্তব্যটি নিম্নে উদ্ধৃত করা হল। 


১. শ্রীঅরুণকুমার দত্ত 2 “অকারেন্স অফ ফসিল লায়ন Sle স্পটেড হায়না ফ্রম 
প্লাইস্টোসীন ডিপোজিটস অফ শুশুনিয়া”, জারনাল অফ দি জিওলজিকাল সোসাইটি 
অফ ইণ্ডিয়া, সপ্তদশ খণ্ড, তৃতীয় সংখ্যা, ১৯৭৬, পৃষ্ঠা 2 ৩৯০ WF | 


৫২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


"This animal at present nowhere found except in some 
parts of Assam in India, inhabit the low level grassy plains, 


close to riverine beds." 


শুশুনিয়ায় আবিষ্কৃত অন্যান্য জীবাশ্মগুলিও এই প্রসঙ্গে যথাযথ ভাবে 
আলোকসম্পাতকারী। প্রকৃতপক্ষে প্রাগৈতিহাসিক শুশুনিয়ার ইতিবৃত্ত যেন এক হারানো 
আরণ্যক ভূখণ্ডের ইতিহাস। এখানে পর্যবেক্ষণলব নানা তথ্য আজ উপস্থিত হয়েছে 
বিজ্ঞানীবৃত্তের বিবেচনার নিমিত্ত। ইতিপূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে, এই অঞ্চলে কুমীরের 
অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতের POS সর্বেক্ষণের পক্ষ থেকে পরিচালিত অভিযানের 
ফলে। উল্লিখিত অভিযানের দ্বারা দীর্ঘদত্ত হস্তী ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রাণীর ফসিল ও 
আদি-প্রত্বাশ্মর আয়ুধ পুনর্বার সংগৃহীত হয়েছে বাঁকুড়ার এই শিলাকীর্ণ প্রাচীন ভূখণ্ডে | 


কয়েকটি স্থানে অথবা পরিমণ্ডলে | এইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বাঁকুড়া জেলায় প্রবাহিত 
কংসাবতী নদীর তীরে অবস্থিত কাকরাদীড়ার তটচত্বর এবং পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত 
অযোধ্যা-বাঘমুণ্ডি পাহাড়ের নিকট বর্তী শিলাকীর্ণ উপত্যকা কিংবা বনভূমি | এখানে 
স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৫৯ সালে ভারতের ARTS সর্বেক্ষণের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট 
প্রত্নতাত্ত্বিক ভি. ডি. কুমারস্বামী কংসাবতী ও তার দুই উপনদী কুমারী এবং জাম-এর 
তীর অনুসরণ করে পুরুলিয়া ও তার সন্নিহিত বাঁকুড়া জেলায় আযশিউলীয় শ্রেণীর 
হাত-কুঠারের সন্ধান পান। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্বতত্ব অধিকারের প্রচেষ্টায় আযশিউলীয় 
হাত-কুঠারের বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে মাঠা অরণ্যে এবং হনুমতী, আমরুহাসা, 
নাংসাই ও বান্দু এই প্রাচীন স্রোতস্বতীগুলির তটচুড়ায় (Fs) ও পরিবেশে। পার্বত্য 
শ্রোতস্বতীগুলির উচ্চ তটচুড়া যেমন সাক্ষ্য দেয় এক সুদীর্ঘ সময়ের যার মধ্যে 
জলধারাসমূহ পাষাণ-শয্যাকে ক্ষয় করে অনেকখানি নীচে নেমে গেছে, তেমন উপল 
স্তরগুলি ও বালুকার উপস্থিতি প্রমাণ করে কোয়াটের্নারি পর্বের আর্দ্রতা ও IFSA 
আবহাওয়ার পরম্পরাকে। 


রাজ্যে আবিষ্কৃত প্রত্বাশ্মীয় আয়ুধসমূহের মধ্যে একটি বিশিষ্ট শ্রেণীর গুরুত্ব 
Mart | এগুলি শিলীভূত কাঠের। বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক শক্ষশয্যাচিহিত এই ধরনের কিছু 
এবং মেদিনীপুর জেলায় প্রবাহিত কাসাই (কংসাবতী) নদীর তটচত্বরে লালগড়ে। এগুলি 
স্মরণ করিয়ে দেবে দূর প্রাচ্যে আবিষ্কৃত তুলনীয় নিদর্শনসমূহকে। শিলীভূত দারুখণ্ডে নির্মিত 
হাতিয়ারগুলি যে সামগ্রিকভাবে এক বিস্তৃততর গবেষণার বিষয়বস্তু সন্দেহ নেই। 


চতুর্থ অধ্যায় 
পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ 


প্লাইস্টোসীন যুগের শেষ দিকে মানব-সংস্কৃতির fafest অগ্রগতি কিংবা পরিণতি 
অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ইয়োরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার পটভূমিকায় এই অগ্রগতির 
তাৎপর্যকে বিশ্লেষণ করা যায়। সুদূর আমেরিকায় অতিবাহিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক 
প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতির গুরুত্বও এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য । পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলিতে যে বিস্তৃত 
পটভূমিকা আলোচিত হয়েছে তারই প্রেক্ষাপটে বিবেচ্য ভারতের প্রাগৈতিহাসিক যুগ, 
SPAT দিগস্ত থেকে নবাশ্মীয় দিশস্ত পর্যস্ত। প্রাচীনতম কালে মানব-সংস্কৃতির যখন 
প্রথম উন্মেষ ঘটেছে, তার পর থেকে অগ্রগতির ক্রুমান্বয় পর্যায়গুলি রেখে গেছে 
তাদের পরিচয়যোগ্য সাক্ষ্য, নানা শ্রেণীর হাতিয়ার কিংবা সরপ্রাম। আদিপ্রত্রাশ্মীয় পর্বের 
হাত-কুঠার ও উপলান্ত্র যখন জীবন-প্রণালীর CHA থেকে অস্তহিতি তখন তাদের স্থান 
অধিকার করেছে আর-এক ধরনের নিদর্শনাবলী। প্রত্বুতত্বে এদের নানাভাবে শ্রেণীকৃত 
করা হয়। ভারতে এইসব দৃষ্টান্তকে শেষ প্রত্রাশ্মীয় (আপার পেলিওলিথিক) অথবা 
মধ্য প্রস্তরযুগীয় (মিডল স্টোন এজ) অথবা ২নং শ্রেণীর (সিরিজ টু) হাতিয়ার রূপে 
বর্ণনা করা হয়। প্রয়োজনানুসারে একদা ইয়োরোপে প্রচলিত শেষপ্রত্বাশ্মীয়দৃষ্টাত্তগুলির 
বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক আকৃতি ও প্রযুক্তিগত দিক্‌টি স্মরণ করা হয় ভারতে আবিষ্কৃত তুলনীয় 
নিদর্শনাবলীর প্রসঙ্গে | এইভাবে মুস্টেরীয় (Mousterian), লেভালোয়া (Levallois) 
কিংবা অরিগ্নেসীয় (Aurignacian) হাতিয়ারের নির্মাণশৈলীর আলোচনা প্রায়ই 
অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আদিপ্রত্াশ্মীয় শ্রেণীর হাতিয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্য তার আকৃতি 
ও শক্কচ্ছেদ (ফ্রেকিং) প্রণালী | এই সুত্র ধরেই তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীভুক্ত করা যায় 
যেমন GOS স্তরসমূহ নিরূপণ করতে সাহায্য করে তাদের প্রাটীনত্ব। প্লাইস্টোসীন 
PATIOS তাদের উপস্থিতি দেখা গেলেও এই পর্বের শেষ দিকে নির্মিত অস্ত্রগুলি একটি 


৫৪ প্রাগেতিহাসিক বাংলা 


নবীন অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে। শেষ-প্রত্নাশ্মীয় আযুধগুলির আকৃতি 
সাধারণতঃ অপেক্ষাকৃত ছোট এবং এগুলির নির্মাণে সূক্ষ্ম কণাবিশিষ্ট পাথরকে বাছাই 
করবার প্রবণতা দেখা A | আদি-প্রত্বাশ্মীয় আয়ুধ যেমন প্রধানতঃ মুষ্টি দ্বারা ধৃত হয়েছে 
এই পরবর্তী নিদর্শনসমূহ তেমন প্রায়শঃই ক্ষেপণের উপযোগী কিংবা উন্নততর 
জীবনযাপনের জন্য নির্মিত। 


ভারতে ইতিপূর্বে যে সব অঞ্চলে শেষ প্রত্বাশ্মীয় আয়ুধ আবিষ্কৃত হয়েছে তাদের 
মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য নর্মদা উপত্যকায় অবস্থিত মাহেশ্বর, গোদাবরী উপত্যকায় 
অবস্থিত নেভাসা, মধ্যভারতের অন্তর্গত দামো ও বুন্দেলখণ্ড, অন্ধ প্রদেশের অন্তর্গত 
নাগার্জনকোণ্ুইত্যাদি। এই সব স্থানে আবিষ্কৃত শেষ-প্রত্বাশ্মীয় নিদর্শনাবলীর গুরুত্ব 
অপরিসীম। নেভাসায় এই দৃষ্টাত্তগুলিকে দেখা গেছে প্লাইস্টোসীন পর্বে বিচরণশীল 
গাভীকুল “বোস্‌ নেমাডিকাসে”র (Bos namadicus) প্রস্তরীভূত দেহাবশেষের সঙ্গে 
সংশ্লিষ্ট অবস্থায়। “বোস্‌ নেমাডিকাসে'র ফসিল এবং বিবর্তিত আয়ুধের এই উপস্থিতি 
থেকে প্রতীয়মান হয়, ২নং শ্রেণীর (Series IT) আয়ুধের দিগস্তও প্লাইস্টোসীন পর্বে 
প্রসারিত। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের দ্বারা, বিশেষতঃ জৈব-জীবনজ্ঞাপক স্তরতত্ত্বের ( Bio- 
stratigraphy) ভিত্তিতে শেষ-প্রত্বাশ্মীয় তথা ২নং শ্রেণীর আয়ুধগুলিকে মুলতঃ 
প্লাইস্টোসীন পর্বের সমাপ্তি কালে প্রায় অর্ধলক্ষ বছর থেকে প্রারম্ভিত এক নবীন পর্বে 
নির্দেশ করা যায়। এই আয়ুধগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য খাজ-সমন্বিত টাছবার 
সরঞ্জাম, সুক্ষ্মাগ্র ফলা এবং ইয়োরোপে প্রাপ্ত চন্দ্রকলার আকৃতি নিদর্শন। খাজ-সমন্বিত 
টাছবার অস্ত্রগুলি (হলো GEA) কখনও তীক্ষ অগ্রভাগবিশিষ্ট। শেষপপ্রত্বাশ্মীয় 
নিদর্শনাবলীর এক বিশেষ উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে | 


সাধারণতঃ প্রস্তর যুগের সংস্কৃতিতেও একটি আশ্চর্য পরম্পরার সন্ধান পাওয়া 
যায়। এই পরম্পরার গতি পরিলক্ষিত হয় আরও দূর অতীত কিংবা নবীনতর যুগবৃত্তের 
প্রতি। সুক্ষ্ম কণাবিশিষ্ট পাথরে নির্মিত এই আয়ুধগুলি স্পষ্টতঃই সাক্ষ্য দেয় এক নবীন 
সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতার। এখানে “সংস্কৃতি'র অর্থ অবশ্যই প্রাচীন পর্বসমূহে অতিবাহিত 
মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চেতনা ও পদ্ধতিসূচক। পশ্চিম বাংলার যে সব অঞ্চলে 
শেষপ্রত্বাশ্মীয় আয়ুধ আবিষ্কৃত হয়েছে তাদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য শুশুনিয়া 
পাহাড়ের চারপাশে প্রসারিত ক্ষয়প্রাপ্ত শৈলভূমি, পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত বিভিন্ন 
শিলাকীর্ণ প্রান্তর ও উপত্যকা, মেদিনীপুর জেলায় প্রবাহিত সুবর্ণরেখা নদীর দক্ষিণ 
পশ্চিমে প্রসারিত শৈল উপত্যকা ও সংগঠন, বীরভূম জেলার বিভিন্ন অঞ্চল এবং 


পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ ৫৫ 


তটভূমি। এ-ছাড়া এই শ্রেণীর নিদর্শনাবলী ও তাদের পরবর্তী দৃষ্টাত্তসমূহকে প্রায়শই 
দেখা যায় এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে ছড়িয়ে আছে ক্ষু্রাশ্মীয় গোত্রের নানা দৃষ্টাস্ত। 


শেষপ্রত্বাশ্মীয় হাতিয়ার প্রসঙ্গে পুনর্বার স্মরণ করা চলে তাদের গঠন-প্রকৃতি। 
এই গঠন-প্রকৃতিতে প্রায় সর্বদাই প্রতিফলিত হয় এমন এক আঙ্গিক যেখানে অস্পষ্টভাবে 
কিংবা আরও প্রত্যক্ষরূপে বিদ্যমান প্রাচীনতর রীতির স্পর্শ। এদের নির্মাণেও পর্যবেক্ষিত 
হবে মধ্য-প্লাইস্টোসীন পর্বে সবিশেষভাবে প্রচলিত বিভিন্ন নিদর্শনাবলীর বিলীয়মান 
রূপকল্পনা। পশ্চিম বাংলার শৈলাঞ্চলের মধ্যে ও তার পটভূমিকায় এই আয়ুধগুলিকে 
প্রায়ই দেখা যায় এক-একটি নদী কিংবা শ্রোতম্বতীবাহিত বালুকাময় স্তরে। ক্ষুদ্রাকৃতি 
উপলসমনধ্বিত এই প্রাগৈতিহাসিক স্তরগুলি সাধারণতঃ এখন রৌদ্র, বৃষ্টি ও আবহাওয়ার 
প্রভাবে বিশেষতঃ অল্লজানের সংস্পর্শে রক্তাভ অথবা গাঢ় হলুদ রং ধারণ করেছে। 
অনেক সময়ে ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন যুগের হাতিয়ারকে এক সঙ্গে দেখা গেলেও তাদের মূল 
দিগন্ত স্ব স্ব সীমায় নির্দিষ্ট বৃষ্টির ভাঙ্গনে, প্লাবনজনিত কারণে অথবা মানুষের হস্তক্ষেপে 
প্রাচীন ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনসাধন সর্বজনবিদিত। এই রাজ্যে প্রায়ই শেষপ্রত্রাশ্মীয় আয়ুধের 
উপস্থিতিকে পর্যবেক্ষণ করা যায় একটি বিশিষ্ট প্রেক্ষাপটে। পুরুলিয়া জেলায় বাঘমুণ্ডি 
শৈলমালার অদূরে প্রবাহিত EOS বান্দু-র তীরে দেউলটাঁড়ে প্রস্তর যুগীয় আয়ুধের 
পরম্পরাগত অবস্থিতি নিম্নরূপ 2— 


স্তরের বর্ণনা পুরাবস্তু কিংবা প্রাপ্ত 
ক্রমিক সংখ্যা আয়ুধের শ্রেণীগত পরিচয় 

(3) বালুকামিশ্রিত ‘কৃষ্ণ-লোহিত’ গোষ্ঠীর 
মৃত্তিকা । ইতস্ততঃ OPH কৌলাল এবং 
PIAS | ক্ষুদ্রাশ্মর নিদর্শন। 

(3) জমাট বালুকাময় কষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনাবলী। 
স্তর। অনগ্রসর কিংবা আরওপুরাতন 
ক্করাকীর্ণ। শ্রেণীর দৃষ্টান্তসমূহ। 

(৩) জমাট উপলস্তর আদি-প্রত্রাশ্মীয় গোত্রের 


কিংবা নদীবাহিত আ্যাশ্যিউলীয় হাত-কুঠার। 

উপলের সমাবেশ। বাদামী রং-এর আস্তরণ ধরা 
শেষপ্রত্বাশ্মীয় ছেদক অথবা 
ক্লীভার’(Cleaver) | 


(8) নিননতম পাষাণ শয্যা। 


৫৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


বান্দু-র স্লোতশয্যা থেকে তটচুড়া কিংবা খাড়াইয়ের উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট।৩নং 
স্তরে শেষ-প্রত্বাশ্মীয় ছেদকটিকে দেখা গেছে গড়িয়ে পড়া অবস্থায়। অপরপক্ষে, হাত- 
কুঠারটিকে পর্যবেক্ষণ করা গেছে সংশ্লিষ্ট স্তরের সঙ্গে জমাট অবস্থায়। সাধারণতঃ, 
আদি-প্রত্বাশ্মর ও শেষ প্রত্বাশ্মর আয়ুধসমূহের মধ্যে যে পারস্পরিক সানিধ্য দৃষ্টিগোচর 
হয় তার মূল কারণ এই দুই শ্রেণীর নিদর্শনাবলীর দিগন্ত একই, সেই দীর্ঘকাল ব্যাপ্ত 
প্লাইস্টোসীন যুগ। 


বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত শুশুনিয়া পাহাড়ের চারদিকে প্রসারিত ক্ষয়প্রাপ্ত 
শৈলভূমিতে প্রস্তরযুগের যে সব নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে তাদেরও পরম্পরায় একই 
চিত্র আভাসিত। এখানেও শেষপ্রত্বাশ্মীয় আয়ুধের উপস্থিতি ঘটেছে জমাট উপলরাশির 
সান্নিধ্যে প্লাইস্টোসীন পর্বের বালুকাময় ভূত্তরে | রাজ্যে যেখানে মাকড়া পাথরের সংগঠন 
প্রাধান্য লাভ করেছে সেখানে এই শ্রেণীর দৃষ্টাস্তগুলিকে দেখা যাবে তুলনীয় পটভূমিকায় 
PETE স্তরবৃত্তে। এদেরও প্রাচীনত্ব নিহিত কোয়াটের্নারির গভীরে। প্রকৃতপক্ষে রাজ্যের 
শৈলাঞ্চলে ও প্ৰাচীন পাললিক ভূমিতে শেষপ্রত্াশ্মীয় আয়ুধের উপস্থিতি বিশেষভাবে 
তাৎপর্যময়। অবশ্য এক দিক্‌ থেকে স্বতন্ত্র গুরুত্বের অধিকারী ২৪ পরগনা জেলায় গঙ্গার 
তটভূমিতে অবস্থিত দেউলপোতায় আবিষ্কৃত শেষ প্রত্বাশ্মীয় নিদর্শনাবলীর বৈচিত্র্য ও 
বৈশিষ্ট্য। এখানে সংগৃহীত ফ্রিন্ট জাতীয় চার্ট ও কোন কোন ক্ষেত্রে চ্যালসেডোনি প্রস্তুরে 
নির্মিত বিভিন্ন ক্ষুদ্রায়তন আয়ুধ, শন্ধ ও প্রস্তরপিণ্ড যে এক প্রাগৈতিহাসিক জনজীবনের 
সাক্ষ্য দেয় সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হবার ফলে চার্ট প্রস্তরের 
আয়ুধগুলির গায়ে ঘন বেগুনী-নীল রং-এর ‘মরিচা’ অর্থাৎ “প্যাটিনা” (Patina) দেখা 
WA | আয়ুধ, শক্ ও প্রস্তর পিগুসমূহের পারস্পরিক সামীপ্য দেখে অনুমান করা যায় 
যে, ডায়মণ্ডহারবারের সামান্য উত্তরে অবস্থিত এই স্থানে হয়ত কোন উচ্চতর ও কঙ্করাবৃত 
ধ্বংসাবশেষ নিহিত আছে গাঙ্গেয় পাললিক সমাবেশের নীচে। দেউলপোতার বাঁকে 
সম্ভবত ভূমিক্ষয়জনিত কারণে আলোড়িত স্তরবিন্যাস থেকে উদঘাটিত হয়েছে এক 
হারানো প্রত্বক্ষেত্রের এক অসামান্য রহস্য | এখানে এঁতিহাসিক পর্বের নানা নিদর্শনও 
ছড়িয়ে আছে নদীতরঙ্গকৃত ভূমিক্ষয়ের কারণে। 


পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় আবিষ্কৃত ক্ষুদ্াশ্মীয় শ্রেণীর নিদর্শনাবলীর অবস্থান 
ও আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য এখানে অবহিত হতে হবে যে, শেষ- 
্রত্বাশ্মর ও ক্ষুদ্রাশ্মর অস্ত্রাদির অস্তবর্তী কালে নিশ্চয়ই কোন বিবর্তন রেখা আছে যার 


পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ ৫৭ 


FABIA | এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে প্রত্রাশ্মীয় আয়ুধের প্রচলন যখন সমাপ্তির 
পর্যায়ে উপনীত হল তখন থেকেই সূচীত হল নবীনতর হাতিয়ারের DEI I বিভিন্ন 
পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এইভাবে ক্রমশঃ দেখা দিল ক্ষুদ্রাশ্মীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামের অসংখ্য 
নিদর্শন যাদের সন্ধান পাওয়া যাবে রাজ্যের নানা প্রাচীন উপত্যকায়, নদ্য-তটচত্বরে 
কিংবা একদা মানব-জীবনের সঙ্গে বিজরিত পাহাড়তলির বিভিন্ন আরণ্যক ও শিলাকীর্ণ 
পরিবেশে | এইখানেই নিহিত হোলোসীন যুগের জীবনরহস্য ও সেই যুগে গঠিত 
খাদ্যাধেষী মানবের সমাজবৃত্তের আলোছায়ার ইতিকথা | সুতরাং প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতির 
অমূল্য নিদর্শন যে এই ক্ষুদ্রাশ্মীয় অস্ত্র বা সরঞ্জাম সে বিষয়ে পুরাতাত্তবিকদের মধ্যে কোন 
দ্বিমত নেই। মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান ও বীরভূম জেলার নানা জায়গায় 
আবিষ্কৃত হয়েছে এই শ্রেণীর বহুসংখ্যক নিদর্শন। ভারতীয় পুরাতত্ত সর্বেক্ষণ, কলকাতা 
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ব বিভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গের Agog অধিকারের দান এ বিষয়ে 
সর্বাধিক। প্রত্বুতত্ব অধিকারের ক্রমান্বয় প্রচেষ্টায় রাজ্যের প্রা একশতটি স্থান থেকে 
সংগৃহীত হয়েছে বৈচিত্র্যময় নানা ক্ষুদ্রাশ্মর আয়ুধ বা নিদর্শন। অনেক সময়ে এগুলিকে 
দেখা গেছে যেন এক একটি হারিয়ে যাওয়া নির্মাণ স্থলের প্রেক্ষাপটে। প্রস্তরযুগীয় এই 
নির্মাণশালার ইতিহাস ও এখানে অনুসৃত প্রযুক্তি ও রীতি অবশ্যই সবিশেষরূপে 
তাৎপর্যময়। 


প্লাইস্টোসীন ও হোলোসীন পর্বদ্ধয়ের মধ্যবর্তী fore এক বিশিষ্ট গুরুত্বের 
অধিকারী সন্দেহ নেই। তবে প্রশ্ন, এই যুগে কোন্‌ ধরনের মানুষ বাংলায় তাদের অনিশ্চিত 
জীবনধারাকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেছে? এই জিজ্ঞাসা ধ্বনিত হবে আরও দূর 
অতীতের বিবর্তন প্রসঙ্গে। এ কথা সর্বজনবিদিত যে, ভারতে মানুষের প্রথম তথা 
এর দেহ-সংগঠনে। শিবালিকে আবিষ্কৃত ফসিলসমূহ থেকে জানা যায় যে,এক কোটি 
বছরেরও আগে জীবিত এই বানরকুলের অবয়বে প্রথম প্রকাশ পায় মনুষ্যদেহের বৈশিষ্ট্য 
এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, রামাপিথেকাস-এর ক্ষমতা ছিল দু-পায়ে ভর দিয়ে 
দাড়াবার। প্রত্বুবিদদের ধারণায়, এই রামাপিথেকাস ও তার সমসাময়িক আফ্রিকার 
কেনিয়াপিথেকাস ছিল মানুষের প্রকৃত পিতৃপুরুষ | রামাপিথেকাস-এর পর ভারতে 
আজও আবিষ্কৃত হয় নি এমন কোন নরকঙ্কাল যার প্রাচীনত্ব মানুষের ক্রমিক বিবর্তন 
প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে WHT | এক কথায় প্লাইস্টোসীন পর্বে ভারতে কী শ্রেণীর 
হোমিনিড বিচরণ করেছে সে সম্বন্ধে কোন প্রমাণভিত্তিক ধারণায় উপনীত হওয়া দুষ্কর। 
আজ অবধি ভারতীয় উপমহাদেশে আবিষ্কৃত হয় নি কোন অক্ট্রালোপিথেসিন কিংবা 


৫৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


হোমো ইরেক্টাস-এর ফসিল। আফ্রিকা, যবদ্বীপ ও চীন দেশে এই আবিষ্কার যত এগিয়ে 
গেছে ভারত ও পাকিস্তানে তার তুলনায় কিছুই হয় নি। এই প্রসঙ্গে অতি সাম্প্রতিক 
কালে আলোকপাত করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। ১৯৭৮ সালে ৫ জানুয়ারী, 
বর্তমান লেখক কর্তৃক মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত রামগড়-এর অদূরে প্রবাহিত কংসাবতী 
নদীর বাম তীরে এক প্রাগৈতিহাসিক চত্বরের নিম্নে আবিষ্কৃত হয়েছে অতীত মানবের 
জীবাশ্ম, একটি ভগ্ন চোয়াল। প্রাগৈতিহাসিক চত্বর সমন্বিত এই অঞ্চলটির নাম সিজুয়া। 
উল্লিখিত নিদর্শনটি যে ভারতে আবিষ্কৃত নরকঙ্কালসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম সে বিষয়ে 
নিঃসন্দেহ হয়েছেন ভারতীয় POS সর্বেক্ষণের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা। 


ভারতীয় POG সর্বেক্ষণের অন্তর্গত প্রাচীন প্রাণীবিজ্ঞান ও স্তরতত্ব বিভাগের 
(Palacontology and stratigraphy Division) ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা শ্রী এম. 
ভি. এ. শাস্ত্রী দ্বারা প্রদত্ত রিপেটি-এ কংসাবতী-তীরে আবিষ্কৃত চোয়ালটিকে বর্তমান 
মানবগোষ্ঠী হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স-এর প্রত্যঙ্গ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। 
উল্লিখিত বিভাগের দুই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী শ্রীসুধাংশু বিশ্বাস ও শ্রী অরুণ দত্ত সিজুয়ায় 
আবিষ্কৃত ফসিলটি সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এই প্রাগৈতিহাসিক মানব ছিল 
তরুণ বয়স্ক। তার বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে | এই নিদর্শনটির প্রাচীনত্ব নির্ণয়ের 
জন্য বর্তমান লেখকের সঙ্গে মিলিতভাবে এই স্থানটি পরিদর্শন করেন শ্রীবিশ্বাস ও 
শ্রীদত্ত। এইবার পর্যবেক্ষণকালে আবিষ্কার স্থলটি খনন করা হয় স্তর-বিন্যাসকে আরও 
স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করবার জন্য | বিভিন্ন পরীক্ষার পর ভূতাত্তিকদ্বয় এই সিদ্ধান্তে 
উপনীত হন যে, এই ফসিলটির অবস্থান ঘটেছে প্লাইস্টোসীন পর্বের সীমান্তের পরেই 
হোলোসীনের সূচনায় গঠিত ভূশয্যায়। সমগ্র বিবেচনায় Hog বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে 
উপনীত হয়েছেন যে এর প্রাটীনত্ব মোটামুটি দশ হাজার বছর | তুলনা করে দেখা গেছে 
এই চোয়ালটি মোহেঞ্জোদারো এবং BABA আবিষ্কৃত নরকক্কালসমূহের চেয়েও প্রাচীনতর। 
সিজুয়ায় পর্ববেক্ষিত প্লাইস্টোসীন যুগের সমাবেশের বর্ণ লালচে এবং এর মধ্যে সঞ্চিত 
আছে অতীতের উপলরাশি যা স্বভাবতই প্লাইস্টোসীন পর্বে একটা অতিবাহিত শেষ 
আর্দ্র যুগের সমাপ্তির পরিচায়ক। এই রুক্ষ বালুকায় রক্তাভ স্তরের নীচেই দেখা যাবে 
ধূসর ও হলুদবর্ণের এক ধরনের এঁটেল মাটি। উপলাকীর্ণ রক্তাভ বালুকাস্তরের উপর 
বিস্তীর্ণ আছে লাল ছোপ সম্বলিত হলুদবর্ণের বালুকাময় স্তর | এর পরবর্তী সংগঠনের 
উপরভাগে ছড়িয়ে আছে এক শুক্কতর আবহাওয়ার স্মৃতি হিসাবে ঘুসিং-এর সমারোহ। 
Poetics ঘুসিং মিশ্রিত ভূত্বক-কে পেডোক্যালীয় আবরণ (Pedocalic cap) রূপে 


পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ ৫৯ 


বর্ণনা করা হয়। ভারতীয় SSG সর্বেক্ষণের বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত অনুসারে নীচের রুক্ষ 
ও রক্তাভ বালুকা-শয্যা তুলনীয় বাঁকুড়ায় পর্যবেক্ষিত প্লাইস্টোসীন পর্বের শেষদিকে 
রচিত বালতোড়া সংগঠনের সঙ্গে। 


অপরপক্ষে, উপরিভাগের হলুদ বালুকারাশির সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে বাঁকুড়া জেলার 
আদি হোলোসীন যুগে গঠিত বাবলাডাঙ্গা সমাবেশের সঙ্গে | সিজুয়ায় আবিষ্কৃত মানব- 
প্রত্যঙ্গের অবস্থান ছিল নিম্নের রক্তাভ ও উপলাকীর্ণ বালুকা স্তরের ঠিক উপরেই। 
উপরের লাল ছোপ সম্বলিত হলুদ বালুকাময় টিবি ও চুড়াগুলি সাক্ষ্য দেয় এক প্রাচীন 
তট চত্বরের যার সর্বোচ্চ অংশ কাসাই-এর স্লোতবক্ষ থেকে প্রায় ৫০ ফুট উচু । এই 
তটচত্বরের উচ্চতম অংশ থেকে ফসিলের অবস্থান ছিল প্রায় ৪০ ফুট FATA | এখানে 
উল্লেখ্য, এই প্রাচীন তটচত্বরের উপর ছড়িয়ে আছেশ্রীষ্ট-পূর্ব দ্বিসহত্রকের এক বিলুপ্ত 
তাত্রাশ্্ীয় অধিবসতির চিহ্নাবলী। পাগুরাজার টিবি, ভরতপুর, বাণেশ্বর ডাঙ্গা (বর্ধমান 
জেলা), মহিষদল (বীরভূম জেলা) ইত্যাদি স্থানগুলিতে উৎখননাদির ফলে আবিষ্কৃত 
'লালকালো” কৌলালের সঙ্গে তুলনীয় নানা ভগ্ন নিদর্শন দেখা গেছে সিজুয়ার চত্বরপৃষ্ঠে। 
সুতরাং, সরীষ্ট-পূর্ব দ্বিসহস্রকের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠিত তাত্রযুগের অধিবসতি-ক্ষেত্র থেকে 
আবিষ্কৃত মানব-প্রত্যঙ্গের কালগত দূরত্বও যে অসাধারণ এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ 
নেই। সিজুয়ায় আবিষ্কৃত কঙ্কাল প্রসঙ্গে শ্রী এম, ভি, এ, শাস্ত্রীর একটি মস্তব্য উদ্ধৃত 
করা হল। 


"The present specimen was compared with those of 
Mohenjo-daro and Harappa period, dated approximately 5,000 
years B. P. and appears to be older. It is surmised therefore on 
available evidences, that the age of this specimen could be of 
early Holocene (Approx 10,000 years B. P.). This also forms 


the record of earliest human fossil in India." 


সুতরাং, সমগ্র পরীক্ষান্তে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেল যে কংসাবতী 
তীরে সিজুয়ায় আবিষ্কৃত ফসিলকে আপাততঃ ভারতে প্রাপ্ত প্রাচীনতম মানুষের দেহাবশেষ 
রূপে গণ্য করতে হবে। অবশ্য ভারতে আরও প্রাচটীনতর মানুষ তথা হোমিনিড-এর 
করোটি অথবা অপরাপর অস্থি আবিষ্কারের সম্ভাবনা সব সময়েই রয়েছে। এখন পর্যন্ত 


১। ভারতীয় poy সর্বেক্ষণের অন্তর্গত পোলিওন্টোলজি ও স্ট্রাটি গ্রাফি ডিভিসনের পক্ষ 
থেকে ২৫ জানুয়ারী তারিখে স্বাক্ষরিত পত্রসম্বলিত রিপোর্ট-এর অংশ। 


৬০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


এই আবিষ্কার-প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিবেশী যবদ্বীপের গুরুত্বই সর্বাধিক । এ ছাড়া উল্লেখ্য 
উজবেকিস্তানের অন্তর্গত তেশিক-তাশ্‌-এর পর্বতগুহা যেখানে আবিষ্কৃত হয়েছে এক 
অপ্রাপ্ত বয়স্ক নিয়ানভার্থাল তরুণের ফসিল। সিজুয়ায় আবিষ্কৃত এখন তরুণ “হোমো 
সেপিয়েন্স”-এর ফসিলের ইতিবৃত্ত স্মরণ করিয়ে দেবে প্রাগৈতিহাসিক তেশিক-তাশ্‌ - 
এর সেই বালকের ক্ষণস্থায়ী জীবনকাহিনীকে। 


সিজুয়ার প্রাগৈতিহাসিক মানবের জীবনযাত্রা কেমন ছিল, তা অজ্ঞাত হলেও 
এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, তার জীবন অতিবাহিত হয়েছে শেষ্রত্বাশ্মীয় 
সংস্কৃতির সীমান্তে স্থিত এক অস্তবর্তী অধ্যায়ে। নিশ্চয়ই এই হোমো সেপিয়েন্স মূলতঃ 
ছিল খাদ্যাষেযী ! তবে বর্তমান তথ্যাদির ভিত্তিতে তার গৃহ নির্মাণ, কৃষি ও পশুপালনে 
অভ্যস্ত ছিল কিনা সেকথাও জোর করে বলা যায় না। এখানে একটা বিষয় চিন্তনীয়, 
শুশুনিয়া অঞ্চলে এবং সুবর্ণরেখার উপত্যকায় আদি্রত্বাশ্মীয় পর্বে নির্মিত আযাশ্যিউলীয় 
হাত-কুঠারসমূহে প্রায়ই এমন একটি প্রগতি ও সচেতন প্রয়াসে সৃষ্ট আকৃতিগত রূপ 
দেখা যায় যা মানব বিবর্তনের সুস্পষ্ট অগ্রগতিকেই প্রতিফলিত করে। প্রাগৈতিহাসিক 
বাংলার এই কুঠার নির্মাতা প্রকৃতই হোমো সেপিয়েন্সদের প্রাথমিক কিংবা পরবর্তী ও 
উন্নততর গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত ছিল কিনা তা নির্ধারিত হবে আগামী কালের আবিষ্কারসমূহের 
ভিত্তিতে। বিভিন্ন সম্ভাবনাগুলির মধ্যে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, দূর অতীতে সিজুয়ার 
এই তরুণের লোকাস্তর ঘটে কংসাবতী প্লাবিত জলাভূমিতে পশুমাংস সংগ্রহের নিমিত্ত 
শিকার করার মুহূর্তে | এখানে স্মরণ করা চলে আরও কিছুটা উত্তরে বাঁকুড়া জেলায় 
অবস্থিত খাতড়ায় কংসাবতীর নদ্যতটচত্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে বহু সংখ্যক প্রত্বাশ্মীয় 
আয়ুধ এবং সংশ্লিষ্ট শক্কাদি। 


হোলোসীন পর্বের মধ্যকালে পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর নির্মিত আয়ুধগুলি একটি বিশিষ্ট 
বিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। এই বিবর্তন চিহ্নত করে ক্ষুদ্রাশ্মীয় সংস্কৃতির এক রহস্যময় 
পর্যায়কে। এ বিষয়ে সবিশেষ আলোকপাত করে বর্ধমান জেলায় অবস্থিত দুর্গাপুরের 
নিকটবততী প্রত্ুস্থল বীরভানপুরে পরিচালিত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উৎখনন। দামোদর নদের 
মধ্যে চত্বরে অবস্থিত এই স্থানটিতে ভারতের প্রত্বতত্ব সর্বেক্ষণের পক্ষ থেকে ১৯৫২ 
এবং ১৯৫৭ সালে দুইবার খননকার্য পরিচালিত হয়। এই উৎখনন পরিচালনা করেন 
বিশিষ্ট পুরাতাত্বিক শ্রী বি, বি, লাল। এই খননের ফলে এতদঞ্চলে একদা অতিবাহিত 
এক প্রাগৈতিহাসিক জীবনধারা সম্বন্ধে কিছুটা সুস্পষ্ট ধারণা করা যায়। এখানে ভূ- 
নিম্নে প্রসারিত দেখা যায় বালুকা প্রস্তরের সংগঠন। এই পাষাণ শয্যার উপরিভাগ 


পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তর যুগ ৬১ 


রক্তাভ মাকড়া স্তরে রূপাস্তরিত। ক্রমঃরূপাস্তরিত এই স্তরের উপর সঞ্চিত আছে 
মাকড়া ইত্যাদির SHAH | এরই উপর ছড়িয়ে ছিল ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনাবলী। ক্ষুদ্রাশ্মীয় 
নিদর্শন সমন্বিত স্তরে সেই যুগে নির্মিত কুটারাদির চিহল্ষরূপ খুঁটির নানা গর্ত উন্মোচিত 
হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ | সাধারণতঃ দুগ্ধধবল ও স্ফটিক জাতীয় 
কোয়ার্টজ কিংবা চার্ট, চ্যালসেডনি ইত্যাদি পাথরে শিলীভূত কাঠে নির্মিত এই ক্ষুদ্রাকৃতি 
আয়ুধসমূহ। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্যাদির ভিত্তিতে অনুমান করা হয়, উল্লিখিত ক্ষুদ্রাশ্মীয় 
পর্বে বীরভানপুরের আবহাওয়ায় কিছুটা সমতা এসেছিল। এর আগে অতিবাহিত হয়েছে 
তুলনীয় রূপে অতিবৃষ্টি ও আদ্রতার শেষ পর্ব। স্বভাবতই ক্ষুদ্রাশ্মীয় পর্বের নরম 
আবহাওয়া ছিল গোষ্ঠীজীবনের প্রতিষ্ঠার সহায়ক। তখন অনুকূল আবহাওয়ায় এখানে 
গড়ে উঠেছিল শালগাছ পরিপূর্ণ এক শ্যামল বনানী । এ যুগের পর্ণশালাগুলিও আভাসিত 
করবে যথাযথ ভাবে উন্মেষশীল সমাজ-জীবনের স্থায়িত্ব ও প্রত্যয়কে। তবে মানুষ 
তখনও খাদ্যসংগ্রহকারী। তাদের দ্বারা নির্মিত তথা ব্যবহৃত আয়ুধগুলি দেখে বোঝা 
যায় ত!দের জীবনচর্যার (ইকনমি) ভিত ছিল পশুশিকার। ফল-মূল সংগ্রহের রীতি তো 
ছিল প্রত্বাশ্মীয় পর্ব থেকেই। ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শন সমন্বিত স্তরের উপর ঝটিকাবাহিত 
বালুকার সমাবেশ পর্যবেক্ষিত হয়। এ থেকে ধারণা হয় ক্ষুদ্রাশ্মীয় অধ্যায়ের পর এতদঞ্চল 
বারংবার প্রচণ্ড ঝড়ের সম্মুখীন হয়েছে। পরবর্তী SILNA অধিবসতিসমূহেও 
ঝটিকাবাহিত বালুকার সীমিত চিহ্ন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকাময় সংস্তর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 
বীরভানপুরে আবিষ্কৃত ক্ষুদ্রাশ্মীয় আযুধগুলি যে এক প্রাচীন দিগন্তের নির্দেশক তাতে 
সন্দেহ নেই। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের শেষভাগে 
অবস্থিত তিরুনেলভেলির প্রাগৈতিহাসিক বালুকাস্তরে (টেরিস) প্রাপ্ত arity 
নিদর্শনাবলীর প্রাটানত্বকে। “টেরিস”-এর সঙ্গে প্রাচীন সমুদ্রপৃষ্ঠের আপেক্ষিক সম্পর্কের 
ভিত্তিতে অনুমান করা হয়, এগুলি নির্মিত হয়েছে শ্রীষ্ট-পূর্ব ৪০০০ বছর আগে | এমন 
ধারণা করা হয় যে, বীরভানপুরের নিদর্শনসমূহও প্রাচীনত্বের অধিকারী, অর্থাৎ এগুলি 
নির্মিত হয়েছে আজ থেকে প্রায় ৬০০০ বছর আগে। 


ক্ষুদ্রাশ্মীয় অস্ত্র, সরঞ্জাম ইত্যাদির মধ্যে সাধারণতঃ দুইটি প্রধান শ্রেণী দেখা 
যায়। একটি মৃগয়াভিত্তিক জীবনের উপযোগী, অপরটি কৃষিভিত্তিক সমষ্টি-জীবনের 
প্রয়োজন সাধনে। পশু শিকারের গুরুত্ব অবশ্য বিবর্তিত সংস্কৃতিতেও স্বীকৃত ছিল 
যেমন দেখা যাবে অতীতের ধারাবাহিক জীবনধারায় প্রয়োজনের বৃত্তে অথবা শৌর্যের 
প্রকৃত স্বকল্পিত প্ৰতিচ্ছায়া রূপে | তবে প্রাগৈতিহাসিক জীবনবৃত্তে খাদ্য সংগ্রহ থেকে 
খাদ্য উৎপাদনের ইতিহাস এক তাৎপর্যময় পরিবর্তনকেই প্রতিফলিত করে। এই 


৬২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


পরিবর্তনই বিঘোষিত করে সভ্যতার অরুণোদয়কে। সভ্যতার এই প্রথম প্রহরে প্রারক্তিত 
হয়েছে কৃষি ও পশুপালন । সুপ্রাচীন প্যালেস্টাইন ও নীল উপত্যকায় অতিবাহিত হয়েছে 
সভ্যতার এক তুলনীয় পরম্পরাগত অধ্যায়। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই নবাশ্মীয় জীবনধারা 
সূচীত করেছে সুস্থিত অধিবসতির সহায়ক কৃষি ও পশুপালন | নৌকা নির্মাণ, মাছ ধরা 
ইত্যাদির মধ্যেও একটি অগ্রগতির পরিচয় পাওয়া যায় যেমন প্রতিফলিত হয় মৃৎপাত্র 
ও ধাতুর ব্যবহারে এবং ধর্ম চিস্তায়। উন্নত ক্ষুদ্রাশ্মীয় অন্ত্রাদি যেমন শস্যছেদন এবং 
কিছুটা সূক্ষ্ম ধরনের সেলাই-ফৌড়াই, কাটা-চাছা, অঙ্কন ইত্যাদি কাজের উপযোগী ছিল 
তেমন প্রয়োজন ছিল ধারাল তীরের ফলা অথবা সূত্রধরের সরঞ্জাম নির্মাণে | এই উন্নত 
তথা বিবর্তিত নিদর্শনগুলির নির্মাণেও একটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের পরিচয় পাওয়া যায়। 
সমান্তরাল ধার-সমৰ্বিত ছুরিকা (ব্রেড) ও অন্যান্য টুকিটাকি সরঞ্জামাদির সৃজনে কাঠ 
কিংবা শিং দিয়ে চাপ দেবার পদ্ধতি (প্রেসার ফ্রেকিং) একটি নবীন পর্বকে প্রতিফলিত 
করে। এই পর্ব প্রায়শই তান্রাম্মীয় যুগের সঙ্গে একাত্ম | এখানে উল্লেখ্য, ক্ষুদ্রাশ্মীয় 
নিদর্শনগুলি ক্ষেত্রে সমষ্টি-সমন্বিত হাতিয়ারের (কম্পোজিট pep) পরিচায়ক। সহজভাবে 
বলতে গেলে এই হাতিয়ারসমূহ নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দৃ্টাত্তকে একত্রিত 
BA | কখনও এগুলি সু্পরিকল্সিতভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে কাঠ কিংবা হাড়ের ACH | 
এভাবেই তৈরী হয়েছে প্রগতিশীল প্রাগৈতিহাসিক সমাজ-জীবনে ব্যবহৃত কাস্তে অথবা 
শস্যছেদক প্যালেস্টাইন (নাটুফিয়ান) ও মিশরে (ফায়ুম, মেরিমদে ও এল ওমারি)। 

প্রকৃতপক্ষে কষুদ্রাশ্মীয় অস্ত্রগুলির প্রগতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে বিজড়িত নবাশ্মীয় 
সংস্কৃতির পর্যায় সে যুগের এক অন্যতম পরিচয় বহন করে বাংলার বিভিন্ন আকৃতির 
মসৃণ কুঠার ও অন্যান্য দৃষ্টান্ত । ইতিহাসে এই নবাশ্মীয় সংস্কৃতির একটি বিশিষ্ট ভূমিকা 
আছে যেমন আছে SAPNA সংস্কৃতির | এখন প্রস্তর যুগ মোড় নিয়েছে সভ্যতার বর্ণাঢ্য 
প্রান্তরে, শিল্প ও মানসিকতার নতুন ভবনের অভিমুখে | অতীতের উদাসী হাওয়ায় 
সংস্কৃতির প্রবহন উপনীত হয়েছে যুগ প্রবাহের এক আশ্চর্য GA | পরবর্তী অধ্যায়সমূহে 
এই প্রসঙ্গটি আলোচিত হবে সীমিত পরিসরে | 


পঞ্চম অধ্যায় 
নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ 


মানব সভ্যতার সুবিস্তৃত প্রেক্ষাপটে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির তাৎপর্য পূর্বেই উল্লিখিত 
হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক জনজীবনের এক নবীন উত্তরণের সাক্ষ্য দেয় এই অধ্যায়। 
প্রগতিশীল মননশীলতাকে প্রতিভাত করে এই যুগের আচরণ। পূর্বের ভ্রাম্যমান 
মানবগোষ্ঠীর জীবনচর্যায় এখন সূচীত হয়েছে এক নবীন বিপ্লব। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি 
তথা জীবনধারায় পরিলক্ষিত হবে এই একই ক্রাস্তি। প্রত্বাশ্মীয় পর্বে ও তার সমাপ্তিকালে 
যেমন মানুষ ছিল মূলতঃ খাদ্য-সংগ্রাহক তেমন এই পর্বে তাদের দেখা যাবে খাদ্য- 
উৎপাদক রূপে | শিকার করে পশুমাংস ভোজন কিংবা বিপন্ন ও অন্য পশু কর্তৃক 
আনীত প্রাণীর মাংসাদি গ্রহণ এবং ফল, মূল ইত্যাদি ভক্ষণের দ্বারা অতিবাহিত হয়েছে 
প্লাইস্টোসীন-এর অগণিত দিনগুলি। কিন্তু হোলোসীনের পরিবর্তিত দিগন্তে প্রকাশিত 
হয়েছে নবাশ্মীয় পর্বের মননশীলতা, শিল্পবোধ ও শ্রমজ্ঞান। এবার সমাজ-জীবনে বিশিষ্ট 
পরিবর্তন এনে দিয়েছে কৃষি, পশুপালন ও গৃহনির্মাণের নবীন অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ 
এই যুগেই ক্রমে নির্মিত হয়েছে মৃৎপাত্র এবং হয়ত শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের 
শ্রম ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মাতৃ-আরাধনার প্রাচীন প্রত্যয়বোধ। প্রাচীন প্যালেস্টাইন, 
মিশর, উত্তর আফ্রিকা ও চীন ভূখণ্ডে এই নবাশ্মীয় সংস্কৃতির নানা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন 
আবিষ্কৃত হয়েছে। তুলনীয় রূপে পৃথিবীর অন্যান্য বিভিন্ন স্থানেও সংগৃহীত হয়েছে এই 
উন্নত প্রস্তরযুগের নানা আশ্চর্য তথ্যাদি। পশ্চিমবঙ্গে অতিবাহিত নবাশ্মীয় পর্বের যে 
এক নিজস্ব তাৎপর্য আছে তা উপলব্ধি করা যায় বাস্তব প্রেক্ষাপটে এই রাজ্যে নবাশ্মীয় 
সংস্কৃতি সূচীত হয়েছে ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনাদির বিবর্তন তথা সুস্পষ্ট প্রগতির যুগে। বিষয়টি 
ইতিপূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে। 


v8 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


পশ্চিম বাংলায় নবাশ্মীয় সংস্কৃতির অভ্যুদয়ে যে ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে 
তা নিঃসন্দেহে আপন বৈশিষ্ট্যে গুরুত্বপূর্ণ । মধ্য ও পশ্চিম ভারতে যেমন এই অধ্যায়টি 
সভ্যতার প্রগতি কিংবা বিবর্তনকেই বেশী অভিব্যক্ত করে তেমন বাংলার নবাশ্মীয় 
সংস্কৃতি সাক্ষ্য দেয় এক আশ্চর্য সংযোগের | এই সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল পূর্ব-ভারত 
এবং দূর-প্রাচ্যের মধ্যে। বাংলা, ওড়িশা, ছোটনাগপুর (বিহার) ও অসম-এ আবিষ্কৃত 
মসৃণ ও বিভিন্ন আকারের হাতিয়ারগুলি বিবৃত করে অতীতের এক বিস্মৃত ইতিহাসকে 
যখন এক সংগ্রামশীল ও শ্রমে বিশ্বাসী জনজীবন ক্রমশঃ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে একদা TA- 
প্রাচ্যে চীন, ভিয়েতনাম, মালয় ইত্যাদি দেশে উন্মেষিত ও পরিব্যাপ্ত নবাশ্মীয় সভ্যতার 
সঙ্গে। দূর-প্রাচ্যের সঙ্গে বাংলা তথা পূর্ব-ভারতের সংযোগ কোন্‌ পথে কেমন করে 
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা অবশ্য এখনও অনুমান সাপেক্ষ | এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ কম 
যে এই অতীত সম্পর্ক একদা যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আরণ্যক ও পার্বত্য পথে তেমন 
স্থাপিত হয়েছে উর্মিময় লবণাম্বুর পথে। 


আলোকপাত করে এই বিষয়টির উপর, প্রমাণিত করে প্রাগৈতিহাসিক জনজীবনে 
সমুদ্রসাননিধ্যের গুরুত্বকে। ইতিহাসপূর্ব কালে বাংলার সমুদ্বোপকূল থেকে অর্ণবযানসমূহ 
দূর সাগরে পাড়ি দিয়েছে এমন অনুমান করা চলে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে। বাংলা, 
বিহার ও ওড়িশার নবাশ্মীয় সভ্যতায় সমুদ্রপথের প্রভাব ইতিপূর্বে অভিব্যক্ত করেছেন 
সুবিখ্যাত পুরাতাত্বিক ভি, ডি, কৃষ্ণস্বামী। তার এই ধারণার মূল ভিত্তি এই তিনটি রাজ্যে 
প্রাপ্ত AR কোদালী (শোল্ডারড হো), খাজকাটা লম্বাকৃতি Bata (বার সেন্ট) এবং 
চতুষ্কোণ প্রস্থচ্ছেদ-সমন্বিত চতুষ্কোণ বাটালীর (রেক্ট্যাংগুলার চিজেল উইথ 
কোয়াড্যাংগুলার সেক্সন) সঙ্গে মালয় উপদ্বীপে পর্যবেক্ষিত বিভিন্ন নিদর্শনাদির সাদৃশ্য।১ 
ইতিহাসপূর্ব কালে বাংলার সঙ্গে দূর-প্রাচ্যের এই সংযোগ, যার পশ্চাতে ছিল বিস্মৃত 
যুগের নাবিকদের শ্রম ও প্রচেষ্টা, সেই বিষয়টি ভাষাতত্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও 
প্রতিফলিত হতে পারে। 


প্রকৃতপক্ষে ভারতে প্রচলিত ভাষাসমূহে অস্টো-এশিয়াটিক গোত্রীয় সম্ভারের 
উপস্থিতি এই ধরনের সংযোগের সম্ভাবনাকে OPS করে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাচীন 
উপকথার বৈশিষ্ট্যেও একটি তুলনীয় অতীত সম্পর্ককে আবিষ্কার করা AA | অধ্যাপক 


১। ১৯৬০ সালে 'এন্সিয়েন্ট ইণ্ডিয়া’র ১৬ নং সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধ “দি নিওলিথিক 
প্যাটার্ন অফ ইণ্ডিয়া’ দ্রষ্টব্য | 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৬৫ 


Przyluski দেখিয়েছেন মহাভারতে বর্ণিত মস্যগন্ধার কাহিনী এবং প্রাচীন ভারতীয় 
সাহিত্যে বিবৃত নাগীদের উপকথাসমূহ অস্টো-এশিয়াটিক পরিমণ্ডলে প্রচলিত কল্পকথার 
সমাজ-জীবন ও সভ্যতার বৃত্তে যা নিকটবর্তী চৈনিক অথবা আর্য ইন্দো-এরিয়ান) 
সভ্যতা ও জনজীবন থেকে স্বতন্ত্র ছিল।১ সংস্কৃত ভাষায় অক্ট্রো-এশিয়াটিক অেস্ট্রিক) 
শব্দসমূহের প্রবেশ (লোন-ওয়ার্ডস্) ও অন্যান্য তথ্যাদির ভিত্তিতে ফরাসী আচার্য লেভির 
মন্তব্য নিম্নরূপ 2 


"We must know whether the legends, the religion and 
philosophical thought of India do not owe anything to this past. 
India has been too exclusively examined from the Indo- 
European stand point. It ought to be remembered that India is a 
great maritime country, open to a vast sea forming so exactly its 
Mediterranean, a Mediterranean of proportionate dimensions— 
which for a long time was believed to be closed is the South. 
The movement which carried the Indian colonisation towards 
the Far East, probably about the beginning of the christian Era, 
was far from inaugurating a new route, as Columbus did in 
navigating towards the West. Adventurers, traffickers and 
missionaries profited by the technical progress of navigation 
and followed under the best condition of comfort and efficiency 
the way traced from time immemorial by the mariners of another 


race whom the Aryan or Aryanised India despised as savages." 


নবাশ্মীয় পর্বে বাংলা তথা প্রাচ্য ভারতের সঙ্গে পূর্ব এশিয়ার যে পার্বত্যপথেও 
এক ঘনিষ্ট যোগাযোগ স্থাপিত ছিল তা অবশ্যই সন্দেহাতীত। এ বিষয়ে বিশেষভাবে 


১। ডঃ প্ৰবোধ চন্দ্র বাগচী  “প্রি-এরিয়ান ত্যাণ্ড প্রি-ড্রাভিডিয়ান ইন ইণ্ডিয়া’ দ্রষ্টব্য এই 
গ্রন্থে তিন সুবিখ্যাত পণ্ডিত S. Lavi, J. Przyluski এবং J. Bloch লিখিত প্রবন্ধত্রয় 
ফরাসী ভাষা থেকে ইংরাজিতে অনূদিত হয়েছে। 

২। — এ — ABS ১২৫-২৬। 


প্রাগৈতিহাসিক — a 


৬৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


আলোকপাত করবে অসমে ও দার্জিলিং হিমালয়ে আবিষ্কৃত নানা নবাশ্মীয় নিদর্শনাবলী। 
অসমের বিভিন্ন অংশে- সদীয়া সীমান্তে, নাগা পাহাড়ে, খাসী, গারো এবং কাছার-এর 
পার্বত্য ভূখণ্ডে এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নব্য প্রস্তর পর্যায়ের যে সব সংখ্যাতীত সংগৃহীত 
দৃষ্টান্ত | তাদের গঠন-প্রকৃতি কিংবা নির্মাণবিন্যাসে প্রতিভাত হয় দূর-প্রাচ্যের প্রাচীন 
সংস্কৃতির সঙ্গে একদা প্রতিষ্ঠিত এক অন্তরঙ্গ সংযোগ | উদাহরণ-ম্বরূপ সদীয়া সীমান্তে 
আবিষ্কৃত হয়েছে জেডাইট পাথরের এমন সব নিদর্শন যেগুলি বিশেষভাবে তুলনীয় 
চীনদেশের অন্তর্গত ইউনানে প্রাপ্ত একই প্রস্তরের দৃষ্টাত্তসমূহের সঙ্গে । এই প্রসঙ্গে 
প্রত্নতাত্ত্বিক PENN উল্লেখ করেছেন যে, ইউনান্‌ জেডাইট্‌ পাথরের জন্য বিখ্যাত। 
অসমে সমীক্ষিত নবাশ্মীয় নিদর্শনাবীর্ণ প্রত্বক্ষেত্রগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য উত্তর 
কাছারের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত দেওজালি হাদিং। আদিম দিমাসা ভাষায় এর অর্থ 
“বিহঙ্গ গিরি’ । ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ সীমান্তের অদূরে অবস্থিত এই প্রত্ুক্ষেত্রে সাম্প্রতিক 
কালে আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় নিদর্শনাবলী যাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য নানা 
FRR POTS বা কোদালী। এছাড়া, দেওজালি হাদিং-এ প্রাপ্ত সংগ্রহে আছে সুত্রধরের 
কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার কিংবা সরঞ্জাম ও অপরাপর দৃষ্টান্তসমূহ। এই নবাশ্মীয় 
হাতিয়ারগুলির প্রচীনত্ব ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তথা তাৎপর্য অবশ্যই বিস্তৃততর গবেষণার 
দাবী করে। দেওজালি হাদিং-এ পরিচালিত উৎখননাদির দ্বারা ভূপৃষ্ঠের সামান্য নীচেই 
উন্মোচিত হয়েছে নবাশ্মীয় হাতিয়ার ও তৎসংশ্লিষ্ট কৌলালের এক wa | আবিষ্কৃত 
মৃৎপাত্রসমূহের নির্মাণে আদিম রীতি সুস্পষ্ট | বিভিন্ন কারণবশতঃ অনুমান করা হয় 
দেওজালি হাদিং-এর প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতি প্রকৃতপক্ষে নবাশ্মীয় পর্যায়ের এবং এর 
প্রথম প্রকাশ ঘটেছে খ্ৰীষ্টপূর্ব দু হাজার বছরেরও পুর্বকালে। এই সভ্যতা একদা বিকশিত 
হয়েছে কাছারের আর্দ্র অরণ্যে । এই নবাশ্মীয় সভ্যতায় যে বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তার মধ্যে 
খুঁজে পাওয়া যায় প্রাগৈতিহাসিক ইন্দোটানের হোয়া বিহ্নীয় (হোয়াবিহ্নিয়ান)ও বাক্সনীয় 
(বাক্সনিয়ান) সংস্কৃতির কিছুটা বৈশিষ্ট্য এবং থাইল্যাণ্ডের (শ্যামদেশ) অন্তর্গত ‘প্রেতগুহা’ 
(স্পিরিট কেভ), নোন্‌ কোক্‌ থা এবং বান্কাওয়ে পর্যবেক্ষিত বিবর্তনমুখী জীবনচর্যার 
এক অস্পষ্ট প্রতিচ্ছায়া। দেওজালি হাদিং-এ আবিষ্কৃত নবাশ্মর হাতিয়ারগুলি স্মরণ 
করিয়ে দেবে চট্টগ্রামে প্রাপ্ত কতিপয় নবাশ্মর নিদর্শনকে। এক যথার্থ উদ্যোগের দ্বারা 
আলোকিত হতে পারে এই প্রাগৈতিহাসিক পর্ব। 


গুরুত্বও বিশেষভাবে স্বীকার্য। এই কুঠারগুলির মধ্যে এমন এক শ্রেণীর নিদর্শন আছে 
যাদের শক্কচ্ছেদে APA রীতি প্রকাশিত। গারো পাহাড়ের পশ্চিমে বাংলাদেশে প্রসারিত 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৬৭ 


মধুপুরের অরণ্যের ইতিবৃত্ত এখনও অজ্ঞাত। এখানে উল্লেখ্য, বাংলায় শিলং মালভূমির 
বিস্তার নবাশ্মীয় সংস্কৃতির প্রসারণ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতেপারে। 


পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং জেলায় নিম্ন-হিমালয়ের পর্বতপৃষ্ঠে আবির্ধত হয়েছে 
বহু সংখ্যক নবাশ্মীয় নিদর্শন। অর্ধ শতাবীরও আগে এ বিষয়ে আলোকসম্পাত করেন 
ONTOS ই, এইচ, সি, ওয়াল্‌স্‌ ৷” 


ওয়াল্স্‌ প্রদত্ত রিপোর্ট অনুসারে এই নবাশ্মীয় নিদর্শনগুলির অবস্থানস্থল ছিল 
দার্জিলিং জেলার উচ্চতর ঢাল ও চত্বর | তখনও অবশ্য এগুলি এখানে বেশী সংখ্যায় 
আবিষ্কার হয় নি। এই পার্বত্য পরিবেশে বহু সংখ্যক নবাশ্মীয় হাতিয়ার আবিষ্কারের 
কৃতিত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুরাতত্ব অধিকারের | ১৯৬২ সালে রাজ্যের ASG 
অধিকারের দুই অধীক্ষক শ্রীদেবকুমার চক্রবর্তী এবং ডক্টর শ্রীশ্যামঠাদ মুখার্জী কালিম্পং- 
এর নিকটবর্তী গিরিপৃষ্ঠে অনুসন্ধান কার্যাদির দ্বারা আবিষ্কার করেন HATS, ডায়োরাইট 
ইত্যাদি প্রস্তরে নির্মিত কিছু সংখ্যক নবাশ্মীয় Para (সেণ্ট)। এই হাতিয়ারগুলি ঘষে 
মসৃণ PA | এই দুজন অধীক্ষক রিলী নদীর উপরে উন্নত পর্বতপৃষ্ঠে খীজকাটা চত্বরসমূহের 
পটভূমিকায় আবিষ্কার করেন দুটি নিদর্শন। অন্যগুলি সংগৃহীত হয় স্থানীয় অধিবাসীদের 
নিকট থেকে। এই নবাশ্মীয় দৃষ্টাত্তগুলির স্থানীয় নাম “বজডুঙ্গা” অর্থাৎ ‘বজ্রনিক্ষিপ্ত 
পাথর’। পার্বত্য গ্রামবাসীদের ধারণা, এগুলি ওষধিগুণ বিশিষ্ট। কোন পীড়া হলে 
SAGA ঘষে জল পান করলে নাকি উপকার VT | এটা একটা শোনা কথা মাত্র। 
তিব্বতেও বজ্ডুঙ্গার সমাদর আছে। পুরাতাত্তিক দিক্‌ থেকে সমগ্র তথ্যাবলী ও জনশ্রুতি 
স্বভাবতই অনুসন্ধানযোগ্য। উল্লিখিত হাতিয়ারগুলি ছাড়া শ্রীচক্রবর্তী ও ডঃ মুখার্জী 
একজন ব্যক্তির নিকট থেকে সংগ্রহ করেন একটি সুপ্রাচীন নিদর্শন। একটি হাতীর 
মুখাবয়বের PSF | ভারতীয় GOS সর্বেক্ষণের প্রাচীন প্রাণীবিজ্ঞান সম্বন্ধীয় বিশেষজ্ঞদের 
সিদ্ধান্ত অনুসারে এই কঙ্কালটি অতি সামান্যই প্রস্তরীভূত অথবা জীবাশ্মের পর্যায়ভুক্ত। 
তারা মত প্রকাশ করেছেন যে, হাতীটি বর্তমান কালের “এলিফাস ইপ্তিকাস্‌” শ্রেণীর 
HBAS | এমন ধারণা করা যায়, এই কঙ্কাল একদা সংগৃহীত হয়েছে দার্জিলিং জেলার 
নিম্নাঞ্চল থেকে। তবে আবিষ্কার স্থল যেহেতু জানা যায় নি তাই কোন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে 
উপনীত হওয়া এখন সম্ভব TA | এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, প্রাচীন “শিবালিক' 
সংগঠন যা পশ্চিমাঞ্চলে জৈব বিবর্তনকে প্রতিফলিত করেছে নির্দিষ্ট পর্যায়সমূহে তারই 
এক তাৎপর্যময় প্রসারণ ঘটেছে দার্জিলিং হিমালয়ের পরিমণ্ডলে | 


১। “এ নোট অন স্টোন ইম্প্রিমেন্টস ফাউণ্ড ইন দি দার্জিলিং ডিস্ট্রিক্ট”, জার্নাল অফ দি 
রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল, ৬৩নং সংখ্যা, পৃষ্ঠা $ 30-38 | 


৬৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


কালিম্পং-এর নিকটবর্তী পার্বত্য পরিবেশে নবাশ্মীয় কুঠারসমূহ আবিষ্কারের 
পর পশ্চিমবঙ্গের প্রত্ুতত্ব অধিকারের পক্ষ থেকে এতদঞ্চলে বারংবার অনুসন্ধানকার্য 
পরিচালিত হয়, যার ফলে সংগৃহীত হয়েছে শতাধিক নবাশ্মীয় নিদর্শন। এই 
হাতিয়ারগুলির মধ্যে লম্বাকৃতি PIA, সমতল অথবা org Para, বাটালী, খাজকাটা 
(ফ্যামোটেড) দৃষ্টান্ত, বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোদালী ইত্যাদি যেমন আছে তেমন এই সংগ্রহের 
মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ছিদ্ৰসমন্বিত কুঠার। এই অস্ত্রগুলি স্বভাবতই ব্যবহৃত হত কৃষি ও 
সুত্রধরের কার্যোপলক্ষে। বড় ধরনের কুড়োলগুলি সম্ভবতঃ নির্মিত হয়েছে বৃক্ষচ্ছেদনের 
নিমিত্ত। ঘষে বানানো এক সছিদ্র দৃষ্টান্ত সম্ভবতঃ ব্যবহৃত হয়েছে গিরিমূলে প্রবাহিত 
খরস্রোতা তিস্তা অথবা রিলীর মত নদীতে মাছ ধরার নিমিত্ত বোনা জালকে ভারী 
করবার জন্য। সভ্যতার বিস্তার প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ের নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত তিস্তা, 
রিলী, রংপো, রঙ্গিত, রংদুং ইত্যাদি ছোট বড় জলপ্রবাহগুলির গুরুত্ব অবশ্যই স্বীকার্য। 
একদা পুরাতাত্তিক ওয়াল্‌স্‌ সিকিম রাজ্যেও নবাশ্মীয় কুঠারের সন্ধান পেয়েছিলেন। 
পার্্ববর্তী নেপালের ইতিবৃত্তেও একটি সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক পর্ব ছিল। সে বিষয়ে একটি 
দৃঢ়ভিত্তিক অনুমান করা চলে। এই সংস্কৃতি অর্ধবিস্মৃত হলেও যথার্থ মূল্যায়নের জন্য 
অপেক্ষমান। আরও পশ্চিমে কাশ্মীরে আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় পর্বের এক অধিবসতি 
ক্ষেত্র। শ্রীনগরের অদূরে অবস্থিত বুরজাহোম এই সুবিখ্যাত স্থান। এখানে ক্রুমান্বয় 
খননকার্ষের দ্বারা পর্যবেক্ষিত হয়েছে ভূগর্ভনিবাসী মানুষের (AG waren) দ্বারা 
ব্যবহৃত নবাশ্মীয় হাতিয়ার ও হাড়ের অস্ত্রাদি। একটি নবাম্মীয় নিদর্শনের গায়ে পরিকল্পিত 
পদ্ধতিতে সৃষ্ট ছিদ্র দেখা যায়। এই সছিদ্র নিদর্শনটি শস্যছেদক অথবা অলঙ্কার হতে 
পারে। বুর্জাহোমে আবিষ্কৃত দৃষ্টান্তটির পরিচয় যাই হোক না কেন উল্লিখিত ছিদ্রকরণ 
কালিম্পং অঞ্চলে সংগৃহীত ছিদ্রসমন্বিত হাতিয়ারগুলিকে স্মরণ করিয়ে CHCA | অসমে 
সংগৃহীত নব্যপ্রস্তর যুগের হাতিয়ারসমূহের মধ্যেও সছিদ্র নিদর্শনের নজির আছে। 
দার্জিলিং হিমালয়ে প্রাপ্ত হাতিয়ার অথবা সরঞ্জামের গায়ে যে AH দেখা যায় সেগুলি 
সম্ভবতঃ সৃষ্টি হয়েছে তুরপুন ও বালির AIC | এই AH ATA প্রয়োজন ছিল অস্ত্রটিকে 
কোন কিছুর সঙ্গে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করবার জন্য। 


এখানে উল্লেখ্য, আবিষ্কৃত সাধারণ কুঠারগুলির কোন-কোনটিতে অতীত যুগের 
রজ্জববন্ধনের চিহ্ন সুস্পষ্ট। সমগ্র বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে কালিম্পং 
অঞ্চলে আবিষ্কৃত নবাশ্মীয় অস্ত্রাদির সঙ্গে টীনদেশের ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নবাশ্মীয় 
নিদর্শনসমূহের একটি তাৎপর্যময় সাদৃশ্য রয়েছে। উদাহরণ-স্বরূপ রিলী নদীর উর্ধে 
প্রসারিত পর্বতগাত্রে আবিষ্কৃত ছিদ্রসমন্বিত নিদর্শনগুলি স্মরণ করিয়ে দেবে চীনদেশে 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৬৯ 


অবস্থিত সিন-আন, চাও-য়াং, শিহ্‌চিয়া-হো, তিয়েন-সেন, পু-চাও-চাই, হো-য়িন, লো- 
হান-তাং, কুয়েই-তি এবং সুয়ান-হুয়া-য় আবিষ্কৃত তুলনীয় নবাশ্মর নিদর্শনাবলীকে।১ 
কতকটা বরফির মত খাঁজকাটা কুঠার এবং কোদালীর আকৃতি অস্ত্রও সাদৃশ্য বহন করে 
চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাপ্ত বিভিন্ন হাতিয়ার তথা দৃষ্টান্তের সঙ্গে। মোটামুটিভাবে 
এই ধরনের দৃষ্টাত্তগুলির মূল HONG অসম, চট্টগ্রাম, ইউন্নান এবং দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়া।২ 


কালিম্পং অঞ্চলে প্রাপ্ত একটি AEA কুঠার অথবা কোদালী (Adze) এখানে 
স্বতন্ত্র উল্লেখের দাবী করে। এই ধরনের ডাটি-সমন্বিত ( Tenoned) নিদর্শন আবিষ্কৃত 
হয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এবং 13-8105 | দেওজালি হাদিং-এ প্রাপ্ত 
HER কুঠারাদি সম্বন্ধে অনুমান করা হয়, এগুলির ডাটি সৃষ্টি করা হয়েছে হয়ত বাশ 
কিংবা কাঠের ধারাল ছিল্কা ও বালুকার সাহয্যে। বালির সমন্বয়ে ছিল্কার ধারাল দিক্‌ 
ঘষতে থাকলে কঠিন পাথরকে কাটা সহজ AS | চীনদেশের TBS হুপেই-এ অবস্থিত 
আনয়িয়াং (Anyang)-4 প্রাগৈতিহাসিক “য়িন' (Yin) নগরীর সমাধিতে ব্রোর্জনির্মিত 
FSR কোদালীর উপস্থিতি দেখা গেছে। এগুলির প্রাচীনত্ব নির্দেশ করা যায় খ্ৰীষ্টপূর্ব 
ত্রয়োদশ থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে | অনুরূপভাবে হোনানে সমাধিমণ্ডলীর বহির্ভাগে 
সন্ধান পাওয়া গেছে কতিপয় প্রস্তরনির্মিত HER POAT | এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা 
যেতে পারে ভারতে গাঙ্গেয় উপত্যকায় ও অপরাপর স্থানে আবিষ্কৃত হয়েছে তাঅনির্মিত 
ABR PTA | পরবর্তী অধ্যায়ে বিষয়টি আলোচিত হবে। 


কালিম্পং-এর নিকটবর্তী চত্বরসমূহ ও ঢাল-এ প্রাপ্ত সমগ্র সংগ্রহের মধ্যে 
বিশেষভাবে মূল্যবান্‌ বিবেচিত হবে সবুজাভ জেডাইট প্রস্তরের একটি অলঙ্কার। এই 
মনোরম সছিদ্র নিদর্শনটি সম্ভবতঃ কোন কণ্ঠহারের দীর্ঘাকৃতি লকেটরূপে শোভিত 
হত। এই নিদর্শনটির সঙ্গে কাশ্মীরে বুরজাহোমে আবিষ্কৃত পূর্ববর্ণিত শস্যছেদক অথবা 
অলঙ্কারের কিছুটা আকৃতিগত সাদৃশ্য আছে। উপযুক্ত তথ্যের অভাবে জেডাইটের এই 
অলঙ্কারের প্রাচীনত্ব নির্ণয় করা কঠিন। তবে এটি নবাশ্মীয় অন্ত্রাদির সঙ্গেই পাওয়া 
গেছে এমন অনুমান করা সঙ্গত। 


১। চীনদেশের নবাশ্মর হাতিয়ার প্রসঙ্গে চেং তে-কৃন লিখিত “প্রিহিস্টোরিক চায়না”, 
প্রথম খণ্ড FÈT | 

২। এএলিয়েন্ট ইণ্ডিয়া’ ১৬নং সংখ্যায় প্রকাশিত ভি, ডি, কৃষ্ণস্বামী লিখিত প্রবন্ধ “দি 
নিওলিথিক প্যাটার্ন অফ ইণ্ডিয়া’, পৃঃ ৫৪ WS | 


৭০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


দার্জিলিং হিমালয়ে আবিষ্কৃত নবাশ্মীয় হাতিয়ারগুলি সাধারণতঃ কোয়ার্টজাইট, 
ফিলাইট, ডায়োরাইট, নাইস, চার্ট ইত্যাদি পাথরে নির্মিত। এই অস্ত্রগুলির আকৃতি যেমন 
নানা ক্ষেত্রে তুলনীয় টানদেশের নিদর্শনসমূহের সঙ্গে তেমন এগুলি স্মরণ করিয়ে দেবে 
আরও এক আশ্চর্য দূরত্বে বেরিং প্রণালীর পথ অনুসরণ করে আমেরিকা মহাদেশের 
পরিমণ্ডলে একদা ব্যবহৃত বিভিন্ন পাথরের হাতিয়ারকে। অতীতে বিভিন্ন রেড ইণ্ডিয়ান 
খণ্ডজাতিদের দ্বারা নির্মিত নবাশ্মীয় ধরনের কুড়োল ও অন্যান্য অস্ত্রাদিতে এশিয়ার 
নবাশ্মীয় নিদর্শনাদির সঙ্গে তুলনীয় কিংবা সমান্তরাল নানা প্রযুক্তিগত এবং আকৃতিগত 
রীতি ও বোধ লক্ষণীয়। কালিম্পং-এর আশেপাশে পাহাড়ে পাহাড়ে কৃষিক্ষেত্ররূপ 
চত্বরগুলির ইতিহাস হয়ত প্রসারিত এক দূর অতীতে। চত্বরগুলি উঠে গেছে মেঘলোকের 
মধ্য দিয়ে। খাদ্যাব্বেষী মানুষের স্বপ্ন ও উদ্যমের ফলেই গড়ে উঠেছে এই নীলিমার 
পথ, নয়নাভিরাম সোপানশ্রেণী। এখানকার প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতায় কিরাত কিংবা 
শবরদের মত কোন জাতিগোষ্ঠীর অবদান আছে কিনা তার উপর আলোকপাত করতে 
সক্ষম বিস্তৃততর গবেষণা ও AMPH | 


উত্তরবঙ্গের সমতলে নব্য প্রস্তর যুগ কিভাবে এবং কেমনভাবে অতিবাহিত 
হয়েছে অথবা সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি এখানে বিস্তার লাভ করেছিল কিনা সে বিষয়ে সুস্পষ্ট 
তথ্যাদির অভাবে এখন কোন স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। তবে নিম্ন 
হিমালয়ের সঙ্গে এই ভূখণ্ডের সান্নিধ্য এবং প্রাচীন বরেন্দ্রের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক এতিহ্য 
নৃতন SHAT সম্ভাবনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। দক্ষিণ ভারতের নবাশ্মীয় 
সংস্কৃতি এবং চীন ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার নবাশ্মীয় সংস্কৃতির মধ্যে যে যোগসূত্র দেখা 
যায় তার একটি অন্যতম পথ অবশ্যই অতীতে প্রসারিত ছিল উত্তরবঙ্গের বনানীসমূহের 
গভীরে, বালুকাস্তীর্ণ ও তৃণপ্রান্তরময় সমতলের মধ্য দিয়ে এবং সেখানকার সদা-চঞ্চলা 
নদী ও স্রোতস্বতীগুলির বহু বেণীর ধার ঘেষে। বর্তমান প্রসঙ্গটির উপর কিছুটা 
আলোকপাত করবে পশ্চিম দিনাজপুরে পুনর্ভবার তটে অবস্থিত বাণগড়ে আবিষ্কৃত 
পাথরের একটি মসৃণ কুঠার। এই TAPIA কুঠারটির সন্ধান মেলে উৎখনন কালে 
FAS থেকে ১৬:৫৮ ফুট নীচে। নিদর্শনটিকে দেখা গেছে শুঙ্গ যুগের একটি 
শীলমোহরেরও ৩ ফুট FATA | এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে 
এবং AAS বাণগড়ে উৎখনন কার্য পরিচালনা করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 
আশুতোষ চিত্রশালার পক্ষ থেকে অধ্যাপক শ্রীকুপ্জগোবিন্দ গোস্বামী | বাণগড়ে আবিষ্কৃত 
কুঠারটি (০611) হলুদবর্ণের Bro’ পাথরকে পরিকল্পিত ও সংযত আঘাতের দ্বারা 
একটি মনোমত তিনকোণা আকৃতি দান করে এবং পরে ঘষে বানানো । পুনর্ভবার তীরে 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৭১ 


দু হাজার বছর আগেকার এক শীলমোহরের নিম্নে এই BPO’ অস্ত্রের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে 
গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনখানি দার্জিলিং হিমালয়ে সংগৃহীত এক শ্রেণীর নবাশ্মীয় কুড়োলেরই 
অনুরূপ | GS আপাততঃ একক হলেও হিমালয়ের দিকে প্রসারিত এক বিস্মৃত 
পথের সাক্ষ্য দেয় এমন অনুমান করা সঙ্গত। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলায় 
অবস্থিত ফারাক্কায় আবিষ্কৃত এক শ্রেণীর পোড়ামাটির আদিম মাতৃমৃর্তি এবং তুলনীয় 
শৈলীতে নিৰ্মিত কতিপয় দেবমূৰ্তি। কৃত্রিম খাত নির্মাণ কালে প্রাপ্ত এই মৃন্ময় ভাস্কৰ্যসমূহ 
সম্ভবত মৌর্যপূর্ব কালের কোন আঙ্গিক ও শিল্প চেতনার সাক্ষ্য CHA | ফারাক্কায় প্রকল্প 
উপলক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন খননকালে গঙ্গা ও গুমানীর মিলন স্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে 
মৌর্য-শুঙ্গ যুগে প্রচলিত অঙ্কন HVS রৌপ্যমুদ্রা, এক শ্রেণীর বিবর্তিত কোশীপাত্র, 
আদি-এঁতিহাসিক কালের পোড়ামাটির জীবমূর্তি ইত্যাদি। এমনও হতে পারে, এখানে 
প্রাপ্ত আদিম মাতৃমুর্তিগুলি এবং তুলনীয় শৈলীতে রূপায়িত দেবমূর্তিগুলি বহন করছে 
নবাশ্মীয় সমাজ-জীবনের সৌন্দর্যবোধ ও প্রত্যয়। এখানে আরও উল্লেখ করা যেতে 
পারে, অতি সাম্প্রতিক কালে রঘুনাথগঞ্জের অদূরে ভাগীরথী ও পদ্মার সান্নিধ্যে অবস্থিত 
খেরুরে বর্তমান লেখক কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়েছে তাত্রযুগের কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের কৌলাল। 
আবিষ্কৃত ভগ্ন মুৎপাত্রগুলির মধ্যে আছে সুপরিচিত কোশীপাত্রের নিদর্শন | 


পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন পাললিক ভূমিতে আবিষ্কৃত বিভিন্ন নবাশ্মীয় নিদর্শনগুলি 
একটি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক পর্যায়ের সাক্ষ্য দেয়। এই সাংস্কৃতিক পর্যায় Hs করে এমন 
এক অধ্যায়কে যখন সংগ্রামশীল মানুষ এক নবীন আশা ও প্রতিশ্রুতির উপত্যকায় 
উপনীত। বিভিন্ন সংগ্রহকার্য, অভিযান ও উৎখননের দ্বারা এই সভ্যতার প্রাচীনত্ব ও 
প্রকৃতি সম্বন্ধে আজ কিছুটা ধারণা করা সম্ভব। ১৯৫৫ সালে রূপনারায়ণ তীরে তমলুকে 
(প্রাচীন SVE) পরিচালিত খননকার্ষের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে এক নবাশ্মীয় অধিবসতি 
স্তর। এই সুপ্রাচীন অধিবসতির সাক্ষ্য দেয় কয়েকটি ত্রিকোণাকৃতি মসৃণ কুঠার। এই 
নিদর্শনগুলির সঙ্গে পর্যবেক্ষিত হয়েছে এক ধরনের হাতে-তৈরী মৃৎপাত্র। ভারতীয় 
ATOY সর্বেক্ষণের অন্তর্গত পূর্ব-চক্রের তৎকালীন অধীক্ষক (বর্তমানে মহা-অধিকর্তা) 
শ্রী এম, এন, দেশপাণ্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এই খননকার্য। এই খনন সম্বন্ধে 
প্রকাশিত একটি অতি সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে দেখা যায় উল্লিখিত নবাশ্মীয় wa ভূগর্ভে 
নিহিত আছে উদীচ্যের কৃষ্ণোজ্জ্বল কৌলালের (‘নর্দার্ণ ব্যাক পলিশ্ড ওয়্যার সংক্ষেপে 
“এন, বি, পি”) সঙ্গে তুলনীয় মৃৎপাত্রচিহিত স্তরের নিম্নে উত্তর ভারতে অবস্থিত 
হস্তিনাপুর, অহীচ্ছত্রা, বৈশালী, শোনপুর ইত্যাদি প্রত্বস্থলগুলিতে খননকার্যসমূহের ফলে 
জানা যায় উদীচ্যের FLAG কৌলালের প্রচলনকাল মোটামুটি সীমাবদ্ধ ছিল খ্ৰীষ্টপূর্ব 


৭২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


প্রথম সহস্বকের দ্বিতীয়ার্ধে, মৌর্যযুগে এবং তার পূর্বে ও ATA সুতরাং তমলুকের 
নবাশ্মীয় অধিবসতি স্তরের দিশস্ত যে আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও পূর্বেকার 
এক অধ্যায়ের পরিচায়ক তাতে সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক কালে ‘তাত্রলিপ্ত মিউজিয়াম 
«jte রিসার্চ সেন্টার'-এর উদ্যোগে তমলুকে ও তার সন্নিকটে রূপনারায়ণ তীরে আবিষ্কৃত 
হয়েছে কয়েকটি AAPM Para | ইতিপূর্বে প্রখ্যাত গবেষক সুধাংশু রায় ও বর্তমান 
লেখক কর্তৃক ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তমলুকে সংগৃহীত হয়েছে নব্যপ্রস্তর কালের দুইটি 
হাতিয়ার। সুধাংশু রায়ের দ্বারা সংগৃহীত দৃষ্টান্তটি ঘসে বানানো একটি কুঠার। এর 
ধরবার অংশটি অর্থাৎ কার্যকর অংশের বিপরীত দিক (Butt) গোলাকৃতি (Rounded) 
এই ধরনের কুড়োল সম্ভবতঃ ক্ষুদ্রাশ্মীয় সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এমন একটি ধারণা 
করাযায়।ভি,ডি, কৃষ্ণস্বামীর সিদ্ধান্ত অনুসারে পূর্ব ভারতে গোলাকৃতি হাতল-সমন্বিত 
কুড়োলের ইতিহাস সর্বাধিক প্রাচীন। Sealers মিউজিয়াম আ্যাণ্ড রিসার্চ সেন্টারের 
প্রচেষ্টায় প্রাগৈতিহাসিক জনজীবনের যে সব চিহৃসমূহ আবিষ্কৃত হয়েছে তাদের মধ্যে 
বিশেষ ভাবে উল্লেখ্যযোগ্য চার্ট পাথরের ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনাবলী, কয়েকটি নবাশ্মর হাতিয়ার, 
হাড় কিংবা মৃগশৃঙ্গ থেকে বানানো একটি Aaya’, হাড় ও তামার বঁড়শী, সম্ভবতঃ 
শস্যছেদক রূপে ব্যবহৃত পশুর চোয়াল ইত্যাদি। উল্লিখিত 'হারপুন+টি স্বভাবতই এক 
দূর অতীতের সাক্ষ্য দেয়। তমলুকে আবিষ্কৃত একটি হাড়ের বৃহদায়তন বঁড়শী ভারতে 
অবস্থিত প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনাবলীর সমারোহে মনে হয় IFS | উল্লিখিত চোয়ালে 
দস্তপংক্তির স্থলে একদা ছোট ছোট পাথরের ফলা বসানো ছিল এমন অনুমান করবার 
কারণ আছে। এই অনুমান সত্য হলে এটিই হবে প্রাচ্য ভারতের প্রাচীনতম কাস্তে কিংবা 
শস্যছেদক। সমগ্র বিষয়টি বিবেচনা করলে অনুমিত হয় তমলুকে মৌর্য যুগের বছ 
শতাব্দী পূর্বে নবাশ্মীয় সভ্যতার একটি পর্ব অতিবাহিত হয়েছে। তৎকালীন সমাজের 
জীবনচর্যার অন্যতম উপকরণ ছিল কৃষি, মাছধরা ও পশু শিকার। এ ছাড়া নৌকার চিত্র 
উৎকীর্ণ এক শ্রেণীর প্রাচীন মৃৎপাত্র দেখে অনুমান করা যায়, সভ্যতার প্রথম পর্ব 
থেকেই SAAS তথা রূপনারায়ণের নাবিকরা লবনাম্বু পথে পরিভ্রমণে পারদর্শী ছিল। 
হারপুন-এর গড়ন ও বৃহদায়তন বঁড়শী দেখে ধারণা হয়, এতদঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক 
মৎস্যশিকারীদের লক্ষ্য ছিল কখনও অতিকায় জলচর প্রাণী | প্রকৃতপক্ষে, তাত্রলিপ্তের 
সুপ্রাচীন জনজীবনের বৈশিষ্ট্যে তথা কৃষি, ম€স্যশিকার, মৃগয়া ইত্যাদির উপর প্রতিষ্ঠিত 
অর্থনীতিতে অতীত মিশরে উন্মেষিত প্রথম কৃষিজীবনের ও তৎসম্পৃক্ত সংস্কৃতি ও 
অর্থনীতির এক তুলনীয় ভাবসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। মেরিমদা বেনি সালামা, দেইর 
তাসা কিংবা বদরি-তে পর্যবেক্ষিত নবাম্মীয় সভ্যতার চিহগুলিতে কিছুটা ভ্রাম্যমান 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৭৩ 


অথবা স্থানে স্থানে নিবেশিত খাদ্য-উৎপাদক ও তৎ সঙ্গে খাদ্যান্বেষী গোষ্ঠী জীবনের 
বিভিন্ন খুঁটিনাটি ও প্রগতির প্রতিফলন দেখা ara | পরম্পরাগত বিচারে তাশ্রলিপ্তের 
প্রথম সভ্যতার কাল এখানকার তাজ্রযুগের পূর্বে প্রসারিত ছিল এমন অনুমান করা সঙ্গত। 
বাংলায় নবাশ্মর হাতিয়ারের কাল কত শতাব্দী অতিক্রম করেছে তা আজও স্পষ্টভাবে 
জানা যায় নি। 


পশ্চিমবঙ্গে OPM এবং নবাশ্মীয় সভ্যতার মধ্যে যে যোগসূত্র দেখা যায় তা 
বিভিন্ন দিক থেকে বিচার্য। এখানে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির MATH] অবশ্যই সুদূর অতীতের 
এক অজ্ঞাত পর্বে নিহিত। এই সংস্কৃতি একদা আবাহন করেছে GALA উন্নত 
সভ্যতাকে এমন অনুমান করা অসঙ্গত নয়। সাধারণতঃ কোন সংস্কৃতির পক্ষে সুচারু 
উৎকর্ষের পর্যায়ে উঠে অতি দ্রুত আদিমতায় পিছিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের 
কোন বিপুল পরিবর্তনের জন্য অনেকগুলি শতাব্দীর প্রয়োজন। বর্ধমান জেলায় অজয় 
নদের উপত্যকায় অবস্থিত প্রাগৈতিহাসিক পাগুরাজার টিবিতে পরিচালিত খননকার্যের 
ফলে কয়েকটি নবাশ্মীয় কুঠারকে পাওয়া গেছে তাশ্রযুগের ঠিক পরবর্তী অধ্যায়ে 
এখানকার অধিবসতির তৃতীয় পর্বে। এই তৃতীয় পর্বে পূর্বতন তান্রাশ্মীয় স্তরের 
কৌলালসমূহ এবং ক্ষুদ্রাশ্মর নিদর্শনাবলীর প্রচলন মোটামুটিভাবে অব্যাহত ছিল। এখন 
যেসব নৃতন সামগ্রীর উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ আকৃতির 
ও খুব ছোট ধরনের ত্রিকোণাকৃতি শ্রেণীর নব্য প্রস্তর যুগের কুঠার, কালো রং-এর মসৃণ 
মৃৎপাত্র এবং লোহার অস্ত্র। লৌহ পিণ্ড, লৌহ অস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট ডিম্বাকৃতি চুল্লিসমূহকে 
অবশ্য সাধারণতঃ দেখা গেছে তৃতীয় যুগের সীমাস্তজ্ঞাপক সংস্তরে। এখানে উল্লেখ্য, 
বর্ধমান জেলায় অবস্থিত প্রাগৈতিহাসিক বাণেশ্বর ডাঙ্গার তৃতীয় পর্বের BAS লৌহপিগু 
পর্যবেক্ষিত হয়েছে। বীরভূম জেলায় প্রবাহিত কোপাই নদীর তীরে প্রসারিত মহিষদলের 
প্রাগৈতিহাসিক টিবিতে ভারতীয় পুরাতত্ত সর্বেক্ষণ কর্তৃক পরিচালিত উৎখননের ফলেও 
দেখা গেছে তাত্রযুগের পরেই লোহার অস্ত্রাদির আবির্ভাব ঘটেছে। উল্লিখিত দ্বিতীয় 
পর্বে কিন্তু পূর্বতন লাল-কালো কৌলাল ও ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনাবলীর মোটামুটি উপস্থিতি 
একই প্রকার। মৃৎপাত্রসমূহে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও তা ক্রমান্বয় ধারাকেই 
প্রমাণিত করে। 


পশ্চিমবঙ্গের প্রত্ুতত্ব অধিকারের দ্বারা পাগুরাজার টিবি ও বাণেশ্বর ডাঙ্গায় 
যে পর্বগুলির অস্তিত্ব আবিষ্কৃত তা অপরাপর খননসমূহের দ্বারা যথাযথভাবে সমর্থিত 
হয়েছে। পাণ্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগের নিদর্শন কিছু পরিমাণ অঙ্গারের নমুনা ‘অঙ্গার 
চতুর্দশ" (কার্বন ফোর্টিন) পরীক্ষার দ্বারা জানা যায় এই যুগ সম্বন্ধে প্রযোজ্য প্রাচীনত্ব 


৭৪ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


খৃষ্টপূৰ্ব ১০১২+১২০। এই পরীক্ষা নিষ্পন্ন করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ- 
বিদ্যা বিভাগের ভূতপূর্ব প্রধান অধ্যাপক এবং বর্তমানে কলকাতায় অবস্থিত ইণ্ডিয়ান 
আযসোসিয়েশন ফর দি কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স-এ কর্মরত বিজ্ঞানী ডঃ শ্যামদাস চ্যাটার্জী । 
অতিবাহিত তাত্ৰযুগের প্রাচীনত্ব আরও কিছুটা পূর্বকালে প্রসারিত। এই পরীক্ষাগুলি 
অবশ্য সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণযোগ্য। এই পরীক্ষাসমূহের দ্বারা প্রাপ্ত তথ্যাবলী পশ্চিম 
বাংলার সমগ্র তাম্রাশ্মীয় সভ্যতার প্রসঙ্গের উপর আলোকসম্পাত করবে। পাণ্ডুরাজার 
টিবিতে আবিষ্কৃত তৃতীয় যুগের নবাশ্মীয় কুড়োলগুলিকে স্বভাবতই খ্ৰীষ্টপূর্ব প্রথম 
FIA AAS কালে নির্দেশ করা যাবে। একটি তুলনীয় কুড়োলকে পাওয়া গেছে 
আরও পরবর্তী দিগন্তে চতুর্থ যুগের HANTS | এ বিষয়ে সন্দেহ থাকে না। পৃথিবীর 
অপরাপর স্থানের মত পশ্চিমবঙ্গে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির ইতিবৃত্ত সুরু হয়েছে ক্ষুদ্রাশ্মীয় 
‘শিল্পের’ (Boris) সাহচর্ষে এবং এর ক্রমান্বয় ধারাকে খুঁজে পাওয়া যাবে বহু শতাব্দীর 
মধ্যে। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে নিম্ন গাঙ্গেয় উপত্যকার কয়েকটি স্থানেও 
আবিষ্কৃত হয়েছে মসৃণ নবাশ্মীয় HOTA | এইগুলির উপস্থিতি দেখা যায় মূলতঃ আদি- 
এঁতিহাসিক পর্বের নিদর্শনাবলী সমৃদ্ধ বিভিন্ন অধিবসতি ক্ষেত্রে, ডায়মণ্ড হারবার-এর 
সামান্য দক্ষিণে ও উত্তরে যথাক্রমে অবস্থিত হরিনারায়ণপুর ও দেউলপোতায় এবং 
বিদ্যাধরী নদীর অদূরে অবস্থিত চন্দ্রকেতৃগড়ে | যদিও এই তিনটি স্থানেই প্রাক-মৌর্য 
সভ্যতার চিহ-স্বরূপ বিভিন্ন পুরাবস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে তবুও এই তিন অধিবসতি 
ক্ষেত্রে নবাশ্মীয় নিদর্শনাদির প্রকৃত দিশস্ত এখনও অজ্ঞাত। 


এখানে উল্লেখ্য, চন্দ্রকেতুগড় ও হরিনারায়ণপুরে আবিষ্কৃত কয়েকটি পোড়ামাটির 
সীল’ নিঃসংশয়ে এক প্রাগৈতিহাসিক রীতি ও ধর্মীয় প্রত্যয়বোধের সক্ষ্যস্বরূপ। 
অপরপক্ষে, দেউলপোতায় সংগৃহীত হয়েছে হাড়ের অস্ত্র এবং তাশ্রনির্মিত ক্ষুদ্রাকৃতি 
অর্ণবযান ও অন্যান্য রহস্যময় ATTN | নানা দিক্‌ বিবেচনা করে মনে হয়, এই প্রাচীন 
অধিবসতি ac নবাশ্মীয় কুঠারের উপস্থিতি ঘটে মৌর্য-পূর্ব কালের কোন বিস্মৃত 
অধ্যায়ে | গাঙ্গেয় “ব দ্বীপের অন্তর্গত তমলুকে উৎখননের ফলে নবাশ্মীয় কুঠারাদিকে 
পর্যবেক্ষণ করা গেছে ‘উদীচ্যের কৃষ্ণোজ্জ্বল কৌলাল’-এর সঙ্গে তুলনীয় মৃৎপাত্রসমূহের 
পূর্বতন দিগন্তে। 


পূর্ব ভারতে নবাশ্মীয় কুঠারের শেষ বিশিষ্ট অধ্যায় সম্বন্ধে পুরাতাত্তিক কৃষ্ণস্বামী 
ইতিপূর্বে যে অভিমত প্রকাশ করেছেন তার অবশ্যই একটি যথার্থ গুরুত্ব আছে। তবে 
সাম্প্রতিক আবিষ্কারসমূহের ভিত্তিতে এর আরও মুল্যায়ন প্রয়োজন। তার অভিমত 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৭৫ 


অনুসারে শেষের যুগের “নিওলিথ'গুলি 'উদীচ্যের কৃষ্ণোজ্জ্বল কৌলাল', তৎসমসাময়িক 
'লাল-কালো” মৃৎপাত্র এবং অঙ্ক চিহৃযুক্ত মুদ্রার প্রচলন কালের সঙ্গে বিজড়িত। লোহা 
এবং অঙ্ক PEJE মুদ্রার আবির্ভাবের পরেও এদের ব্যবহার চলে এসেছে | আলোচনা 
কালে এই শেষ যুগের নবাশ্মর নিদর্শনগুলিকে তিনি তুলনা করেছেন মালয় এবং 
ইন্দোটানের বিভিন্ন স্থানে এক সাদৃশ্যময় পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত নবাশ্মর দৃষ্টাত্তগুলির ACA | 


"Thus, in Eastern India, we have an association of the 
black-and-red ware and the N. B. P. ware with the late neolithic 
complex of South-East Asia; this phase persisted even after iron 
and punch-marked coins were introduced. This is comparable 
with Malaya and Indo-China.'? 


কৃষ্ণস্বামীর এই সিদ্ধান্তের কারণগুলি সংক্ষেপে নিম্নে উল্লেখ করা হল 2 


> দক্ষিণ ওড়িশায় অবস্থিত জৌগড়ায় শ্রীমতী দেবলা মিত্র কর্তৃক পরিচালিত 
খননের ফলে ‘লাল-কালো’ তথা “কৃষ্ণ-লোহিত' বর্ণের কৌলালের সান্নিধ্যে এক 
বালুকাস্তরে একটি নবাশ্মর কুঠার আবিষ্কৃত হয়েছে। 


২। বিহার রাজ্যে অবস্থিত বৈশালীতে খননকালে পুরাতাত্তিক কৃষ্ণদেব এবং 
বিজয়কাস্ত মিশ্র “এন, বি, পি, সংশ্লিষ্ট স্তরে একটি নবাশ্মর কুঠারের সন্ধান পান। 


© | বিহার রাজ্যে অবস্থিত শোনপুরে উৎখননের ফলে নবাশ্মীয় নিদর্শনের 
সঙ্গে লাল-কালো” কৌলালের সংশ্রব দেখা যায়। 


এখানে উল্লেখ্য, কৃষ্ণস্বামী কর্তৃক রচিত মূল্যবান্‌ নিবন্ধটি প্রকাশিত হবার পর 
প্রাচ্য ভারতে কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের কৌলালের উপর বিশিষ্ট আলোকপাত করেছে বিভিন্ন 
তান্রাশ্মীয় অধিবসতি ক্ষেত্রে পরিচালিত খননকার্য। ফলে এতিহাসিক এ প্রাগৈতিহাসিক 
কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের মৃৎপাত্র সম্বন্ধে আরও সুস্পষ্ট ধারণায় উপনীত হওয়া এখন ASS | 
সুতরাং, জৌগড়া এবং শোনপুরের প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির আরও স্পষ্টাকরণ বাঞ্ছনীয় | 
বৈশালীতে নবাশ্মীয় কুঠারের অবস্থিতি একটি নিজস্ব পরিমগুলজ্ঞাপক হতে পারে। 
স্থান-বিশেষে “এন, বি, পি”র প্রাথমিক দিগন্ত ও অন্যান্য স্থানের তুলনায় প্রাটীনতর। 
থাকে তাতে নবাশ্মীয় সংস্কৃতির মূল AIAG ও প্রেক্ষাপট সম্বন্ধে একটি যথার্থ ধারণার 


>! The Neolithic Pattern of India’, Ancient India, No. 16, p. 63. 


৭৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


পরিবর্তন স্বভাবতই সম্ভব নয়। শ্রেণীবদ্ধ ও ধারাবাহিক উৎখননগুলি বিষয়টির উপর 
আরও আলোকসম্পাত করবে সন্দেহ নেই। 


পশ্চিমবঙ্গের শৈলাঞ্চল ও প্রাচীন পাললিক ভূমিতে আবিষ্কৃত হয়েছে নানা 
মূল্যবান্‌ নবাশ্মীয় নিদর্শন। বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত শুশুনিয়া পাহাড়ের চারপাশে প্রসারিত 
্রস্তরাকীর্ণ ও স্থানে স্থানে মৃত্তিকা আচ্ছাদিত ভগ্ন উপত্যকায় ও শ্রোতস্বতীসমূহের দ্বারা 
খণ্ডিত অথবা বিভক্ত প্রান্তর ও চত্বরগুলিতে সন্ধান পাওয়া গেছে নবাশ্মীয় পর্যায়ের 
কুঠার ও বলয়সমূহের। পাথরের বলয় অথবা সছিদ্র চক্রগুলি সম্ভবতঃ একদা কৃষিদণ্ডের 
সঙ্গে সংযুক্ত করা হত। এইভাবে সংযুক্তির ফলে কাঠের TRIS] দণ্ডের সাহায্যে ভূমিকর্ষণ 
সহজতর হয়েছে। শুশুনিয়া পাহাড়ের অদূরে অবস্থিত বন আসুরিয়া ও হাট-আসুরিয়ায় 
ইতিপূর্বে আবিষ্কৃত হয়েছে উল্লেখযোগ্য নবাশ্মীয় কুঠার। বন আসুরিয়ায় প্রাপ্ত খাজকাটা 
ও দীর্ঘাকৃতি বাটালীগুলি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ । প্রত্বতত্তীয় বিবেচনায় এগুলির অবয়ব 
তাৎপর্যময়। এগুলি স্মরণ করিয়ে দেয় ওড়িশার অন্তর্গত ঠাকুরানী, সীতাভগ্জী এবং 
দশপাল্লায় সংগৃহীত তুলনীয় খীজকাটা বাটালীসমূহকে বোর চিজেল)। বাঁকুড়া জেলায় 
প্রবাহিত কংসাবতী নদীর তীরভূমিতে কুরকুটিয়ায় আবিষ্কৃত হয়েছে তিনটি «anita 
কুঠার। এছাড়া এই নদীর তীরে অবস্থিত বড়কোলায় আবিষ্কৃত হয়েছে বিভিন্ন পাষাণ 
বলয় ও একটি অসমাপ্ত TAMA POTS | শেষোক্ত নিদর্শনটিতে লক্ষ্য করা যায় কেমন 
করে ব্যাসন্টপাথরের খণ্ড থেকে একটি কুঠারকে রূপ দেওয়া হচ্ছে। হাতিয়ারের ধারাল 
অগ্রভাগ বিস্তৃত ও WHI | নীচের দিক্‌ সমতল এবং পৃষ্ঠদেশ উত্তল। এই “সমতল-উত্তল' 
(প্লেনোকন্ডেক্স) কুড়োলের পশ্চাতভাগ CIT PHY হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য 
ROY সংগ্রহালয়ে সংরক্ষিত এই অসমাপ্ত অস্ত্রটি বাংলার নবাশ্মীয় হাতিয়ার নির্মাণ 
শিল্প প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। 


বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় যেমন সংগৃহীত হয়েছে নবাশ্মীয় নিদর্শনসমূহ 
তেমনি পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া জেলায়ও পর্যবেক্ষিত হয়েছে তুলনীয় সাংস্কৃতিক পর্যায়ের 
ৃষ্টাত্তসমূহ। এগুলির মধ্যে আছে কৃষি-দণ্ড অথবা মুশলাস্ত্রের জন্য ব্যবহৃত পাষাণ 
বলয় অথবা ARA পাষাণ-চত্র। 


পশ্চিমবঙ্গের অপরাপর অঞ্চলে, বিশেষতঃ মেদিনীপুর জেলায় প্রবাহিত 
সুবর্ণ রেখা নদীর দক্ষিণ দিকে প্রসারিত উপত্যকায় আবিষ্কৃত হয়েছে নবাশ্মীয় Fata ও 
অন্যান্য হাতিয়ার ইত্যাদির নানা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এছাড়া একশ্রেণীর দীর্ঘাকৃতি কুঠার 


নবাশ্মীয় পর্ব ও সভ্যতার উত্তরণ ৭৭ 


জেলার প্রাচীন পাললিক সমাবেশেও উপস্থিতি ঘটেছে নবাশ্মীয় কুঠারসমূহের। রাজ্য 
অদূরে অবস্থিত পতণ্ডায় (পোতণ্ডা) আবিষ্কৃত হয়েছে কয়েকটি নব্য প্রস্তর যুগের কুঠার। 
TAP ও বত্রেম্থরের অববাহিকায় অবস্থিত পতণ্ডায় কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের 
মৃপাত্রসমূহের ভগ্ন নিদর্শন ও ক্ষুদ্রাশ্মীয় শক্কাদিও আবিষ্কৃত হয়। অনুমান করা যায় 
AOGA GPM এবং নবাশ্মীয় সংস্কৃতিদ্বয়ের মধ্যে কোন সংযোগ বিদ্যমান ছিল। 
অনুরূপ দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা গেছে পাণুরাজার টিবির গভীরে তৃতীয় পর্বের Bes | 


খয়রাশোল থানায় অবস্থিত ভীমগড়ে একটি মন্দিরের মধ্যে এক সময়ে দেখা 
গেছে আটটি নবাশ্মীয় কুঠারকে বিভিন্ন দেবতার প্রতীকরূপে পূজিত হতে। পর্যবেক্ষণ 
কালে বর্তমান লেখককে দেবায়তনের সরলপ্রাণ পুরোহিত কুঠারগুলির তাৎপর্য সম্বন্ধে 
এভাবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্বতত্ব অধিকারের অধীক্ষক 
শ্রীদেবকুমার চক্রবর্তীর বর্ণনা ও মন্তব্য উদ্ধৃত করা হল 2 


“ভীমগড় রেল ষ্টেশন হইতে অনায়াসে এই স্থানে আসা যায়। এই দুর্গের 
অধিকাংশ স্থান এখন কৃষিক্ষেত্রে পরিণত, পাগুবগণের স্মৃতিচারণ এখন আর শোনা 
যায় না। 


এই মন্দির সাম্প্রতিক কালের। গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গের চারিপার্থে ৮টি নব প্রস্তর যুগের 
FOIA HAHA আকারে লিঙ্গটিকে বেষ্টন করিয়া আছে, সমীক্ষা কালে দেখা গিয়াছে। 
উত্তর প্রদেশের বাঁদা জেলার নব্য প্রস্তর যুগের কুঠারগুলির বর্ণনা প্রসঙ্গে জে. কক্বার্ন 
এই একই রীতির উল্লেখ করিয়াছেন। বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এই ধরনের 
কুঠারের অনেকগুলি তিনি বিরাট আকারের লিঙ্গের সহিত সংযুক্ত যোনিপট্রের মধ্য 
হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন। বীরভূম জেলার ইলামবাজার থানার অন্তর্গত বাতিকার 
গ্রামে বৃক্ষতলে “ধর্মঠাকুরের থানে’ নব্য প্রস্তর যুগের অনেকগুলি হাত-কুঠারের অবস্থিতি 
ডঃ অমলেন্দু মিত্র আমাদের গোচরে আনিয়াছেন।”১ 


১৯৬৯ সালে রাজ্যের AOS অধিকারের প্রচেষ্টায় মেদিনীপুর জেলায় 
সুবর্ণরেখা নদীর দক্ষিণে প্রসারিত ভগ্ন উপত্যকায় ও শিলাকীর্ণ প্রান্তরে আবিষ্কৃত হয়েছে 
বিভিন্ন শ্রেণীর নবাশ্মীয় হাতিয়ার। এই সংগ্রহের মধ্যে সবিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাঝারি 


১। বীরভূম জেলার পুরাকীর্তি, পৃষ্ঠা ঃ evi 


৭৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


ও বড় ধরনের SR কুঠার কিংবা কোদালী। উল্লিখিত wae নিদর্শনগুলি স্মরণ করিয়ে 
দেবে কাথির অদূরে অবস্থিত দেউলবাড়ে প্রাপ্ত একটি তুলনীয় হাতিয়ারকে। কালিম্পং 
অঞ্চলে সংগৃহীত একটি HBR কুঠার স্বভাবতই একই শ্রেণীর পরিচায়ক। সুবর্ণরেখার 
তটপ্রান্তে প্রসারিত উপত্যকায় ও উচ্চভূমিসমূহে আবিষ্কৃত একটি দীঘকৃতি wey তথা 
ভাটি সমন্বিত কুঠার এই রাজ্যে একক | ইতিপূবেই উল্লিখিত হয়েছে কোদালীর সঙ্গে 
কিছুটা সাদৃশ্যযুক্ত এই অন্ত্রগুলি স্মরণ করিয়ে দেবে অসম ও দৃর-প্রাচ্যের তুলনীয় 
ৃষ্টাত্তগুলিকে। রাটীর নিকটবর্তী লোহারডাগায় আবিষ্কৃত কয়েকটি জেডাইটের খাজকাটা 
অস্ত্র এবিষয়ে আরও আলোকপাত করবে, কারণ এই ধরনের নিদর্শনের সঙ্গে TA- 
প্রাচ্যের নবাশ্মীয় সংস্কৃতির একটি যোগসূত্র আছে। পরিশেষে উল্লেখ্য, পাথরের AER 
কুঠারের সঙ্গে তাত্রনির্মিত ASH পরশুর কোন সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক। তবে এই 
সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষিত চিত্রটি এখনও স্পষ্টীকৃত হয় নি। ভবিষ্যত কালের 
আবিষ্কারসমূহেরই উপর নির্ভর করছে এর পূর্ণ ব্যাখ্যা। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, 
নবাশ্মীয় বাংলার জনগোষ্ঠী সমর্থ হয়েছিল এক প্রগতিশীল সংস্কৃতিকে গড়ে তুলতে। 
ভারতীয় সভ্যতায় প্রাগৈতিহাসিক কালের এই সৃজনশীল সংস্কৃতির দান অসামান্য। 


ষষ্ঠ অধ্যায় 
তান্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় 


পশ্চিমবঙ্গে তাম্রাশ্মীয় সভ্যতার অভ্যুদয় নিঃসংশয়ে দক্ষিণ-এশিয়ার প্রাচীন 
ইতিবৃত্তের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। একটি সুবিস্তৃত পটভূমিকায় এই সভ্যতার কিরণরেখা 
পরিচয় দেয় কৃষ্টি ও প্রগতির অরুণোদয়কে। | APIA পর্বে জীবনচর্যার যে ধীর গতি 
দেখা গেছে এবং যে রক্ষণশীলতা কিয়দংশে অভিব্যক্ত হয়েছে ক্ষুদ্রাশ্মীয় ও নবাশ্মীয় 
কালের প্রারম্ভে আজ তার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রাচীন বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই তাত্র অথবা 
ব্রোঞ্জ যুগে দৃষ্টিগোচর হয় সমৃদ্ধির এক অগ্রগতি | প্যালেস্টাইনের অন্তর্গত জেরিকো 
কিংবা অন্যান্য কয়েকটি প্রত্মক্ষেত্র অথবা দৃষ্টান্ত ছাড়া মূলতঃ vr কিংবা ব্রোঞ্জ যুগই 
নগরের যুগ। ধাতুর ব্যবহার কালে এবং এক উন্নত অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই 
নগরীসমূহ প্রায়ই হত জনজীবনের এক-একটি বিশিষ্ট কেন্দ্র। এগুলি কখনও রূপ 
নিয়েছে সংস্কৃতির আপন মাধুর্যে এবং কখনও দেখা দিয়েছে প্রাকার বেষ্টিত ও কর্মচঞ্চল 
CEARTA | 


প্রকৃতপক্ষে, OY অথবা ব্রোঞ্জ যুগে সভ্যতার যে বিকাশ ঘটে তার প্রভাব 
পরিলক্ষিত হবে প্রাচীন জনমানসের অভিব্যক্তিতে, ধর্ম ও শিল্পের নানা ক্ষেত্রে এবং 
বিবিধ মূল্যায়নে । প্রাগৈতিহাসিক পর্বের সভ্যতায় যে সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ, প্রতিরক্ষা 
কিংবা বীরত্বভাবনা এবং সামাজিক সংগঠনের পরিচয় পাওয়া যায় তারই প্রেক্ষাপটে 
যেন রচিত হয়েছে বিভিন্ন দেশের মহাকাব্যগুলির অন্তর্ভূক্ত চারণগান এবং কাহিনীমালা। 
শোণিত রঞ্জিত মহাসংগ্রামের ইতিবৃত্ত সবই মূলতঃ প্রতিফলিত করে সভ্যতার এক 
অতীত পর্বকে যার সমাপ্তি ঘটেছে আদি-এঁতিহাসিক কালেরও পূর্বে | এখানে স্মরণ 


৮০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


রাখতে হবে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাত্রযুগ ও লৌহযুগের মধ্যে এক অস্পষ্ট সম্পর্ক তথা 
অকিঞ্চিৎকর ব্যবধান লক্ষ্য করা AA | এভাবে কোন কোন স্থলে তামা এবং লোহা 
ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট সীমারেখাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। যে প্রকৃতিরই হক 
না কেন, প্রাগৈতিহাসিক কালের উন্নত জনজীবনের গুরুত্ব সর্বত্রই আপন বৈশিষ্ট্যে ও 
পারিপার্থিকতায় বিচার্য। ore কিংবা ব্রোঞ্জ যুগের নাগরিক কিংবা গ্রামীণ সংস্কৃতিগুলি 
এবংভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত সে যুগের নানা অধিবসতিসমূহ ইতিহাসের বিভিন্ন 
আশ্চর্য ও তথ্যাকীর্ণ অধ্যায়কে সৃজন করেছে সন্দেহ নেই। মহেপ্জো-দারো ও হরপ্লা 
(সিন্ধু উপত্যকা), উর (মেসোপটামিয়া),ট্রয় (এশিয়া মাইনর), মাইসোনী (গ্রীসের মূল 
ভূখণ্ড) এবং ক্রীট দ্বীপের লুপ্ত পুরীগুলির গৌরব ও এশ্বর্যসম্তার সর্বজনবিদিত। এ 
ছাড়া আরও আছে নানা প্রাচীন নগরীসমূহের ইতিহাস এবং তাদের আবিষ্কারের 
রোমাঞ্চকর কাহিনী । তাম্রাশ্মীয় পর্বের কিংবা ব্রোগ্জযুগের যে সব অধিবসতি আজ 
ভারতে আবিষ্কৃত হয়েছে তাদের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বও আজ সবিশেষভাবে আকর্ষণীয়। 


জেলার অজয় নদের উপত্যকায় অবস্থিত পাগুরাজার টিবির ধ্বংসাবশেষে ১৯৬১ 
সালে। এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্রুতত্ত অধিকারের দুই অধীক্ষক শ্রীদেবকুমার চক্রবর্তী 
ও ডঃ শ্যামঠাদ মুখার্জী এই টিবির উপরিভাগ থেকে সংগ্রহ করেন কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের 
কৌলাল ও মনোরম রেখায় চিত্রিত লোহিতোজ্জ্বল ভাণ্ডের অংশাদি এবং কতিপয় 
ক্ষুদ্রাশ্মীয় দৃষ্টান্ত ও সংশ্লিষ্ট fore | এগুলি পর্যবেক্ষণ করে বর্তমান লেখকের দৃঢ় প্রত্যয় 
জন্মে যে এগুলি GACT | কিন্তু যেহেতু সমগ্র প্রাচ্য ভারতে এখনও তাত্রাশ্মীয় সভ্যতার 
প্রসারণ সম্বন্ধে তথ্যাদির অভাব ছিল সেহেতু এই আবিষ্কারকে সম্যকভাবে এগিয়ে 
নিয়ে যাবার প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসযোগ্য করার 
এবং সমগ্র বিতর্কের সম্মুখীন হওয়ার। 


বর্ষাকাল অতিবাহিত হবার পর প্রত্বক্ষেত্রটি পরিদর্শিত হয় বর্তমান লেখক 
PSS | পরিদর্শন কালে পাণ্ুরাজার টিবির ঢালু গাত্রে এবং কিছুটা পূর্ব দিকে একটি সদ্য 
খনিত খালের প্রস্থচ্ছেদে দৃষ্টিগোচর হয় কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের এক আশ্চর্য সমারোহ। 
এছাড়া আবিষ্কৃত হয় কোশীপাত্রের নিদর্শন, অঙ্গার কৃষ্ণ বর্ণে চিত্রিত লোহিতোজ্জ্বল 
মৃৎ ভাণ্ডের অংশ, ধূসর বর্ণের খোদিত মৃৎ্পাত্রের নমুনা এবং অন্যান্য নানা তৈজসপত্রাদির 
দৃষ্টান্ত যেগুলির অসাধারণ গুরুত্ব প্রমাণিত হয় ক্রমান্বয় উত্খননের দ্বারা । পর্যবেক্ষণ, 
গবেষণা এবং বিশ্লেষণের দ্বারা উদ্ঘাটিত হতে থাকে এক-একটি রহস্য, দেখা দেয় 


.  তাত্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৮১ 


আলোকসম্পাতকারী তথ্যাদি ক্রমশঃ নিরীক্ষিত হল কৃষ্ণ-লোহিত কৌলালের অভ্যন্তরে 
প্রায়-স্বচ্ছ শ্বেত বর্ণের চিত্রমালা তথা অলঙ্করণ। প্রথম দিকে পাণুরাজার টিবিকে যারা 
প্রকৃত গুরুত্ব দান করেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রবীণ অধ্যাপক এবং একদা পুনার 
ডঃ হাসমুখ ধীরাজলাল সাঙ্কালিয়া। পাগুরাজার টিবি তথা অজয় উপত্যকার তাত্রাশ্মীয় 
মৃৎপাত্রাদির সঙ্গে ডঃ সাঙ্কালিয়ার পরিচয় ঘটে ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন 
দিল্লীতে ভারতীয় YASS সর্বেক্ষণের শতবার্ষিকী উৎসব উদ্যাপিত হয়। উল্লিখিত 
শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত পণ্ডিত সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের ASS অধিকার 
কর্তৃক আনীত নিদর্শনাবলী অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সভায় প্রথম বিঘোষিত হয় 
পাণ্ডুরাজার টিবিতে আবিষ্কৃত তাত্রাশ্মীয় নিদর্শনাবলীর কথা | এই সভ্যতার সম্যক গুরুত্ব 
সম্বন্ধে অবহিত হতে অবশ্য অতিবাহিত হয় আরও কয়েক বছর ক্রমান্বয় উৎখনন ও 
বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে। এক বন্ধুর পথ অতিক্রম করে এই আবিষ্কার-কাহিনী 
অবশেষে লাভ করেছে তার যথার্থ স্বীকৃতি। 


পাণ্ডুরাজার টিবির উচ্চতম অংশে এবং ঢালু গাত্রে চারবার উৎখনন পরিচালিত 
হয় ১৯৬২, "WO, V8 এবং "৬৫ সালে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য AOG অধিকারের 
GPR অনুষ্ঠিত এই খননকাৰ্য এক গুরুত্বপূর্ণ আলোকসম্পাত করে বাংলার তাত্রাশ্মীয় 
সভ্যতার উপর। এই সময়ে উন্মোচিত হল প্রাগৈতিহাসিক বাংলার বিভিন্ন মানব- 
সমাধি। আবিষ্কৃত হল সে যুগের অধিবসতি স্তরসমূহের পরম্পরা, মনোরম মৃৎপাত্রের 
সম্ভার, তান্রসামগ্রী ও অপরাপর নানা নিদর্শন খ্রীষ্ট-পূর্ব ছি-সহম্রকের শেষার্ধে যে 
এদেশে এক উচ্চমানের সভ্যতার উদয় হয়েছিল সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রইল 
all | চারবার উৎখনন পরিচালিত হবার ফলে সভ্যতার যে চিত্রটির সঙ্গে পরিচিত হওয়া 
গেল তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ 2 


অধিবসতির প্রাচীনতম পর্যায়ে এখানকার ভূপৃষ্ঠ ভিন্নরূপ ছিল। মনে হয়, তখন 
অজয় নদ কিংবা তার একটি শাখা টিবির কিছুটা উত্তর দিক্‌ দিয়ে প্রবাহিত হত। আরেকটি 
SMTA সম্ভবতঃ এর সঙ্গে একদা মিলিত হয়েছে পূর্ব দিকে। খননসমূহের ফলে 
দেখা গেছে অধিবসতির প্রথম পর্বে জায় গাটির উপরিভাগে প্রসারিত ছিল এখনকার 
ভূ-নিমে দৃশ্যমান্‌ রক্তাভ বিন্দু-সমন্বিত বালুকা ও পলির স্তর। “মোট্ল্ড স্যাণ্ডি সিল্ট' 
(Mottled Sandy Silt)-কে ইতিপূর্বে পর্যবেক্ষণ করা গেছে দামোদর তীরে 
বীরভানপুরে ক্ষুদ্রাশ্মীয় আয়ুধ চিহ্নিত স্তরের নিম্ন ভাগে। একটি বিশিষ্ট ধারণা অনুসারে 
এইস্তর প্রকৃতপক্ষে নিন্নবর্তী বালুকা-প্রস্তরের (Sand Stone) এক রূপাস্তর। এই 
প্রাগৈতিহাসিক -- ৬ 


৮২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


রূপান্তরিত পর্যায়ে পরিলক্ষিত হবে কেমন করে আবহাওয়াজনিত কারণে স্থানীয় বালুকা- 
প্রস্তর MPSA (Laterite) পরিণত হয়েছে। মাকড়ার দানা মেশানো এই রক্তাভ 
ভূমিতে প্রথম স্থাপিত হয় তাত্রযুগের অধিবসতি। এই নিবেশনের গুরুত্ব সংশয়াতীত। 
প্রথম পর্বের স্তরসমূহে যেমন দেখা গেছে বিভিন্ন কুটারের ধ্বংসাবশেষ তেমনি আবিষ্কৃত 
হয়েছে মানব-সমাধি এবং হাতে তৈরী ও কুমোরের চাকায় নির্মিত মৃৎপাত্রাদি। এ ছাড়া 
এই যুগের স্তর থেকে পাওয়া গেছে ক্ষুদ্রাশ্মীয় আয়ুধের নিদর্শন। উল্লিখিত কুটারগুলি 
ছিল ক্ষুদ্র ধরনের। এদের মেঝে অথবা গৃহতল হত মাকড়ার দানা তথা কাকরপেটা 
এবং প্রাচীর হত কাদার আস্তরণ দেওয়া বাঁশ ও কাঠকুটোর। গোল অথবা আয়ত 
গৃহতলে খুঁটির গর্ত দেখে অনুমান করা যায় কুঁড়েঘরগুলির চাল ছিল পাতা কিংবা 
খড়ের দ্বারা আচ্ছাদিত। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, পাণগুরাজার টিবির পরবর্তী 
স্তরগুলিতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে অগ্নিকাণ্ডের সক্ষ্যস্বরূপ দশ্ধীভূত মৃন্ময় আস্তরণের খণ্ড 
খণ্ড অংশ যাদের উপর বাঁশ ও কাঠকুঠোর ছাপ সুস্পষ্ট | এই ধরনের দৃষ্টান্ত অবশ্য 
প্রাচীন অধিবসতিগুলিতেও দেখা যায়। কারণ, এই শ্রেণীর মাটির ঘর কিংবা সংশ্লিষ্ট 
তৃণ কুটার তো আবহমান কাল থেকেই বাংলা তথা ভারতের গ্রামীণ অধিবসতির 
সাম্ষ্যস্বরূপ। এই কুটারের মধ্য দিয়েই উদ্ভাসিত হয়েছে ভারতীয় সভ্যতার শাশ্বত জ্যোতি। 


পাণুরাজার টিবির প্রথম যুগে বিভিন্ন মানব-সমাধির সব ক্ষেত্রেই কঙ্কালকে 
করোটিবিহীন অবস্থায় শায়িত দেখা যায়। প্রাগৈতিহাসিক যুগের এই কবরগুলিকে খোঁড়া 
হয়েছে লাল্চে বিন্দু ও ছোপ-সমন্বিত বালুস্তরে যার উপর প্রথম সূচীত হয়েছে এখানকার 
তাম্ৰাশ্মীয় সংস্কৃতি 1 এই আদি অধ্যায়ে যে সব মৃৎপাত্রের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের 
মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিম্নে বর্ণিত দৃষ্টাত্তসমূহ £ 

> | কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের কৌলাল। 

২। হাল্কা বাদামী রং-এর কলস। 

© অভ্রচুর্ণ- মিশ্রিত বালুকাময় মৃত্তিকায় গঠিত হাঁড়ি-কলসী। 

8 | লাল্‌চে অথবা ধূসর বর্ণের হাতে-তৈরী মৃৎপাত্র। 

সমগ্র বিষয়টি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, এখানকার প্রথম পর্বেই সূচীত 
হয়েছে কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের TINA | তবে এই কৌলালের অন্তর্গত এক শ্রেণীর 
কলস নির্মাণে পরবর্তী কালের অধিক প্রচলিত কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের মৃৎপাত্রের তুলনায় 
কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির রীতি প্রদর্শিত হয়। এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্র সম্বন্ধে 
সামান্য আলোচনা করা ARS | উল্টো করে পোড়াবার ফলে এই শ্রেণীর মাটির বাসনের 


SJA ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৮৩ 


অভ্যন্তর ভাগ কালো এবং বহির্ভাগ লাল, কমলা ইত্যাদি বর্ণের VI | সম্ভবতঃ, এই R- 
এর বৈপরীত্যকে প্রজ্ভ্বোলতর করবার জন্য কুম্তকাররা মৃৎপাত্রগুলির উপর বর্ণলেপেরও 
প্রয়োগ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে, যথা বাংলার তাত্রাশ্মীয় পর্বের ক্ষেত্রে এগুলি এত 
মনোরমভাবে মসৃণীকৃত যে, তাদের সৌন্দর্য এক চারুকলার পর্যায়ে উপনীত। প্রাচীন 
মিশরের নবাশ্মীয় পর্বে তথা সংস্কৃতির উন্মেষ কালে কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের কৌলালের 
উপস্থিতি পরিলক্ষিত ST | ভারতে সৌরাষ্ট্রের অন্তর্গত লোথালে আবিষ্কৃত হরপ্লা যুগের 
নৌবন্দরের ধ্বংসাবশেষে তথা অধিবসতির গভীরে সন্ধান পাওয়া গেছে এই শ্রেণীরই 
বৈশিষ্ট্য পূর্ণ নিদর্শনাবলী। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যভারত, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে এই 
কৌলালের উপস্থিতি ঘটেছে সুপ্রাচীন নানা সভ্যতার পটভূমিকায়। মধ্য ভারতের 
উজ্জয়িনীর অদূরে অবস্থিত কায়াথায় এই মৃৎপাত্রের প্রচলন ছিল সম্ভবতঃ এমন এক 
অতীত যুগে যে সময়ে সিন্ধু-উপত্যকায় হরপ্লা সভ্যতার VWI ঘটেছে কি ঘটে নি। 
PMA পরিলক্ষিত সভ্যতার উত্তরাধিকার হয়ত রাজস্থানের অন্তর্গত আহাড় এবং 
মধ্যভারতে প্রবাহিত নর্মদা তীরে অবস্থিত নাভদা-টোলীর তাত্তরাশ্মীয় সংস্কৃতি | দক্ষিণ 
ভারতে কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের উপস্থিতি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষিত হয় মহাশ্মীয় 
(মেগালিথিক) সমাধিসমূহের বৃত্তে। দাক্ষিণাত্যে প্রাপ্ত এই শ্রেণীর কৌলালের গুরুত্বও 
অবিসংবাদী রূপে স্বীকৃত। 


উপরে বর্ণিত কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের ব্যাপ্তি ও প্রাটীনত্বের পটভূমিকায় 
পাগুরাজার টিবির প্রথম পর্বে ও পরবর্তী কালে পর্যবেক্ষিত এই কৌলালের উপস্থিতি 
যে সবিশেষরূপে তাৎপর্যময় তা সন্দেহাতীত। এই পর্বের স্তরে প্রাপ্ত এক শ্রেণীর 
ফিকে লাল রং-এর কিংবা ধূসর বর্ণের মৃৎপাত্রের গায়ে ধান এবং ধানের খোসা অথবা 
শিসের ছাপ দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'ইকনমিক বোটানিস্ট বিজ্ঞানী শ্রী এ. 
কে. পাল পরীক্ষান্তে জানিয়েছেন এই ধানের পরিচয়। জানা গেল এই ধান কৃষি- 
ধান্যের শ্রেণীভুক্ত “Oryza Sativa L. Graminae” | এই আবিষ্কারের দ্বারা 
প্রমাণিত হল পাণুরাজার টিবির প্রাচীনতম অধিবসতি পর্বে এখানকার কৃষি-জীবনের 
মূল ভিত্তি ছিল ধান-চাষ। বঙ্গোপসাগরের সানিধ্যেই যে প্রথম ধান্য উৎপাদিত হয়েছে 
এ বিষয়ে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। পাগুরাজার টিবির প্রথম যুগ সীমাবদ্ধ ৭নং 
স্তরে এবং ৬নং স্তরের নিম্নাংশের ALBA | ৭নং-এর নীচেকার আরও ঘন লাল ছোপ 
ও বিন্দু সমন্বিত প্রসারণকে অবশ্যই ভূ-নিন্ের স্বাভাবিক পর্যায়রূপে গণ্য করা যায়। 
প্রথম যুগের অধিবসতির উপর একটি বিস্তীর্ণ বালুকাস্তর দেখা AA | এই বালুকাস্তর 
আবহাওয়ার সংস্পর্শে কখনও ধূসর শ্বেত বর্ণ এবং কখনও পীতাভ বর্ণ ধারণ করেছে। 


v8 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


অতীতের কোন প্লাবনের ফলে প্রথম যুগের চিহৃগুলি এইভাবে আবৃত হতে AA | 
কতিপয় কারণবশত অনুমান করা যায়, এই প্রাকৃতিক উপপ্লবের প্রথম দিকেও তাশ্রাশ্মীয় 
সভ্যতার অধিবসতি পরিত্যক্ত হয় নি যা অনিবার্ধরূপে ঘটেছে পরবর্তী কালে | উল্লিখিত 
বালুকাস্তরটি পর্যবেক্ষণ করে মনে হয় প্লাবনের পর অনেকদিন পাণুরাজার টিবি পরিত্যক্ত 
ছিল। হয়ত শতাব্দী কালেরও উপর এখানে আর কোন উল্লেখযোগ্য গ্রাম কিংবা Pola 
সমষ্টি গড়ে ওঠে নি। 


এর পর পাণ্ুরাজার টিবিতে আসে অধিবসতির দ্বিতীয় পর্ব। এই পরেই পূর্ণ 
বিকাশ ঘটে স্থানীয় তাত্রাশ্মীয় সংস্কৃতির। দ্বিতীয় পর্বে ব্যবহৃত হয়েছে কৃষ্ণ-লোহিত 
বর্ণের মৃৎপাত্র ও কালো রং-এ চিত্রিত লোহিতোজ্জ্বল কৌলাল। প্রথমোক্ত দৃষ্টাত্তগুলির 
অভ্যন্তর ভাগে অনেক ক্ষেত্রে HOTS বর্ণের চিত্রণ দেখা যায়। এই শ্রেণীর রূপায়ণে 
JAM, বিন্দু, কৌণিক চিহ্ন ইত্যাদির সারি কিংবা সমাবেশ প্রদর্শিত। একটি ক্ষেত্রে এই 
'লাল-কালো' ধরনের একটি অতি ক্ষুদ্র কলসের বহির্ভাগেও ঘৃত বর্ণের চিত্রণ পরিলক্ষিত 
হয়। দ্বিতীয় পর্বের অন্তর্গত কৃষ্ণ-লোহিত (লাল-কালো) কৌলালের নিদর্শনাবলীর 
মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুডৌল অথবা খাঁজ-সমন্বিত ভাণ্ড, কে“শীপাত্র, টিউলিপ" পুষ্পের 
মত এবং কখনও উপ্টানো শিরস্ত্রাণের আকৃতি পাত্র, স্কীত-দেহ কলস, বড় ধরনের 
কুম্ভ স্থাপনের নিমিত্ত তৈরী বৃত্তাকার বলয় ইত্যাদি। খাজ-সমন্বিত ভাগুগুলির কানা 
সাধারণতঃ কিছুটা হেলানো অবস্থায় বাইরের দিকে প্রসারিত। এগুলির মসৃণ ও ছুরিকার 
আকৃতি বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক। কোশীপাত্রসমূহের নল অথবা মুক্ত প্রবাহনালী তুলনীয় পূজায় 
ব্যবহৃত কোশাকুশীর সঙ্গে | পাণ্ডুরাজার টিবিতে প্রাপ্ত কোশীপাত্রের নলের অগ্রভাগ 
সর্বক্ষেত্রেই মীনপুচ্ছের মত ছড়ানো এবং ভাণ্ডের সঙ্গে সংযোগের দিক্‌ চাপা। বর্ণিত 
কোশীপাত্রগুলি সবিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই শ্রেণীর নিদর্শনের অঙ্গ বৈশিষ্ট্য পূর্ণ 
নলসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয় ইতিহাসপূর্ব কালে মিশর, SIG দ্বীপ, এশিয়া মাইনর, 
ইরাণ, চীন দেশ এবং ভারতের অপরাপর স্থানে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্রের 
নলসমূহকে। ‘চ্যানেল স্পাউট’, ব্রিজ স্পাউট’, টী পট স্পাউট” ইত্যাদি নামে পরিচিত 
এই প্রণালগুলি মূলতঃ OHS কিংবা ব্রোঞ্জ যুগের পরিচায়ক। প্রাগৈতিহাসিক চীন দেশের 
ব্রোঞ্জ নির্মিত তৈজসপত্রাদির অবয়বে এই ধরনের প্রণাল পরিলক্ষিত হয়। রাজস্থানের 
অন্তর্গত খুরদিতে একটি তামার কোশীপাত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর ক্রমঃসঙ্কীর্ণ সোজা 
প্রণাল পথ তুলনীয় ইরানের অন্তর্গত তেপ গিয়ানে আবিষ্কৃত Ow নির্মিত কোশীপাত্রের 
ANA পথের ACH | মধ্য-ভারতে নর্মদা তীরে মাহেশ্বর ও নাভৃদা-টোলীর প্রাগৈতিহাসিক 
অধিবসতি BAS পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে কোশীপাত্রের উপস্থিতি | নাভূদা-টোলীর 


BRYA ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ” ৮৫ 


তাত্রাশ্মীয় স্তরে প্রাপ্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কোশীপাত্র সাদৃশ্য বহন করে খুরদি (রাজস্থান) এবং 
ইরাণের ধাতুনির্মিত কোশীপাত্রের ACT | 


এখানে উল্লেখ্য, পাণ্ডুরাজার টিবিতে আবিষ্কৃত কোশীপাত্রসমূহের প্রণালের 
গঠন ভিন্নরূপ। এদের বিস্তৃত মুখ একটি স্বতন্ত্র শিল্পবোধের সাক্ষ্য দেয়। চীন ও মিশরের 
তুলনীয় নিদর্শনগুলির মত এখানেও একটি নিজস্ব ইতিবৃত্ত থাকা ASI | পাণ্ডুরাজার 
টিবির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় যুগের কোশীপাত্রসমূহের মধ্যে যেন একটি বিবর্তনগত পার্থক্য 
প্রতিফলিত হয়। ক্রমান্বয় পর্যবেক্ষণাদির দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, দ্বিতীয় যুগের 
কোশীপাত্রগুলির তুলনায় তৃতীয় যুগের কোশীপাত্রগুলির প্রণালগুলি কম দীর্ঘ কিন্তু 
অধিকতর AGS | এখানকার চতুর্থ যুগে এঁতিহাসিক) এই পাত্র আরও বিবর্তিত এবং 
সাধারণ কৌলালে গঠিত; এদের প্রণালপথ এখন আরও ক্ষুদ্রতর এবং অকিঞ্চিৎকর 
রূপ ধারণ করেছে। এই শেষোক্ত রীতির প্রারস্ত কালকে নির্দেশ করা যায় শ্রীষ্ট-পূর্ব 
প্রথম সহত্রকের মধ্যভাগে কিংবা আরও পরবর্তী কালে | ভিন্নতর পটভূমিকায় অবশ্য 
চঞ্চুমুখ ভাণ্ডকে AAG ব্যোল” আরও দূর অতীতে নির্দেশ করা সম্ভব। পাণ্ডুরাজার 
টিবির গভীরে আবিষ্কৃত কোশীপাত্রের প্রণালের উপরিভাগে কিছুটা লাল্চে গৈরিক রং 
দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্য স্মরণ করিয়ে দিতে পারে মহারাষ্ট্রে অবস্থিত দায়মাবাদ-এর 
তাশ্রাশ্মীয় স্তরে আবিষ্কৃত কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের কোশীপাত্রসমূহের অনুরূপ লক্ষণকে। 


পাণ্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগের স্তরগুলিতে অন্য যে সব কৌলালের নিদর্শন 
আবিষ্কৃত হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম কৃষ্ণ বর্ণে চিত্রিত লোহিতোজ্জ্বল মৃৎপাত্রের 
নানা দৃষ্টান্ত । কখনও অবশ্য এই মৃৎপাত্র চিত্রণে HONS ধূসর বর্ণের প্রয়োগ লক্ষ্য করা 
যায়। লোহিতোজ্জ্বল কৌলালের আকৃতিগুলি বিভিন্ন ধরনের এবং এদের সৃজনে শিল্প 
ও সৌন্দর্য বোধের উৎকর্ষ প্রতিফলিত হয়। এদের আকৃতিগুলি নিম্নরূপ ঃ 


১। সুডৌলাকৃতি ene | 

২। প্রসারিত কানা-সমধ্বিত vete | 
© | বিভিন্ন ধরনের কলস। 

8 | ABS থালি (ডিস্-অনষ্ট্যাণ্ড”)। 
& 1 বহু ছিদ্র-সমন্বিত পাত্র | 
৬।ডাটি-সমন্বিত সরা। 


q ক্ষুদ্রাকৃতি চিত্রিত সরা। 


৮৬৭ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


সাধারণ অথবা কারুমণ্ডিত লোহিতোজ্জ্বল কৌলালের সৌন্দর্য সর্বত্রই 
আকর্ষণীয়। এগুলি নিঃসংশয়ে সাক্ষ্য দেয় এক সৌখীন জীবনচর্যার। সম্ভবতঃ তাশ্রাশ্মীয় 
সমাজের আনন্দ ও প্রেরণার নিদর্শন এই সব বর্ণোজ্ল মৃৎপাত্র যেমন আজকের 
আনন্দিত জীবন-মুহূর্তের প্রতীক উৎকৃষ্ট সব চীনামাটির কিংবা কাচের বাসন। উল্লিখিত 
লোহিতোজ্জ্বল মৃৎপাত্রের গায়ে যে সব চিত্রণ দেখা যায় তাদের মধ্যে অন্যতম কতকটা 
জলপদ্মের পাপড়ির অনুকরণে রূপায়িত ভরাট ত্রিকোণের সারি, বেষ্টনকারী তুলির 
টান, কৌণিক চিহ্নের একক অথবা উপর্যুপরি সমাবেশ, Vow বিহঙ্গের সংকেত- 
জ্ঞাপক চিহ্ন, ঢেউ খেলা রেখা অথবা Serer, জালি, বিচ্ছুরিত রেখা, দাড়ি চিহ্ন 
ইত্যাদি। ক্ষেত্র বিশেষে এই সব তৈজসপত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যেও ব্যবহৃত হতে 
পারে। এই সব মূল্যায়ন নির্ভর করবে ভবিষ্যত কালের গবেষণা ও উৎখননের উপর। 
মৃৎপাত্রগুলির সুসমঞ্জস গঠন, উজ্জ্বল প্রলেপ ও পালিস এবং চিত্রণের সংযত বিন্যাস 
ও মাধুর্য বাংলার OY যুগ সম্বন্ধে একটি সুস্পষ্ট ধারণা এনে দেবে। 


পাণ্ডুরাজার টিবিতে প্রাপ্ত বহু ছিদ্র-সমন্বিত মৃৎপাত্রগুলির (“পারফোরেটেড 
পটারী') প্রকৃত তাৎপর্য এখনও অজ্ঞাত। সিন্ধু উপত্যকা এবং ভারতের অন্যান্য স্থানে 
vore? কিংবা ব্রোঞ্জ সভ্যতার পরিমণ্ডলে আবিষ্কৃত হয়েছে বহু ছিদ্র-সমন্িত মৃন্ময় পাত্রের 
নানা নিদর্শন। অথর্ব বেদে নিহিত অস্তযেষ্টি-সম্বন্ধীয় বর্ণনার উপর ভিত্তি করে পুরাতাত্তিক 
রমাপ্রসাদ চন্দ একদা ধারণা করেছিলেন যে এই শ্রেণীর মৃৎপাত্রের প্রয়োজন হত 
পারলৌকিক কৃত্যে মৃতের দেহাবশেষকে শতধারায় কিংবা সহসধারায় স্নান করাবার 
উদ্দেশ্যে। অবশ্য মহেঞ্জো-দারো এবং হরপ্লার সমাধিসমূহে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন 
এই ধরনের মৃৎপাত্রের অনুপস্থিতি। পাণুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগের একটি মানব- 
সমাধির পরিমণ্ডলে অবশ্য বহু LATS একটি মৃৎভাণ্ডের ভগ্নাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
এই কবরে একটি মানব-কস্কালকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। 
স্বভাবতই বোঝা যায়, মৃতদেহ উন্মুক্ত থাকার পর তাকে সে যুগের কোন অস্ত্যেষ্টি রীতি 
অনুসারে সমাধিস্থ করা হয়েছে। বহু ছিদ্র-সমন্বিত মৃৎপাত্রসমূহ একদা যেমন ছিল 
হয়ত পারলৌকিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সহায়ক তেমন ছিল হয়ত সাধারণ জীবনের 
এক প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ধূপের ঢাকনী থেকে শুরু করে মিষ্টান্ন নির্মাণ পর্যস্ত বিভিন্ন 
প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হতে পারত এইগুলি। এই শ্রেণীর ভাগু দিয়ে সম্ভবত নানাবিধ 
কাজই সাধিত হয়েছে। 


পাণ্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগের স্তরে আবিষ্কৃত হয়েছে আরও যে সব কৌলাল 
তাদের মধ্যে উল্লেখ্য বাসস্তী রং-এ চিত্রিত একটি কৃষ্ণোজ্জ্বল মৃৎভাণ্ডের অংশ এবং 


তাত্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৮৭ 


ধূসর ও কৃষ্ণ বর্ণের খোদিত rara পাত্রসমূহের নানা নিদর্শন। খোদিত মৃৎপাত্রগুলি 
নিঃসংশয়ে এক সুপ্রাচীন রীতির সাক্ষ্য দেয়। উৎখননের দ্বারা জানা যায় এই দ্বিতীয় 
যুগে এখানকার অধিবাসীরা ব্যবহার করেছে ক্ষুদ্রাশ্মীয় হাতিয়ার এবং তামার সামগ্রী | 
ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনগুলির মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে DIAG, আযামেথিস্ট্‌, জ্যাস্পার 
ইত্যাদি পাথরে নির্মিত বিভিন্ন দৃষ্টাস্ত। 


দ্বিতীয় যুগের অধিবসতি স্তরে আবিষ্কৃত vore সামগ্রীগুলির মধ্যে রয়েছে ছোট 
আকারের সাধারণ কিংবা ঘোরানো (স্পোইরাল) চুরি এবং অন্যান্য কয়েকটি খুঁটিনাটি 
বস্তু, কাজলকাঠি (অঞ্জনশলাকা), পুতি এবং মাছধরার বঁড়শী। এই অধ্যায়ের সমাজ- 
জীবনে যে প্রসাধন কর্মের গুরুত্ব অনুভূত হয়েছে সন্দেহ নেই। এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা 
যেতে পারে প্রাচীন সভ্যতাসমূহে প্রসাধন, কেশবিন্যাস ইত্যাদির জনপ্রিয়তা এবং বিশেষতঃ 
“ফারাও*দের যুগে মিশর কুমারীদের দ্বারা নয়নশোভা বর্ধক মনোহারী সবুজ রং ও কৃষ্ণ 
কজ্জল লেপন দ্বিতীয় যুগের স্তরে প্রাপ্ত OW সামগ্রীসমূহের মধ্যে বিশেষ তাৎপর্যময় 
একটি পত্রাকৃতি বর্শাফলক কিংবা কর্তরী। মধ্যবতী শিরাবিহীন এই অস্ত্রের মূলে কোন 
দণ্ড অথবা হাতল সংবদ্ধ করার নিমিত্ত একটি =a ডাটি দেখা যায়। এই তথাকথিত 
ছুরি অথবা বল্লমাগ্র স্মরণ করিয়ে দেবে মহেঞ্জো-দারোয় আবিষ্কৃত তুলনীয় তা নিদর্শনকে। 
THIS শিরাবিহীন এই পত্রাকৃতি অস্ত্রটি সমগ্র প্রাচ্য-ভারতে একক এবং পাগুরাজার 
টিবিতে এর উপস্থিতি বাংলার তাত্ত্রাশ্মীয় সভ্যতাকে এক বিশেষ গুরুত্ব দান করবে 
সন্দেহ নেই। 


পাণ্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগের ধ্বংসাবশেষে আবিষ্কৃত হয়েছে হাড়ের তৈরি 
বিভিন্ন বর্শাফলক ও শরাগ্র। তীরের ফলাসমূহের একটি নির্মিত হয়েছে একটি লম্বাকৃতি 
হাড়কে দ্বিধাবিভক্ত করে। এই ফলাটি পত্রাকৃতি এবং চওড়া ভাটি (‘Bre সমন্বিত। 
হাড় ও মৃগশূঙ্গে নির্মিত বস্তৃগুলির সঙ্গে উল্লেখযোগ্য একটি অমূল্য নিদর্শন, কোন 
তরুণ জলহস্তীর সৃক্ষ্মাগ্র ছেদক দন্তে (ইনসাইজর টুথ") সৃষ্ট একটি ধারণযোগ্য অলঙ্কার। 
দাতের নিম্নাংশ ACY ছিদ্রিত। সম্ভবতঃ সুপরিচিত বাঘ নখ অথবা মাদুলীর ন্যায় এই 
নিদর্শনটি একদা ব্যবহৃত হয়েছে। কোন যাদুকরী অথবা দৈব শক্তির প্রতীক রূপে। 
এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, অতীত মিশরে সভ্যতার বৈভবের যুগে শিশু জন্মের 
অধিষ্ঠাত্রী দেবী Jeweret অথবা Thoueris-«43 কল্পিত রূপ ছিল জলহত্তীর ন্যায়। 
হয়ত এই প্রতিমা-কল্পনায় গর্ভভারাক্রাস্ত আসন্ন মাতৃত্বকে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচিত 
ছিদ্র-সমন্বিত জলহস্তী দস্তটি আবিষ্কৃত হয়েছে পাণ্ডুরাজার টিবির পশ্চিম প্রান্তে খনিত 


৮৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


Oc পরিখায়। প্রাপ্তিস্থলের নীচে প্রথম যুগের স্তরে উন্মোচিত হয়েছে তের বছরের 
অনূর্ধ দুইটি নাবালক কিংবা নাবালিকা ও তিনটি পূর্ণ বয়স্ক পুরুষদের দেহাবশেষ | এ 
ছাড়া একটি মৃৎকলসের অভ্যন্তরে দেখা গেছে একটিমাত্র কষের দাত (মোলার)। 
প্রথম ও দ্বিতীয় যুগের মধ্যে ব্যবধান থাকা সত্তেও পাগুরাজার টিবিতে প্রতিফলিত হতে 
পারে মমত্ববোধ ও ধর্মীয় প্রত্যয়ের এক অজ্ঞাত ইতিহাস। পরিশেষে, এ বিষয়ে দৃষ্টি 
আকর্ষণ করা যেতে পারে যে, জলহত্তীর বর্তমান বাসভূমি আফ্রিকা ও তার সন্নিহিত 
মহাদ্বীপ মাদাগাসকার। প্রিস্টোসীন পর্বের পর ভারতে এই বিপুলায়তন প্রাণী বিলুপ্ত। 
যেহেতু দীতটি প্রস্তরীভূত হয়েছে বলে শোনা যায় নি সেহেতু এমন অনুমান করা যায়, 
এই দীত এর প্রাপ্তিস্থল আফ্রিকা কিংবা মাদাগাসকার। হোলোসীন পর্বে বিশেষতঃ OPN 
সংস্কৃতির যুগে পশ্চিমবঙ্গের আপন পরিবেশে জলহস্তীর উপস্থিতি সম্ভব ছিল কিনা 
সে বিষয়ে স্পষ্টতর ধারণায় উপনীত হওয়া যেতে পারে ভবিষ্যত কালের গবেষণার 
ভিত্তিতে | 


পাণ্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগে এখানকার সংস্কৃতি যে এক উৎকর্ষে উপনীত 
হয়েছিল সন্দেহ নেই। এই যুগে এখানে যে বস্তু বোনা হত এমন তথ্যাদির সন্ধান 
পাওয়া গেছে। মোরামপেটা একটি গৃহতলের নীচের জমাট পরিবেশে আবিষ্কৃত হয়েছে 
শিমূল তুলার সরু সুতোয় বোনা শ্বেত বস্ত্রের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অংশ। শিমূল তুলা অথবা 
Pres কটন’-এ বোনা বস্তের এই নমুনা ভারতীয় প্রত্বুতত্তের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার 
রূপে গণ্য হবে। দ্বিতীয় যুগের ধবংসাবশেষে প্রাপ্ত একটি কারুমণ্ডিত পোড়ামাটির 
চক্রাকৃতি তকৃলি বস্তুবয়ন প্রসঙ্গে যথারীতি আলোক সম্পাত করবে | FBLA 'টোকা”্র 
আকৃতি এই তকৃলির উপর খোদাই করা রেখা ও আঁচরের সমাবেশ প্রাগৈতিহাসিক ট্রয় 
ও আনাতোলিয়ায় আবিষ্কৃত গোলাকৃতি মৃন্ময় তকৃলিসমূহের উপর উৎকীর্ণ নকাশী 
কাজের সঙ্গে সাদৃশ্য বহন BUA | ইতিপূর্বে পুরাতাত্তিক সাঙ্কালিয়া রাজস্থানের অন্তর্গত 
আহাড়-এ অবস্থিত ধূলকোট-এর তাম্রাশ্মীয় স্তরে প্রাপ্ত পোড়ামাটির সুতাকাটার তক্‌লির 
উপর প্রদর্শিত খোদাই কাজের সঙ্গে ট্রয় ও পশ্চিম এশিয়ার অপর কয়েকটি স্থানে প্রাপ্ত 
e রাস 
করেছিলেন। 

পাণুরাজার টিবির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় যুগের অধিবাসীরা যে পশু পালনে 


অভ্যস্ত ছিল তাতে সন্দেহ নেই। এ ছাড়া মাছ ও পশুমাংসেরও প্রয়োজন হয়েছে 
আহাৰ্য হিসাবে, এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া স্বাভাবিক। তবে সমাজের সমগ্র 


তাশ্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৮৯ 


স্তরসমূহের আচার-ব্যবহার সম্বন্ধে পূর্ণ চিত্রটি এখনও অস্পষ্ট | উৎখননের ফলে কয়েকটি 
প্রাণীর পরিচয় পাওয়া যায়। 


১। বোস ইগ্ডিকাস্‌ fer (Bos Indicus Lynn) ভারতীয় সককুদ বৃষ | 
২। AA ক্রোফা ক্রিস্টেটাস্‌ ওয়াগনার (Sus Scrofa Cristatus Wagner) | 
গৃহপালিত paa | 

৩। সেরভাস্‌ ইউনিকালার CHA (Cervus Unicolor Kerr) 1*3 হরিণ। 

পাণ্ডুরাজার টিবিতে খুঁড়বার ফলে মোট ১৪টি মানব সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে। 
এগুলির মধ্যে ৬টি প্রথম যুগের এবং বাকি ৮টি দ্বিতীয় যুগের। সমাধিগুলি কখনো 
প্রাথমিক (প্রাইমারি), কখনো দ্বিতীয় পর্যায়ের (সেকেগ্ডারি) এবং কখনো কলসস্থিত 
(আর্ন্‌ বেরিয়াল)। প্রাথমিক পর্যায়ের কবরে মৃতদেহ সরাসরি শোয়ান হয়েছে। দ্বিতীয় 
পর্যায়ের অস্ত্যেষ্টি কর্মে মৃতদেহ উন্মুক্ত অথবা অন্য কোন অবস্থায় থাকবার পর তার 
কঙ্কাল অথবা আংশিক অস্থিমাত্র প্রোথিত হয়েছে। উল্লিখিত ৩নং শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য মৃৎকুম্ত 
কিংবা কলসের মধ্যে মৃতের অস্থি রেখে তাকে সমাধিস্থ করা | মৃতদেহ সমাধিকরণের 
একটি অপরিবর্তিত রীতি প্রথম ও দ্বিতীয় দুই যুগেই লক্ষণীয় | মৃতদেহসমূহের মাথা 
পূর্ব দিকে এবং পদদ্বয় পশ্চিম দিকে প্রসারিত। ইংরাজিতে একে বলা হয় ইস্ট-ওয়েস্ট 
ওরিয়েন্টেসন'। দেহ স্থাপনেও বিভিন্ন রীতির পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথম যুগের কঙ্কালগুলি 
সবই POPS | দ্বিতীয় যুগের একটি কঙ্কালের পায়ের নিম্নাংশ APS | শব কখনো 
প্রসারিত অবস্থায় (এক্সটেণ্ডেড) এবং কখনো সঙ্কুচিত দশায় (FHS) শায়িত। IC 
পরিখায় দ্বিতীয় পর্বের একটি কঙ্কালকে দেখা যায় প্রসারিত অবস্থায় অপরাপর কয়েকটি 
সমাধির সাহচর্ষে। কঙ্কালের মাথা এবং পায়ের দিকে স্থাপিত ছিল দেহাবশেষ-সমন্বিত 
দুইটি বড় ধরনের কলস। পূর্ব দিকের কলসে অস্থির সংখ্যা বেশি ছিল এবং সেগুলি 
আবৃত ছিল কৃষ্ণ -লোহিত বর্ণের একটি সুবৃহৎ গামলার দ্বারা। প্রসারিত কঙ্কালের 
অঙ্গে পর্যবেক্ষিত হয় দুইটি পুতি, একটি তামার এবং অপরটি আযাগেট প্রস্তরের। ভারতীয় 
TOS সর্বেক্ষণের দুইজন বিশেষজ্ঞ শ্রীপবিত্র গুপ্ত ও শ্রীঅনাদি পাল কর্তৃক পরিচালিত 
পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ফলে জানা যায় এই শায়িত কঙ্কাল wo বছর কিংবা তদূর্ধের 
কোন পুরুষের দ্বিতীয় পর্যায়ের সমাধিকে যথার্থ ক্ষেত্রে আংশিক সমাধি (ফ্র্যাকৃসনাল 
বেরিয়াল) হিসাবেও বর্ণনা করা যেতে ATA | 1] E নং পরিখায় ৯৬ গভীরে SB স্তরে 
উন্মোচিত হয়েছে ৩০ বছর অথবা SHELA এক নারীর এই শ্রেণীর অন্তর্গত এক বিচিত্র 
সমাধি। এই অস্ত্যেষ্টি পদ্ধতিতে লোকাস্তরিতা নারীর বিভিন্ন অস্থিকে পুঞ্জীকৃত করে 


৯০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


তাদের উপর পশ্চিমমুখী অবস্থায় স্থাপন করা হয়েছে তার পূর্ণ করোটি | আপন অস্থিপুঞ্জে 
প্রায়-আবৃত করোটির চোখ দুটি যেন দূর পশ্চিমের দিকে নিবদ্ধ। এই সমাধিরই বৃত্তে 
আবিষ্কৃত হয়েছে লোহিত বর্ণের সছিদ্র মৃৎভাণ্ডের একটি ভাঙ্গা অংশ। 


পাণ্ডুরাজার টিবিতে উন্মোচিত মানব-সমাধিগুলি সম্বন্ধে সর্বাত্মক গবেষণায় 
ব্রতী হন ভারতীয় JOG সর্বেক্ষণ। এ বিষয়ে উল্লিখিত, সর্বেক্ষণের তদানীস্তন অধিকর্তা 
অধ্যাপক নির্মলকুমার বসু এবং নৃবিজ্ঞানী দিলীপকুমার সেন (পরবর্তী কালে এই 
সর্বেক্ষণের অধিকর্তা) রাজ্যের প্রত্বুতত্ব অধিকারকে পূর্ণ সহযোগিতা দান করেন। এই 
সর্বেক্ষণের বিশিষ্ট TORY শ্রীপবিত্র গুপ্ত এবং শ্রীঅনাদি পালের তত্বাবধানে একের 
পর এক সমাধিগুলি থেকে দেহাবশেষসমূহ উত্তোলিত হয়। এই কাজে কিছুকাল তাদের 
সহায়ক ছিলেন আরেকজন নৃবিজ্ঞানী শ্রীবিমল wal উত্তোলন কালে কঙ্কালগুলি 
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়। তবে সমাধিসমূহ আবিষ্কারের মূল কৃতিত্ব পশ্চিমবঙ্গ 
সরকারের অধীনস্থ প্রত্রুতত্ত অধিকারের ব্রমায় উদ্যমের ফলস্বরূপ এবং কল্পনাশক্তির 
প্রয়োগের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে এই অসাধারণ তথা বিপ্রবাত্মক আবিষ্কার যা প্রকাশিত 
করেছে প্রাগৈতিহাসিক বাংলার হারানো সভ্যতার ভাবরূপকে। সমগ্র দিক্‌ থেকেই 
আজ এই বিপ্লবাত্মক আবিষ্কারের মূল্যায়ন বাঞ্ছনীয়। পাণ্ডুরাজার টিবিতে উন্মোচিত 
নরকঙ্কালগুলি সম্বন্ধে বিশদ আলোচনার পর দুই নৃবিজ্ঞানী শ্রী পবিত্র গুপ্ত এবং শ্রীঅনাদি 
পাল যে পর্যবেক্ষণ-লব্ধ উপসংহারটি রচনা করেন তা নিম্নে উদ্ধৃত করা হল £ 


Summary & Conclusions 


Burial Practices : Altogether fourteen burials were 
exposed from the mound. The entire findings were recovered 
from two layers, i.e. from layer 7 (Period I) and layer 6 (Period 
II). The individuals recovered from layer 7 were represented in 
all cases by the bones other than the skulls and limb bones. But 
the individuals of layer 6 were mostly represented by entire 


skeleton. 


Three types of burials were in practice, namely, (1) Primary 


(extended), (ii) Secondary (fractional) and (111) Fragmentary 


TJA ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৯১ 


remains preserved in an urn. From layer 7 four primary 
(extended), one secondary (fractional) and one urn burial were 
unearthed, whereas from layer 6 five primary (extended), one 


secondary (fractional) and two urn burials were exposed. 


All the burials were in east-west orientation whether they 
were primary or secondary in nature. Of the three urns, two 


were placed towards the east and the other towards the west. 


Physical Traits : It will be seen that the four individuals 
whose bones are best preserved and who are represented in the 
burials Nos. 2, 5, 6, 7 are of medium to tall stature. They have 
also medium to long head and medium to high degree of 


curvature in the vault of the skull looked at from the side. 


Unfortunately, the region of the nose is very badly 
damaged in practically all skulls; but from one comparatively 


better preserved we can see that the nose must have been broad. 


There are only two skulls from which the total face shape 
can be deduced, one from a male and another from a female 
skull, the male showing a long face while the female a very 


broad one. 


Taken individually, we see that one of the two male 
skeletons represented an individual who was of medium stature 
having long and high head, long face but with broad nose. The 
second male skeleton represents a tall individual with somewhat 
shorter head and high vault of head. Nasal region of this skull 
IS missing. 

Female individual represented by skeleton No. 5 is also 
that of a relatively tall woman with a height of 1657 mm., a 


long head, and a somewhat flatter curvature of skull vault. The 


৯২ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


second female skeleton represents a woman of medium stature 
(1523 mm.), medium length of head and of squarish face. The 
shape of the nose cannot be described because this region of 
both the skulls is badly broken and distorted. 


The Skeletal evidence is vary meagre for any definite 
conclusion to be made regarding the racial characteristics of 
the people of Pandu Rajar Dhibi, but as far as can be done from 
the data at hand, it seems that the individuals were certainly 
taller than the present aboriginal inhabitants of nearby areas, 
namely the Santhals. However, in the shape of nose they 
resemble the latter while in the shape of head they are even 


longer-headed than the Santhal. 


The antiquity of the finds at Pandu Rajar Dhibi makes the 
skeletons of great importance in understanding the cultural 
migration and their bearers into West Bengal. We wish more 
skeletons could have been unearthed for their study in which 
case it would certainly have given us more detailed picture about 
the physical characteristics of the population and their affinities 


with other population outside the area. 


We strongly recommend that whenever archaeological 
site are excavated special care should be taken to discover as 
many skeletons in good condition as possible, so that the basis 
of history, quite apart from archaeological finds, could be 


. reinforced. 


Comparative skeletal materials of the same age as that of 
Pandu Rajar Dhibi excavated at different regions in Indian sub- 
continent is very scanty. The only comparative materials are 
from Nevasa and Chandoli in Maharashtra. Nevasa has yielded 


four skeletons and Chandoli only one for our purpose. 


SJA ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৯৩ 


In head length Pandu Rajar Dhibi ranges from long 
through short whereas in Nevasa and Chandoli there are no 
short skull. In head breadth the three series are comparable in 
having extremely narrow and very narrow skulls. Again, all the 
three series have narrow type of forehead except one broad 
forehead of Nevasa. Breadth of face is very narrow. Height of 
upper face is also short. In nose height and nose breadth all the 


series have short and below medium varieties. 


Coming to shape, the skulls are long-headed varying 
between extremely long type to medium (meso) type and in 
breadth height relationship they are macrocranial. In shape of 
face again all are longish and none is broad. Back of the skulls 
are protruded varying from slight to marked. Alveolar 


prognathism in noticed in Pandu Rajar Dhibi and Nevasa series." 


অনুরূপ, যদিও এই সময়ে একটি পরিবর্তনকে উপলব্ধি করা যায়। এই পরিবর্তন 
প্রতিফলিত হয়েছে তৃতীয় পর্বের অধিবসতির বিভিন্ন প্রকৃতিতে। 


Bl এই যুগের স্তরে নবাশ্মর কুঠার আবিষ্কৃত হয়েছে। 


খ। তৃতীয় যুগের শেষ দিকে লোহা তথা ইস্পাতের ব্যবহার লক্ষণীয়। পরীক্ষায় 
দেখা গেছে প্রাগৈতিহাসিক পাগুরাজার টিবিতে এই সময়ে অঙ্গারমিশ্রিত 
লোহার অস্ত্রাদি নির্মিত হত। 


গ। এক শ্রেণীর মসৃণ-কৃষ্তবর্ণের মৃৎপাত্রের বিশেষ উপস্থিতি | তৃতীয় যুগের 
অধিবসতিতে এই কৌলালে নির্মিত বহু সংখ্যক ABS থালির (ভিস্‌- 
অন-স্ট্যাণ্ড) ভগ্নাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই ধরনের একটি ASS থালি 
সম্পূর্ণ পুনর্গঠিত হবার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রত্বতত্ব সংগ্রহালয়ে প্রদর্শিত 
আছে। 


>! "Human Skeletal Materials Excavated At Pandu Rajar Dhibi". in 
Bulletin of the Anthropological Survey of India, Vol. XIX, Nos. 3 & 4. 


৯৪ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


ঘ। প্রাসঙ্গিক স্তরসমূহে পূর্বতন যুগদ্ধয়ের স্তরগুলিতে আবিষ্কৃত মানব 
সমাধিগুলির মত সমষ্টি দৃষ্টিগোচর হয় নি। 


ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে তৃতীয় পর্বের কোশীপাব্রসমূহের প্রণালগুলি 
পূর্ববর্তী যুগের কোশীপাত্রসমূহের প্রণালগুলির তুলনায় সামান্য খর্বাকৃতি ও চওড়া। 
এই পর্বের মৃৎপাত্রগুলির অন্তর্ভূক্ত এক শ্রেণীর খোদিত নিদর্শন উল্লেখযোগ্য | সুস্পষ্ট 
ও প্রত্যয়শীল আঁচড়ে আঁকা জ্যামিতিক ধরনের নকশা কিংবা অন্য কোন আলেখ্য- 
সম্বিত এই কৌলাল নিঃসংশয়ে এক সুপ্রাচীন সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। খোদাইকরা 
(Incised) মৃৎপাত্রের নানা SA অংশের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে একটি থালির 
টুকরা, যার একদিকে রূপায়িত আছে একটি দীর্ঘকষ্ঠ বিহঙ্গ এবং অপরদিকে প্রদর্শিত 
আছে বৃক্ষপত্র। বিহঙ্গটি সম্ভবত ময়ূর, তার চঞ্চুতে বিধৃত আছে কৌণিকভাবে রচিত 
একটি আকা-বাঁকা রেখা। রেখাটি সর্পের প্রতিরূপ হতে পারে অথবা হতে পারে 
জলপ্রবাহ। বর্তমান নমুনাটি সম্ভবতঃ কোন ABS Ahlers অংশমাত্র | আলোচিত চিত্রটি 
স্পষ্টতায় ও অঙ্কন চাতুর্ষে স্মরণ করিয়ে দেয় মিশরের প্রাচীন চিত্রাক্ষর-লিপির বৈশিষ্ট্যকে। 
তৃতীয় পর্বের সমাপ্তি পর্যায়ে প্রাপ্ত আরেকটি নিদর্শনের উপর খোদিত আছে রুই মাছের 
সারি। কালো রংয়ের কলসের গায়ে রূপায়িত এই অলঙ্করণ সম্ভবতঃ সাক্ষ্য দেয় অতীত 
শিল্প-চেতনা ও ধর্ম-বিশ্বাসের যেমন আজও সাংস্কৃতিক ভাব- চেতনার অনুরাগ ও আশা- 
TMH প্রতিবিদ্বিত হয় ব্রতকথায় ও আল্পনার চিত্রণে। এখানেও মাতৃপূজা কিংবা 
সমৃদ্ধি-কামনার উল্লেখ থাকা ASS | 


পাণ্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় যুগের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চিত্র বিভিন্ন 
পরিবর্তন ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সত্তেও মোটামুটিভাবে একটি প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার 
বিস্মৃত কাহিনীকে ব্যক্ত করে। বহু শতাব্দী অতিক্রান্ত হবার পর এই আবিষ্কার নির্দেশ 
করে এক নতুন দিগস্তকে যেখানে একদা উজ্জ্বল ছিল সভ্যতার এক প্রাচীন নক্ষত্র | এই 
অধিবসতির প্রকৃতি সর্বদাই সাক্ষ্য দেয় এক উন্নত গ্রামীণ জীবনের যেখানে শিল্পরুচির 
উৎকর্ষে প্রতিফলিত হয়েছে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তিবোধ এবং মননশীলতার মাধুর্য । কুটারগুলির 
বিন্যাস ও নির্মাণে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য প্রকাশিত তেমন বিশিষ্ট প্রযত্বে নির্মিত হয়েছে 
কৌলাল-আদি তান্নের অলঙ্কার, রত্র-প্রস্তরের পুতি ইত্যাদি | কুঁড়েঘরগুলি কাদার আস্তরণ 
দেওয়া এবং এদের মেঝে মোরামপেটা, পোড়ামাটির টুকরায় বাঁধান কিংবা মসৃণভাবে 
চুণলেপা। তৃতীয় যুগের স্তরে উন্মোচিত একটি চুণলেপা গৃহতল একটি প্রশস্ত কক্ষের 
সাক্ষ্য দেয়। উৎখনন কালে আবিষ্কৃত কুটীরগুলি ধ্বংসাবশেষে কখনও বা দেখা যায় 


বৃত্তাকার কিংবা ডিম্বাকৃতি উনুনের সারি। 


SEJA ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৯৫ 


দ্বিতীয় যুগের ধ্বংসাবশেষে এক স্থানে আবিষ্কৃত হয়েছে দুইটি কুটারের মধ্যে প্রসারিত 
একটি HBL গলিপথ। বাংলার গ্রামাঞ্চলে এখনও এই রকম পায়ে চলা সরু পথ দেখা 
যায় এক স্থানে গড়ে ওঠা কুঁড়েঘরগুলির পারস্পরিক সান্নিধ্যের হেতু | খনন কালে 
দ্বিতীয় যুগের একটি গৃহতলে পর্যবেক্ষিত হয়েছে একটি 'লাল-কালো’ মৃৎভাণ্ড এবং 
তার সন্নিহিত স্থলে পড়ে থাকা একটি পশুর চোয়াল। এই আদি পর্যায়ের আরেকটি 
স্থানে দৃষ্টিগোচর হয় পোড়ামাটির টালির ন্যায় বস্তুর ধ্বংসাবশেষ | পাণ্ডুরাজার টিবির 
গভীরে আবিষ্কৃত ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রায়-সমাস্তরাল ধার-সমন্বিত 
ছুরিকা, Seq (Burin) গোত্রীয় AS অসম চতুষ্কোণ দৃষ্টান্ত, চূড়াবিশিষ্ট ছুরি, পাশাপাশি 
শক্কষশয্যা-সমৰ্িত নলাকৃতি প্রস্তর-পিণ্ড (Cylindrical fluted core), ঠাছবার অস্ত্র 
ইত্যাদি। এতদ্ভিন্ন আছে বিচ্ছিন্ন শক্কাদির নমুনা । প্রায়-সমাস্তরাল ধার-সমন্বিত এবং 
APG (Crested) ছুরিকার নিদর্শন যেমন আবিষ্কৃত হয়েছে দ্বিতীয় পর্বের ধ্বংসাবশেষে, 
উল্লিখিত প্রস্তর পিণ্ডের সন্ধান পাওয়া গেছে তৃতীয় পর্বের স্তরে | কয়েকটি কষুদ্রাশ্মীয় 
ORY চতুৰ্থ পর্বের সমাবেশেও পাওযা গেছে। এগুলির মধ্যে দ্রষ্টব্য একটি বাঁকা তীক্ষাকৃতি 
ফলা। রক্তাভ কার্নেলিয়ান-এর এই দৃষ্টান্তুটির গোড়ায় এখনও মুল প্রস্তর-পিণ্ড অবিচ্ছিনন। 
এই শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য পূর্ণ অস্ত্র “প্লানজিং' (Plunjing) অথবা “রেজুভিনেটিং' 
(Rejuvinating) “ফ্রেক' (Flake, $) নামে পরিচিত। চতুর্থ যুগেও ক্ষুদ্রাশ্মীয় 
অস্ত্রের উপস্থিতির একটি প্রধান কারণ হতে পারে, শ্রীষ্ট-পূর্ব প্রথম HATHA মধ্যবর্তী 
কালে হয়ত পূর্বতন সংস্কৃতির বিলীয়মান অথবা প্রায় নির্বাপিত দীপশিখা। কোশীপাত্রেরও 
শেষ বিবর্তন পর্যায় এ যুগের আরেকটি রহস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। 


পাণ্ডুরাজার টিবির গভীরে আবিষ্কৃত হয়েছে AHABA এবং সবুজাভ ‘ফায়েন্স’ 
(Faience)-4 নির্মিত বিভিন্ন পুতি আকৃতির এগুলি স্বভাবতই শোভিত হত গলার 
মালায় কিংবা অন্য কোন অলঙ্কারে। পাথরের পুঁতিগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ 
করা যেতে পারে ডোরাকাটা আযাগেট, লাল কার্নেলিয়ান এবং শ্বেতাভ চ্যালসেডোনিতে 
নির্মিত নিদর্শনগুলিকে। উৎখননের ফলে স্পষ্টাকৃত হয়েছে এই সব পুঁতির প্রচলন ছিল 
তাত্রযুগেই | ইতিপূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে দ্বিতীয় যুগের একটি মানব সমাধিতে শায়িত 
একটি কঙ্কালের সংলগ্ন দেখা গেছে একটি তামার ও একটি পাথরের AHS বৌড)। 


এই প্রাচীন সভ্যতার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন কৃষ্ণ বর্ণের “স্টিয়াটাইট, 
(Steatite) পাথরে খোদিত একটি শীলমোহর। এই শীলমোহ্রটি গোলাকার এবং 
এর উপর খোদিত আছে একটি মাছ ও ঢেউ খেলা রেখা | এদের ATH প্রদর্শিত আছে 
একটি গোলাকার চিহ্ন এবং সর্বোপরি আঁচড়ে উৎকীর্ণ হয়েছে কয়েকটি রেখা | এই 


৯৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


চিহৃগুলি দেখে একজন ইংরাজ গবেষক মাইকেল AGTH অনুমান করেন এখানে সুদূর 
ক্রীট দ্বীপের দুই প্রকার লিপি “লিনীয়ার এ’ (Linear A) এবং এই দ্বীপে অবস্থিত 
ফায়েস্টস্-এ আবিষ্কৃত সুবিখ্যাত চক্রে (Phaistos Disc) খোদিত চিত্রলিপির অনুরূপ 
অক্ষরসমষ্টি। রিডুলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শীলমোহরের উপরের দিকে উৎকীর্ণ রেখাগুলি 
“লিনীয়ার এ'-র পরিচায়ক এবং এই লিপির fica প্রদর্শিত হয়েছে উল্লিখিত চিত্রাক্ষরের 
নিদর্শনস্বরূপ বারিধারা, মাছ এবং শিরক্ত্রাণ। এইভাবে লিপিদ্বয় পঠিত হয়েছে ঃ 


AETEA 


করতে হয়েছে এক সুদীর্ঘ পথ। এই প্রসঙ্গে তার মন্তব্যটি আকর্ষণীয় 2 


“The decipherment of the seal of Aetea has in itself already 
resulted in the falling into place of a great deal of evidence 
which points to the possibility that the inhabitants of crete found 
their way to India 35000 years ago and traded with the people 
of Bengal.” 


এই শীলমোহরটি পাঠে বিভিন্ন মতভেদ সৃষ্টি হলেও এখানে কয়েকটি বিষয় 
অস্বীকার করা যায় না। প্রথমতঃ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করে একদা 
কয়েকজন বিশিষ্ট জীব-বিজ্ঞানী একমত হয়েছিলেন, এই মাছটি প্রকৃতপক্ষে “হাতুরি- 
মুখ হাঙ্গর (Hammer-head Shark, Sphyrna Zygnaea), যখন তাকে দেখা 
যাবে উপর CAT উত্তর সাগর এবং অন্যান্য সমুদ্রে বিচরণশীল এই প্রাণীর চিত্রণ 
বিস্মৃত কালের নাবিকদের অভিজ্ঞতার পরিচায়ক সন্দেহ নেই। এই মাছ তথা হাঙ্গরের 
রূপায়ণ স্মরণ করিয়ে দেবে প্রাচীন মিশরে প্রাপ্ত একটি “নলাকৃতি সীল? (Cylinder 
Seal)-«4 রূপায়িত মীন চিহ্নের তুলনীয় শৈলী । এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, কয়েক বছর 
আগে চব্বিশ পরগনা জেলায় প্রাচীন বিদ্যাধরী নদীর উপত্যকায় অবস্থিত প্রাচীন 
চন্দ্রকেতুগড়ে আবিষ্কৃত হয়েছে একটি পোড়ামাটির শীলমোহর যার এক পিঠে আদিম 
শৈলীতে রূপায়িত আছে যুগ্ম তরু এবং অপর দিকে প্রদর্শিত আছে একটি বৃষের উপর 
উল্লম্ফচনরত দুইটি মানুষ | একদা বৃক্ষপূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃষ-উল্লঙ্ঘন ( Bull-leaping) 


>| The Seal of Aetea And The Minoan Scripts, P. 28. 


TIJA ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৯৭ 


চিত্র সম্বলিত বিভিন্ন ধরনের শীলমোহর মহেপ্জো-দারোতেও আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে 
এই রহস্যময় অনুষ্ঠান এবং তুলনীয় দৃশ্যাবলীর সমারোহ দৃষ্টিগোচর হয় ক্রীট দ্বীপের 
প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতায় ও প্রতিবেশী মাইসেনীয় (Mycenaean) সভ্যতার বৃত্তে। 
RAPP ( Knossos)-43 রাজপ্রাসাদে প্রদর্শিত বৃষ-উল্লঙ্ঘন চিত্রটি তো জগৎ বিখ্যাত। 
চব্বিশ পরগনা জেলায় ডায়মণ্ড হারবারের সামান্য দক্ষিণে অবস্থিত হরিনারায়ণপুরে 
প্রাপ্ত আরেকটি পোড়ামাটির শীলমোহরে রূপায়িত দুইটি পরস্পর-সম্মুখীন সুক্ষ্ম দেহ 
মানবমূর্তির বিন্যাসেও ক্রীট দ্বীপের মিনোয়ান শৈলীর এক পরিচিত রীতিকে খুঁজে 
পাওয়া যেতে পারে। ওড়িশার অন্তর্গত বাখরা পীর এবং পশ্চিমবঙ্গে মেদিনীপুর জেলায় 
অবস্থিত USAT মহকুমায় আবিষ্কৃত হয়েছে তাত্র নির্মিত দ্বি-মুখ পরশু অথবা “ডাবল্‌ 
আযাকস্‌ (Double Axe)! এই শ্রেণীর হাতিয়ার যে ক্রীট দ্বীপের প্রাগৈতিহাসিক 
মিনোয়ান (Minoan) সভ্যতায় এক বিশিষ্ট গুরুত্বের অধিকারী ছিল সে বিষয়ে নানা 
প্রমাণ বিদ্যমান। অপরাপর সম্ভাবনাগুলি বিবেচনা করলেও ছ্বি-মুখ কুঠার অথবা পরশুর 
এই গুরুত্ব কোন ভাবেই ভুলবার নয়। 


পাণ্ডুরাজার টিবিতে প্রাপ্ত শীলমোহরটি অন্যভাবেও পঠিত হয়েছে। অধ্যাপক 
বঙ্কবিহারী চক্রবর্তী সিন্ধুলিপি সম্বন্ধে গবেষণার পর এর উপর উৎকীর্ণ রেখা-সমুদয়কে 
“পণ্যভূম” রূপে পাঠ করেছেন। উৎকীর্ণ চিত্র সম্বন্ধে তার মন্তব্য নি্নরূপ 2 


"There is no pictographic writing in the seal. It depicts 
only a landscape having mountains, rivers and isles, which 
rouses the idea that the country referred to in the seal extended 


from the mountains to the isles with a riverine land in between." 
এছাড়া অধ্যাপক চক্রবর্তীর আরেকটি সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য 2 


"The seal proves that there was a linguistic and such 
cultural and ethnical unity of this civilization with that of Indus 
Valley. The inscriptions on the seal of P. R. Dhibis, on the 
potsherds of Nagarjunakonda and Urayur, Madras, lead us to 


believe that the people of these areas used the same script and 


>| “Indus Script and the seal of Pandu Rajar Dhibi, West Bengal" in Folklore, Jan. 
1978, Vol. 19, No. I. P. 7. 


প্রাগৈতিহাসিক -- ৭ 


৯৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


language as the Indus Valley people and their language was 


‘Indo-Aryan’ in some form or other." 


এই সব ধারণার যথার্থ মূল্যায়ন এখন সম্ভব নয় কারণ সিন্ধুলিপি এখনও 
রহস্যাবৃত যেমন অমীমাংসিত “লিনীয়ার এ’ সম্বন্ধীয় প্রশ্নাবলী | তবে শীলমোহরে 
ম্রোতপ্রবাহ এবং জলচর প্রাণীটির রূপায়ণ সন্দেহাতীত। এখানে রিডূলের কৃতিত্ব অস্বীকার 
করা যায় না। 


পাণ্ডুরাজার টিবিতে প্রাপ্ত অন্যান্য প্রত্ববস্তগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ব্রোঞ্জ- 
নির্মিত মাছ এবং একটি লাল রং-এর পোড়ামাটির নৌকা। মুখের দিকে ছিদ্র-সমন্বিত 
ব্রোঞ্জের মাছটি সম্ভবতঃ একদা ব্যবহৃত হয়েছে মাদুলিরূপে | এই মাছের ত্রি-মুখ পুচ্ছ 
দেখে একদা একজন বিশিষ্ট প্রাণীতত্বববিদ্‌ একে GOST অতীতের এবং পূর্ব আফ্রিকার 
দরিয়ায় এখনও বিচরণশীল সিলাকান্থ্‌ (Coelacanth) মাছের সঙ্গে তুলনা 
করেছিলেন। এই মাছের রূপায়ণ যে অন্ততঃ বাস্তবানুগ সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ 
নেই। পোড়ামাটির নৌকাটির নিন্নভাগ সমতল | এর দ্বারা হয়ত বোঝানো হয়েছে যে 
প্রবহণটি ভাসমান, যেমন দেখা গেছে ক্রীট দ্বীপের একটি তুলনীয় নিদর্শনে। এই 
সৌসাদৃশ্যের তাৎপর্য প্রেরণা দিতে পারে ভবিষ্যতের গবেষণাকে। 


পাণ্ডুরাজার টিবির তৃতীয় পর্বের শেষ গৃহগুলিকে প্রায়ই আচ্ছাদিত দেখা যায় 
ভস্মস্তরের দ্বারা। এই ভস্মরাশির মধ্যে ছড়িয়ে ছিল লৌহ নির্মিত অস্ত্রের কয়েকটি 
নিদর্শন। অনুমান করা যায়, এই অধিবসতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় অগ্নিকাণ্ড ও আক্রমণের 
ফলে। তারপর প্রতিষ্ঠিত হয় নবীন অধিবসতি অন্ততঃ কয়েক শতাব্দী অতিবাহিত 
হবার পর। 


প্রাগৈতিহাসিক পাণুরাজার টিবিতে আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষে যে বিলুপ্ত 
জনসংস্কৃতির সন্ধান পাওয়া যায় তার উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে কয়েকটি 
পোড়ামাটির WS | এই মূর্তিগুলির মধ্যে অন্যতম পীনোন্নতরক্ষা ও আবীর রং-এর 
একটি মাতৃমৃর্তির উর্ধাংশ এবং পৃথুল-জঘনা ও ধুসর বর্ণের অপর একটি নারীমুর্তির 
নিন্নাংশ। দুইটি মূর্তিই সম্ভবতঃ অভিব্যক্ত করে দেবী কল্পনার নিবিড় আনন্দ ও অন্তরঙ্গ 
সৌন্দর্যবোধকে। দ্বিতীয় পর্বের অন্তর্ভুক্ত একটি পোড়ামাটির ভগ্ন পুরুষ মূর্তির ভঙ্গি 
হয়ত বা প্রতিভাত করে এক রহস্যময় ব্যায়াম অথবা নৃত্যকে। তৃতীয় যুগে প্রাপ্ত দুইটি 


51 "Indus Script and the seal of Pandu Rajar Dhibi, West Bengal" in Folklore, Jan. 
1978. Vol. 19. No. 1. P. 7. 


তাত্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ৯৯ 


পোড়ামাটির পুরুষ মূর্তির মুখাবয়ব, আয়ত নয়ন, দীর্ঘ নাসিকা, বিস্তৃত কর্ণ এবং সুস্পষ্ট 
চিবুক সমবিত। একটি মূর্তি কৌণিক শিরন্ত্রাণ পরিহিত। মূর্তিদ্বয় আবিষ্কৃত হয়েছিল 
এমন এক স্তরে যেখানে তাদের সান্নিধ্যে প্রোথিত ছিল একটি লোহার খাটো দুধার 
তরবারি। 


এখন প্রশ্ন, এই মূর্তিদ্বয় কি বিদেশীদের প্রতিচ্ছবি? এই অনুমান সত্য হলে মনে 
প্রশ্ন উদিত হবে এরাই কি সেই আক্রমণকারী যারা ভস্মে রূপান্তরিত করেছে অজয়- 
উপত্যকার শ্যামল প্রান্তরে লালিত পাণ্ডুরাজার টিবির মাধুর্য-মণ্ডিত অধিবসতিকে? 
উৎখননাস্তে অঙ্গার-চতুর্দশ পরীক্ষার দ্বারা এখানকার দ্বিতীয় পর্বের প্রাচীনত্ব দাড়ায় 
খ্ৰীষ্ট-পূর্ব ১০১২+১২০। এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করেন 
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক 
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায়। এই পরীক্ষার ফলে ও অন্যান্য কারণে 
অনুমান করা যায় তৃতীয় যুগের অবসান ঘটে স্রীষ্ট-পূর্ব প্রথম সহস্রকের প্রথম দিকে 
শৈশুনাগ বংশ ও নন্দ সম্রাটদের পূর্ব কালে। 


পাণ্ডুরাজার টিবিতে তাত্রযুগের নিদর্শনাবলী আবিষ্কৃত হবার পর পশ্চিমবাংলার 
এক ব্যাপক অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে আরও নানা তান্রাশ্মীয় অধিবসতি ক্ষেত্র। এই 
FUT আবিষ্কার ও ধারাবাহিক উদ্যমের ফলে এই একই প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার 
বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণে হলদি-গেওয়াখালি অঞ্চল থেকে 
উত্তরে মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী ও পদ্মার অদূরে অবস্থিত সাগরদিঘি অঞ্চল পর্যস্ত 
প্রসারিত SACS | পশ্চিমে এই সভ্যতার কয়েকটি Hw পর্যবেক্ষিত হয়েছে পুরুলিয়া 
জেলায় বাঘমুণ্তী শৈলমালার সানুদেশে প্রবাহিত SSW! বান্দুরের কিনারায় 
দেউলটাড়ের নদ্যতট চত্বরে। পূর্ব দিকে এর বিস্তার আপাততঃ লক্ষ্য করা গেছে 
রূপনারায়ণ ও ভাগীরথীর ডান দিকে প্রসারিত উপত্যকা পর্যস্ত। সুতরাং এই সভ্যতার 
ইতিহাস যে এক হারানো দিগন্তের সন্ধান দেয় সন্দেহ নেই। এশিয়ার ইতিবৃত্তে এই 
সভ্যতার আপন গুরুত্ব প্রকৃতই অসামান্য | পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত নানা 
উৎখনন এই প্রাচীন সভ্যতার উপর আরও আলোকসম্পাত করেছে। এই খনিত 
স্থানগুলির মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বীরভূম জেলায় প্রবাহিত কোপাই নদীর তীরে 
অবস্থিত মহিষদল। এই ACFA থেকে বোলপুরের দূরত্ব সামান্যই। 


১৯৬৩ সালে ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণের পক্ষ থেকে এখানে উৎখনন 
পরিচালনা করেন এই সর্বেক্ষণের অন্তর্গত পূর্বমণ্ডলের অধীক্ষক শ্রী আর, পি, দাস। 


১০০ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


মহিষদলের ঢিবিটি খুবই বড় (২৩০) ১৩৫) ৫ মিটার) এবং এখানে মোটামুটি ২ মিটার 
গভীর অধিবসতি স্তরে দুইটি ইতিহাসপূর্ব কালীন পর্বকে পর্যবেক্ষণ করা গেছে। এই 
দুই পর্বের দ্বিতীয়টিতে লোহার প্রচলন ছিল। যেমন প্রথম পর্ব ছিল পূর্ণভাবে তান্রাশ্ম্ীয় 
সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যজ্ঞাপক। উল্লিখিত দুইটি পর্বে ছিল তিনটি আবাসিক স্তর, প্রথমটিতে 
দুইটি এবং দ্বিতীয়টিতে একটি 1 এই দুই পর্বই অতিবাহিত হয়েছে ক্রমান্বয় ধারায়। এই 
উত্তরাধিকারে কোন কালগত ব্যবধান অথবা ছেদ ছিল না। খননকালে দেখা গেছে 
প্রথম যুগের গৃহতলগুলি পোড়ামাটির খণ্ড এবং মৃত্তিকা পেটাই করে বানানো | আবিষ্কৃত 
সামগ্রীগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে ক্ষুদ্রাশ্মীয় নিদর্শনাদি (যথা 
খর্বাকৃতি ছুরিকা, টাছবার অস্ত্র, চন্দ্রকলার আকৃতি ফলা ইত্যাদি), একশ্রেণীর মৃন্ময় 
বাটখারা, একটি অলঙ্কৃত চিরুণি, বিভিন্ন মাপের তামার চুরি এবং “স্টিয়াটাইট, 
( Steatite) ও রত্বপ্রস্তরের পুতিসমূহকে। প্রথম পর্বের দ্বিতীয় আবাসিক পর্যায়ের 
যেখানে গৃহতলগুলি উন্মোচিত হয়েছে সেখানে সমগ্র স্থানটি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় 
দেখা গেছে পোড়া চালের রাশি। পাণ্ডুরাজার টিবির তৃতীয় পর্বের স্তরেও তুলনীয় 
রূপে একস্থানে CNG চালের সন্ধান পাওয়া গেছে। মহিষদলের প্রাগৈতিহাসিক 
অধিবসতির ধ্বংসাশেষে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের Hw দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 


মহিষদলের গভীরে আবিষ্কৃত কৌলালগুলি মূলতঃ পাণুরাজার টিবিতে 
পর্যবেক্ষিত মৃৎপাত্রসমূহেরই অনুরূপ। এখানকার প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্বে ব্যবহৃত 
হয়েছে সুপরিচিত কৃষ্ণ-লোহিত এবং লোহিতোজ্ভ্বল মৃৎপাত্র সমুদয় | কৃষ্ণ-লোহিত 
কৌলাল যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্বেত অথবা কৃষ্ণ বর্ণে চিত্রিত লোহিতোজ্জ্বল নিদর্শনগুলি 
তেমনি কৃষ্ণ বর্ণে চিত্রিত। পাণ্ডুরাজার টিবিতে অবশ্য কালো রং-এ অলঙ্কৃত “লাল- 
কালো” মৃৎপাত্রের দৃষ্টান্ত দেখা যায় নি। মহিষদলে আবিষ্কৃত অপরাপর পুরাবস্তৃগুলির 
মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য একটি তাত্রনির্মিত সমতল কুঠার (‘ফ্ল্যাট কপার সেলট্‌’) 
এবং একটি পোড়ামাটির বাস্তবানুগ লিঙ্গমূর্তি। শেষোক্ত নিদর্শনটি দূর অতীতের এক 
ধর্মচেতনার উপর আলোকপাত করবে সন্দেহ নেই। মহিষদলে খনন কার্ষের ফলে 
পুনর্বার প্রমাণিত হল বাংলার সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে লোহার প্রচলন ছিল। 


মহিষদল প্রসঙ্গে অনুষ্ঠিত অঙ্গার-চতুর্দশ (কার্বন ফোর্টিন, সংক্ষেপে 014) 
পরীক্ষাসমূহের ফল নিম্নে উদ্ধৃত করা হল। বৈজ্ঞানিক মতবাদের ভিত্তিতে এখানে দুই 
শ্রেণীর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে 2 


তাত্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ১০১ 


টি, এফ,৩৮৯ পুরাতন লৌহযুগ 

খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ৬১৫+১০৫ (খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ৬৯০+১০৫) 
টি,এফ,৩৯০ শেষ তাঅযুগীয় অধ্যায় 

খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ৭৭৫+১০০ (খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ৮৫৫+ ১০০) 
fb, GF, ৩৯১ পুরাতন তাঅযুগীয় অধ্যায় 

খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ১২৮৫+১০৫ (ABAE ১৩৮০+ ১০৫) 
টি,এফ, ৩৯২ পুরাতন তাত্রযুগীয় অধ্যায় 

খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ১০০০+১০৫ (খ্ৰীষ্টপূৰ্ব ১০৮৫+১১০) 


এই পরীক্ষাগুলি পরিচালিত হয় axa সুবিখ্যাত ‘টাটা ইন্‌ষ্টিটিউট অব্‌ 
ফাণ্ডামেন্টাল রিসার্চ'-এর ল্যাবরেটরিতে 


বীরভূম জেলার অপর একটি স্থান হারাইপুর-শলখানা যেখানে ভারতীয় YASS 
সর্বেক্ষণ কর্তৃক একটি ক্ষুদ্র পরিসর অথচ গুরুত্বপূর্ণ উৎখনন পরিচালিত zu | ১৯৬৫ 
সালে খননকার্য পরিচালনা করেন পরলোকগত পুরাতাত্তিক রবীশ HA | এই খননকালে 
রবীশ করকে সাহায্য দান করেন Shera, জি, পাণ্ডে এবং শ্রীআমীর Pie | উৎখননের 
ফলে হারাইপুরে ছয়টি স্তর-সমন্বিত ৬'৫ মিটার গভীর এক মানব অধিবসতি লক্ষ্য করা 
WH এখানকার প্রাগৈতিহাসিক অধিবসতি স্তরগুলিতে আবিষ্কৃত হয়েছে কৃষ্ণলোহিত 
মৃৎপাত্রের নিদর্শনাবলী। এগুলি কখনও সাধারণ শ্রেণীর, কখনও চিত্র শোভিত। পূর্ববর্তী 
আলোচনার প্রেক্ষাপটে চিত্রিত কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের গুরুত্ব সহজেই অনুভব করা 
যেতে পারে। হারাইপুরে পরিচালিত খননকার্যের ফলে এখানে উন্মোচিত হয়েছে দশটি 
শিশুর সমাধি। অস্ত্যেষ্টি রীতি অনুসারে দেহগুলির মাথা উত্তর দিকে নির্দিষ্ট এবং পদদ্বয় 
প্রসারিত দক্ষিণ দিকে। কঙ্কালগুলির হাত কিছুটা পশ্চিম দিকে নির্দিষ্ট। 


বীরভূম জেলায় কীর্ণাহার থানার অন্তর্গত নানূর-এ অবস্থিত চণ্ডীদাসের টিবিতেও 
সন্ধান পাওয়া গেছে এক বিলুপ্ত তাত্রাশ্মীয় অধিবসতির। প্রকৃতপক্ষে, এই পুরাকাহিনী 
বিজড়িত ধবংসাবশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ চিত্রশালার পক্ষ থেকে 
সর্বপ্রথম উৎখনন পরিচালিত হয় ১৯৪৫ সালে। এই খনন পরিচালনা করেন সুবিখ্যাত 
পুরাতাত্তিক অধ্যাপক শ্রীকুপ্জগোবিন্দ গোস্বামী | খননে অংশ গ্রহণ করেন ডঃ সুধীররঞ্জন 
দাস এবং শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সরকার। 


উত্খনন কালে আবিষ্কৃত হয়েছিল কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের নানা নিদর্শন | কিন্ত 
ভারতীয় প্রত্বুতত্বের এই দিকৃটি অজ্ঞাত কিংবা অস্পষ্ট ছিল। ফলে বাংলার তা্রাশ্মীয় 


$03 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


সংস্কৃতি তখনও অজ্ঞাত থেকে গেল। অপেক্ষা করতে হল আরও প্রায় সতের বছর। 
১৯৬৫ সালে ভারতীয় AMSG সর্বেক্ষণের পক্ষ থেকে নানূরে উৎখনন পরিচালনা 
করেন পুরাতাত্তিক শ্রীআর, পি, দাস। খননের ফলে জানা যায়, সুদূর প্রাগৈতিহাসিক 
পর্ব থেকে এতিহাসিক যুগ পর্যন্ত এখানে বারংবার অধিবসতি স্থাপিত হয়েছে। প্রাচীনতম 
আবাসিক স্তরটি প্রতিষ্ঠিত আছে ভূ-নিন্নে কঙ্কর-মিশ্রিত হলুদ বর্ণের এঁটেল মাটির 
উপর। নানুরে প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক কৌলালসমূহ পাণুরাজার টিবি কিংবা মহিষদলে 
আবিষ্কৃত মৃৎপাত্রগুলিরইঅনুরূপ। এই কৌলালসমূহের মধ্যে আছে কৃষ্ণ বর্ণে চিত্রিত 
লোহিত রং-এর মৃৎপাত্র এবং সাধারণ ও শ্বেত বর্ণে চিত্রিত কৃষ্ণ-লোহিত কৌলাল। 


বীকুড়া জেলায় প্রবাহিত কংসাবতী ও কুমারী নদীদ্বয়ের মিলনস্থলে অবস্থিত 
তুলসীপুরে একটি স্বল্প-পরিসর স্থানে পরিচালিত উৎখননের ফলেও আবিষ্কৃত হয়েছে 
PRAT সভ্যতার অস্তিত্ব এবং লৌহ ও OR যুগের পারস্পরিক নৈকট্য। প্রকৃতপক্ষে, 
তুলসীপুরে লৌহ ও vers যুগের পরম্পরা অস্পষ্ট সীমানায় প্রসারিত। এই প্রসঙ্গে 
পুরাতাত্বিক ডঃ সাঙ্কালিয়ার মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ অনুধাবনযোগ্য 8 


"The small excavation at Tulsipur in Bankura district, just 
below the conference of the rivers Kasai and Kumari, once again 
confirms the overlap between the Copper and Iron Ages in West 
Bengal. This is also indicated by 014 dates we have for 
Mahisdal."° 


বর্ধমান জেলায় MEA অরণ্যের অদূরে দামোদর নদের উত্তর তটে অবস্থিত 
ভরতপুর-এর টিবিতেও উৎখননের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে পাণ্ডুরাজার টিবি, মহিষদল 
ইত্যাদি প্রত্ুক্ষেত্রে পরিলক্ষিত সভ্যতার তুলনীয় প্রতিচ্ছবি। এই খননকার্য পরিচালিত 
হয় ভারতীয় পুরাতত্্ সর্বেক্ষণ ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলিত উদ্যমে | এখানে 
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সম্প্রতি ভরতপুরের অনতিদূরে দামোদরের দক্ষিণে বাঁকুড়া 
জেলায় পোখরণায় (প্রাচীন পুক্করণা) আবিষ্কৃত হয়েছে তাত্রাশ্মীয় সভ্যতার সুপরিচিত 
নিদর্শন, কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য পূর্ণ দৃষ্টান্তের অংশ। 


এইগুলি আবিষ্কার করেন পশ্চিমবঙ্গ প্রত্বতত্ব অধিকারের দুইজন কর্মী, 
এক্স্প্লোরেসন আ্যাসিস্টান্ট শ্রীসুধীন দে এবং ক্যাটালোগার শ্রী দিলীপ রায়। ইতিপূর্বে 


১ 


Pre-history and Proto-history of India and Pakistan, 2nd edition, Poona 1974, 
P 312. 


তাশ্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ১০৩ 


বাঁকুড়া জেলার পশ্চিমাঞ্চলে দামোদরের দক্ষিণে অবস্থিত মেজিয়ার অদূরে সরাকৃডিতে 
আবিষ্কৃত হয়েছিল তাত্রাশ্মীয় শ্রেণীর কৃষ্ণ-লোহিত কৌলালের বিভিন্ন নিদর্শন। এই 
আবিষ্কারের কৃতিত্ব ভারতীয় POS সর্বেক্ষণের দুই বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর | এই বিজ্ঞানীদ্ধয় 
শ্রীদিলীপ দাসশর্মা এবং শ্রীসুধাংশ বিশ্বাস শুশুনিয়া পাহাড়ের চারপাশের ভূখণ্ডে সমীক্ষা 
পরিচালনার কালে সরাকৃডির প্রাগৈতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করেন এবং এ 
বিষয়ে রাজ্যের Show অধিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর এই টিবি পরিদর্শন 
করেন রাজ্য প্রত্বুতত্ব অধিকারের অধীক্ষক ডঃ শ্যামচাদ মুখাজী। সরাক্ডিতে প্রাপ্ত 
কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের নিদর্শনগুলি সাক্ষ্য দেয় সেই একই সভ্যতার যার চিহগুলি 
আবিষ্কৃত হয়েছে মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার 
বিভিন্ন স্থানে | দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে উত্তরে পদ্মা ও ভাগীরথীর 
সমান্তরাল ধারার উপত্যকা AAG একই সভ্যতার বিস্তৃতি। 


অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলে, এই ব্যাপক ভূখণ্ডের নানাস্থানে একই এক্যবদ্ধ জনরুচির 
সাক্ষ্যস্বরূপ বিভিন্ন আকৃতির অথবা কারুমণ্ডিত কৌলালের উপস্থিতি স্বভাবতই 
প্রাগৈতিহাসিক বাঙলার ইতিবৃত্তকে এক আশ্চর্য চরিত্র দান করেছে। এই আবিষ্কার কি 
তবে পুরাণ ও মহাভারতে উল্লিখিত প্রাচ্য ভারতের স্বাতন্ত্যকে বাস্তব মূল্যায়নের অন্তর্গত 
করতে সক্ষম হবে? আরেকটি প্রশ্ন মানসলোকে উদিত হতে পারে, তিন হাজার বছর 
আগেকার এই সভ্যতার নিদর্শন ও অধিবসতিকে কি খুঁজে পাওয়া যাবে পদ্মার উত্তরে 
ও পূর্বে? অবিভক্ত বাংলার অন্তর্গত বগুড়া জেলায় অবস্থিত মহাস্থানগড়ের এঁতিহাসিক 
গুরুত্ব সর্বজনবিদিত! এমনও হতে পারে, এখানে আবিষ্কৃত মৌর্য লিপি ইতিহাসের 
সুদীর্ঘ পথের কিনারায় স্থিত এক কীর্তিস্বরূপ! এসব প্রশ্নের হয়ত সমাধান হবে ভবিষ্যত 
কালের উৎখনন, অভিযান ও গবেষণার দ্বারা | 


১৯৭৪ সালে রাজ্যের প্রত্বুতত্ব অধিকারের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্খনন 
পরিচালিত হয় বর্ধমান জেলায় ভাতার থানার অন্তর্গত বড় বেলুন গ্রামে অবস্থিত 
বাণেশ্বরডাঙ্গার সুউচ্চ টিবিতে। এই খননের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাগৈতিহাসিক 
পর্বের এক অধিবসতির ক্রমান্য় ধারা ও রহস্যময় বৈচিত্র্য। বাংলার ইতিহাসে 
বাণেশ্বরডাঙ্গার গুরুত্ব তার আপন আসনে প্রতিষ্ঠিত। উৎখননের দ্বারা বাণেশ্বরডাঙ্গার 
তিনটি প্রাগৈতিহাসিক পর্বের পরিচয় পাওয়া যায়। এই তিনটির প্রথম দুইটি তান্ত্রযুগের 
অন্তর্ভুক্ত এবং তৃতীয়টি পূর্বতন সংস্কৃতির উত্তরাধিকার হলেও এই সময়ে লোহার 


১০৪ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


প্রচলন সুরু হয়েছে এমন ধারণা করা যায়। খুঁড়বার সময়ে একটি পরিখায় (BND III) 
তৃতীয় পর্বের স্তরে লৌহ নিষ্কাষণের চিহনস্বরূপ AOAR দেখা গেছে। বাণেশ্বরডাঙ্গায় 
প্রথম যুগের অধিবাসীরা বসতি স্থাপন করে মাকড়াদানা ও কিছু উপলমিশ্রিত এক 
এর উপর প্রতিষ্ঠিত হয় সেখানকার প্রথম SPAM অধিবসতি। বাণেশ্বরডাঙ্গার প্রথম 
অধিবাসীরা নির্মাণ করেছে বাশ-কাঠ ইত্যাদিতে গঠিত মাটিলেপা দেওয়াল-সমন্বিত 
কুটারসমূহ। এগুলির মেঝে অথবা গৃহতলগুলি নির্মিত হয়েছে ‘মোরাম’ fares | একটি 
পরিখার (BND IV) গভীরে একটি এই শ্রেণীর মেঝের উপর মসৃণ চুণের প্রলেপ 
অথবা আস্তরণের চিহ্ন দেখা যায়। 


SPINA যুগের স্তরগুলিতে উন্মোচিত মোরামপেটা কিংবা চুণেলেপা মেঝের 
উপর প্রায়ই দেখা গেছে বিভিন্ন পরিসরের কাঠ কিংবা খুঁটি বসাবার গর্ত। বাণেশ্বরভাঙ্গ 
fa প্রথম পর্বেই সূচিত হয়েছে কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের AAA | এছাড়া, পাণুরাজার 
টিবির আদি-যুগের স্তরে পর্যবেক্ষিত বালুকাগর্ভ ও অভ্রচুর্ণ-সমন্বিত মৃত্তিকায় গঠিত 
এক ধরনের সাধারণ কলস অথবা হাঁড়ির একই প্রকার উপস্থিতি দেখা গেছে এই 
পর্বের পরিমণ্ডলে | বাণেশ্বরডাঙ্গার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের প্রাচীন স্তরবিন্যাসে বারংবার 
প্রসারিত দেখা যায় প্লাবনের BEIRA বালুকার সংস্তরাদি। খুব কাছে কোন বড় নদী না 
থাকায় এই প্লাবন হয়ত এখানে কখনও তেমন কোন বালুকাময় সমাবেশ রেখে যেতে 
পারে নি। যেমন এই ধরনের বালুকারাশি অবগুষ্ঠিত করেছে পাণুরাজার টিবির প্রথম 
পর্বের অধিবসতিকে। 


বাণেশ্বরডাঙ্গার দ্বিতীয় যুগ এক বিশিষ্ট সমৃদ্ধির যুগ। এই সময়ে এখানে FR- 
লোহিত, লোহিতোজ্জ্বল এবং উজ্জ্বল ও মসৃণ কৃষ্ণ বর্ণের মৃৎপাত্রগুলির সৃজনে বিশিষ্ট 
উৎকর্ষ পরিলক্ষিত হয়। কৃষ্ণ-লোহিত বর্ণের কৌলালের অন্তর্গত একটি স্ফীতদেহ ও 
সরু গলার কুম্ভ, ABS থালির নিদর্শন, বহির্মুখী কানা-সমন্বিত সুপরিচিত ভাগুশ্রেণী, 
মুক্ত প্রণাল (চ্যানেল স্পাউট) বিশিষ্ট পাত্র ইত্যাদি। কালো রং-এর মসৃণ মৃৎপাত্রগুলির 
কোমল অবয়ব দেখে মনে হয় এগুলি অল্প তাপে পোড়ানো হয়েছে। লোহিতোজ্জ্বল 
মৃৎপাত্রের দৃষ্টাত্তগুলি কৃষ্ণ বর্ণে চিত্রিত, যেমন দেখা গেছে পাগুরাজার টিবি, মহিষদল 
ইত্যাদি স্থানে। এ ধরনের নিদর্শন পশ্চিম বাংলার আরও নানা প্রত্ুক্ষেত্রে আবিষ্কৃত 
হয়েছে পর্যবেক্ষণমূলক অনুসন্ধান কালে | এই সব প্রত্ুক্ষে ব্রগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, 


তাশ্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ১০৫ 


বীরভূম জেলায় জয়দেব-কেন্দুলীর অদূরে অজয় নদের তীরে অবস্থিত মন্দিরা, বর্ধমান 
জেলায় অজয় ও কুনূরের মিলনস্থুল মঙ্গলকোট ও কুনূর-উপত্যকায় অবস্থিত বসন্তপুর, 
মেদিনীপুর জেলায় রূপনারায়ণ নদের তীরে অবস্থিত তমলুক ও তার সন্নিহিত অঞ্চল 
এবং অন্যান্য বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা কতিপয় তুলনীয় স্থান। 


তাশ্রাশ্মীয় সভ্যতার গভীর সম্বন্ধ বারংবার প্রতিফলিত হয়েছে। তবে বাণেশ্বরডাঙ্গার 
কৃষ্ণ-লোহিত মৃৎপাত্রের তুলনায় এর সংখ্যা খুবই কম। আনুপাতিক ভাবে কৃষ্ণ-লোহিত 
মৃৎপাত্রের সমারোহ বিভিন্ন প্রত্ুক্ষেত্রে লক্ষণীয়। লোহিতোজ্জ্বল মৃৎপাত্রের বিরলতার 
হেতু সম্ভবতঃ এই কৌলালের শিল্পগত মূল্য। স্বভাবতই অধিক শ্রম ও কুশলতা ব্যতিরেকে 
এগুলির সৃজন সম্ভব ছিল না। পাণুরাজার টিবিতে এদের সংখ্যাধিক্যের কারণ ছিল 
হয়ত স্থানীয় জনরুচি এবং ‘আর্থিক’ সমৃদ্ধি। বাণেশ্বরডাঙ্গার দ্বিতীয় যুগের মূল্যবান্‌ 
পুরাবস্তু একটি ক্ষুদ্রাকায় পোড়ামাটির বৃষমূর্তি। 


বাণেশ্বরডাঙ্গার তৃতীয় যুগে পূর্বতন পর্বের মৃৎপাত্রসমূহের প্রচলন মোটামুটিভাবে 
অব্যাহত দেখা যায়। এই যুগে পূর্বেকার মতই ছড়িয়ে থাকে Pola সমষ্টি। এদের 
নির্মাণে অনুসৃত হয় আগেকার রীতি। বাশ কিংবা কাঠের খুঁটির উপর দাঁড়ানো এই 
কুঁড়েঘরগুলির দেওয়াল হত ছেঁচা বীশ অথবা কাঠকুটোর উপর মাটিকাদার আস্তরণ 
দেওয়া এবং মেঝে হত চুণের পলেস্তারা দেওয়া কিংবা মোরাম-চুর্ণ-পেটা। তৃতীয় 
যুগের স্তরে উন্মোচিত হয়েছে একটি চূর্ণের গৃহতল ও তার প্রতিষ্ঠিত একটি চুল্লী। এই 
যুগের শেষ দিকে নির্মিত হয়েছে একটি ইটের বেদিকা (BND I) যার সৃজনে কোন 
ধর্মীয় তাৎপর্য নিহিত থাকা অসম্ভব নয়। তৃতীয় যুগের পর বাণেশ্বরডাঙ্গার অধিবসতিস্থল 
বহু শতাব্দী পরিত্যক্ত থাকে। হয়ত এই স্থানটি পুনর্বার গুরুত্ব লাভকরে আদি-মধ্য যুগে 
যখন পূর্বের ধবংসাবশেষের উপর ইটের দ্বারা নির্মিত হয় একটি বৃত্তাকার স্থাপত্য যা 
স্মরণ করিয়ে দেবে স্তপ-স্থাপত্যের রূপ ও তাৎপর্যকে। 


বর্ধমান জেলায় বাণেশ্বরডাঙ্গার অনতিদূরে আমারুণ রেল স্টেশনের কাছে 
একই vereri সংস্কৃতির নানা নিদর্শন। এগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য FV- 
লোহিত মৃৎপাত্রের এক সমারোহ | সাঁওতালডাঙ্গার একটি কৃষ্চ-লোহিত PAAA 


১০৬ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


মধ্যে সংরক্ষিত দেখা যায় সামান্য অস্থির অবশেষ এবং GS নির্মিত চুরির নিদর্শন। 
স্বভাবতই অনুমান করা যায় এই ভগ্ন কলসটি প্রাগৈতিহাসিক কালের কোন অন্ত্যেষ্টি 
রীতির পরিচায়ক । এই প্রত্বক্ষেত্রের এক প্রান্তে, প্রাচীন OTS খড়েগশ্বরীর তট- 
চত্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে একটি মানব সমাধি। একদা এখানে যে আরও সমাধি ছিল তা 
অনুমান করা যায় আশেপাশে ছড়ানো ও IAB PS দেহাবশেষ ও অন্যান্য চিহ্নসমূহ 
দেখে। নানাভাবে বিলীয়মান সীওতালডাঙ্গার টিবিতে ও তার সানুদেশে আবিষ্কৃত হয়েছে 
শেষপপ্রত্বাশ্মীয় এবং ক্ষুদ্রাশ্মীয় শ্রেণীর নানা নিদর্শন 


পশ্চিম বাংলার তাত্রাশ্মীয় সভ্যতার প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে 
রাজ্যের কয়েকটি স্থানে আবিষ্কৃত বিভিন্ন তামার নিদর্শন। অতীতে মেদিনীপুর জেলার 
তামাজুরিতে আবিষ্কৃত হয়েছিল একটি WHR কুঠার অথবা পরশু সাম্প্রতিক কালে 
পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত হুড়া-র বনাঞ্চলে “টেস্ট রিলিফ’ উপলক্ষ্যে খননের ফলে 
অনাবৃত হয় তিনটি তুলনীয় সম্বন্ধ Pata ও একটি দীর্ঘাকৃতি নিদর্শন। শেষোক্ত বস্তুটির 
নিন্নদেশ সমতল ও কুঞ্চিত রেখা সমন্বিত, পৃষ্ঠভাগ উত্তল (কন্ভেক্স) এবং দুই দিক্‌ 
ERIS | নিদর্শনটি যদি শুধুমাত্র কোন রীতিবদ্ধ আকৃতির তামার বাট না হয়ে থাকে 
তবে তাকে এক শ্রেণীর খুঁড়বার হাতিয়ার রূপে বর্ণনা করা যেতে পারে। এই রকম 
সুদৃঢ় হাতিয়ার মানভূমের শৈলাঞ্চলে অনুষ্ঠিত প্রাচীন যুগের কৃষিকর্মের কাজে লাগা 
সম্ভব। 


১৯৭৬ সালে মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত গড়বেতার অদূরে আগুইবানিতে 
আবিষ্কৃত হয়েছে তাত্রনির্মিত কতিপয় HSH কুঠার ও এক শ্রেণীর বলয়ের নিদর্শন। 
এই সালেই পুনর্বার বাঁকুড়া জেলায় গঙ্গাজলঘাটি থানার অস্তর্গত ভক্তবীধে আবিষ্কৃত 
হয় বিভিন্ন আকৃতির তামার oru কুঠার এবং হুড়ায় পাওয়া দীর্ঘাকৃতি নিদর্শনের 
অনুরূপ ‘হাতিয়ারে’র ভগ্ন দৃষ্টান্ত | এই আবিষ্কারের প্রায় সমসাময়িক কালে মেদিনীপুর 
জেলার ঝাড়গ্রামের অদূরে পরিহাটিতে কোন এক খননের ফলে সন্ধান পাওয়া যায় 
তুলনীয় হাতিয়ারের। পরিহাটিতে প্রাপ্ত তামার নিদর্শনগুলির বিশিষ্ট গুরুত্ব উপলব্ধি 
করা যায় এগুলির মধ্যে AFA ও যুগ্ম Pots (ডাবল্‌ আযাকস্) দুইয়েরই উপস্থিতির 
নিমিত্ত। এই রাজ্যে আবিষ্কৃত তামার নিদর্শনগুলির মধ্যে তামাজুরির কুঠারটি সংরক্ষিত 
আছে কলকাতাস্থিত ইণ্ডিয়ান মিউজিয়ামে | পরিহাটির হাতিয়ারসমূহ সংরক্ষিত আছে 


তাশ্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ১০৭ 


কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত স্নাতকোত্তর AAG বিভাগের সংগ্রহালয়ে এবং 
বাকিগুলি সব আনীত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ AHSS অধিকারের অন্তর্গত রাজ্য SNO 
গ্যালারীতে সংরক্ষণের নিমিত্ত। রাজ্যে আবিষ্কৃত এই হাতিয়ারগুলি তুলনীয় উত্তর ভারতে 
গাঙ্গেয় উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত তাত্র-সম্পদ-স্বরূপ (কপার হোর্ড) নিদর্শনাবলীর 
অন্তৰ্গত বিভিন্ন দৃষ্টান্তের সঙ্গে। এই শ্রেণীর বিভিন্ন দৃষ্টান্ত রাজস্থান, ওড়িশা ও অন্যান্য 
অঞ্চলেও সংগৃহীত হয়েছে। 


গাঙ্গেয় উপত্যকার উল্লিখিত OY সম্পদ-এর অন্তর্ভূক্ত মানবদেহের রহস্যময় 
আকৃতি, হারপুন, ডাটি-সমন্বিত তরবারি (আ্যান্টেনে স্যোরডূ), বলয়াদি এবং সমতল 
দেহ কিংবা সঙ্কন্ধ কিংবা বরফির আকৃতি আয়ত কুঠারসমূহ। রাজস্থানের অস্তর্গত 
নগৌর জেলায় খুরদি নামক স্থানে আবিষ্কৃত হয়েছে তাত্রনির্মিত একটি কোশীপাত্র। 
এখানে উল্লেখ্য নর্মদা তীরে মৃন্ময় কেশীপাত্রের জন্য খ্যাত নাভদাটোলীর তাঙ্রাশ্মীয় 
সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে আবিষ্কৃত হয়েছে ABH কুঠারের কিছুটা অনুরূপ এক তাম্রনির্মিত 
নিদর্শন। বীরভূমে অবস্থিত মহিষদলের তাত্রাশ্মীয় সভ্যতার স্তরে সমতল দেহ বিশিষ্ট 
তাত্রনির্মিত কুঠারের উপস্থিতি ইতিপূর্বেই লক্ষ্য ঝরা হয়েছে। বিভিন্ন কারণ বশতঃ 
গাঙ্গেয় উপত্যকার তাঅ্সম্পদকে এক শ্রেণীর সামান্য-দগ্ধ গৈরিক মৃৎপাত্রের (Ochre 
Coloured Potteryz OCP) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হয়ে থাকে। উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত 
বাহাদারাবাদ, রাজপুর পরসু, ভাটপুরা, মানপুর ইত্যাদি স্থানে এই গৈরিক মৃৎপাত্রের 
সন্ধান পাওয়া গেছে বিশিষ্ট পটভূমিকায়। মুর্শিদাবাদ জেলার উত্তর সীমায় গঙ্গাতীরে 
অবস্থিত ফারাক্কায়ও কিছুটা গৈরিক বর্ণের কৌলালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে 
আবিষ্কৃত এক শ্রেণীর কোশীপাত্র হয়ত বা তাঙ্রাশ্মীয় সভ্যতার প্রাচীন রীতিকে প্রতিফলিত 
করে। 


বিভিন্ন কারণে একদা অনুমিত হয়েছে, গাঙ্গেয় উপত্যকার তাত্রসম্পদ সভ্যতার 
বিকাশ ঘটেছে শ্রীষ্ট-পূর্ব ছ্বিসহস্রকের দ্বিতীয়ার্ধের কোন এক সময়ে। এই সভ্যতার 
নিদর্শন উল্লিখিত HHH অথবা যুগ্ম কুঠার সমুদয়ের ইতিবৃত্ত নিহিত থাকতে পারে 
পশ্চিমের নানা রহস্যময় প্রাচীন সভ্যতার বৃত্তে সিন্ধু বিধৌত উপত্যকায় কিংবা আর্য 
সংস্কৃতির উত্থান কাহিনীতে | পশ্চিমবঙ্গে এই কুঠারগুলি কোন স্বতন্ত্র জীবন স্লোতের 
সাক্ষ্য দেয় কিনা তা ভবিষ্যতে বিবেচিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ছোট নাগপুর মালভূমির 


Sov প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


প্রাচীন তাত্রখনিগুলি যে এ বিষয়ে একটি বিশিষ্ট প্রেক্ষাপট রচনা করেছে তাতে সন্দেহ 
নেই। মনে হয়, এই হারানো সভ্যতার পূর্ণরূপটি আজও অজ্ঞাত আছে। প্রাগৈতিহাসিক 
বাংলার আশ্চর্য সভ্যতার কাহিনীসমুদয়ই কি একদা ভূমধ্য সাগরীয় JOS উপনীত হয়েছিল 
এবং গ্রীক ও রোমান সাহিত্যে বিকীর্ণ করেছিল “গঙ্গারিডি”র তুলনাহীন বর্ণচ্ছটা | আদি- 
এঁতিহাসিক পর্বেও এই গৌরব পরিচয়যোগ্য ছিল নিঃসন্দেহে। অবশ্য অতীতের সূর্য 
তখন অস্তমিত। 


তাশ্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ১০৪ 





মেদিনীপুর জেলার প্রবাহিত সুবর্ণরেখা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রসারিত বিচ্ছিন্নরূপে 
বনময় পাহাড়িয়া ভূমিতে আবিষ্কৃত মসৃণ ও সম্বন্ধ কোদালী। নবাশ্মীয় যুগ। 





নিম্ন হিমালয়ে অবস্থিত কালিম্পং-এর অদূরে পর্বতগাত্রে সংগৃহীত মসৃণ নবাশ্মীয় কুঠার। 


330 





বর্ধমান জেলায় অজয় নদের উপত্যকায় অবস্থিত পান্ডুরাজার টিবির প্রাগৈতিহাসিক 
অধিবসতি-স্তরে প্রাপ্ত চিত্রিত মৃৎপাত্র। 


ভাশ্রযুগ ও সভ্যতার নবীন অধ্যায় ১১১ 





পান্ডুরাজার টিবির দ্বিতীয় যুগের মৃৎকুম্ভে রক্ষিত দেহাবশেষ | 
এই কুস্তের উপর কৃষ্ণ-লোহিত কৌলালের একটি ঢাকনী ছিল। 





a টিবিতে ১৯৬৩ সালে পরিচালিত উৎখননকালে তান্রাশ্মীয় 
পর্বের স্তরে উন্মোচিত মানব সমাধি | 





সংক্ষিপ্ত গ্ৰন্থসূচী 


Re——— gi 


Ahmed Hasan Dani 


B. Allchin & 
F. R. Allchin 
B. B. Lal 


B. B. Lal 


C. B. M. Mc.Burnay 


Cheng Te-K'un 


D. H. Gordon 


eitifesifsra — ৮ 


(Select Bibliography) 


Prehistory And Protohistory Of 
Eastern India, Calcutta 1960. 


The Brith Of Indian Civilization, 
Penguin, London 1968. 


"Birbhanpur , a Microlithic site in 
the Damodar Valley," Ancient India, 
No. 14, New Delhi 1958 


"Further Copper Hoards From The 
Gangetic Basin And A Review Of 
The Problem," Ancient India, No. 
7, 1951. 


The Stone Age Of Northern Africa, 
Penguin, Great Britain 1960. 


Archaeology In China, Vol. | 
(Prehistoric China), Cambridge 
1966. 


The Prehistoric Background Of 
Indian Culture, Bombay 1960. 


১১৪ প্রাগিতিহাসিক বাংলা 


D. K. Chakravarty 


Grahame Clark 


H. D. Sankalia 


H. R. Van Heekeren 


J. Coggin Brown 


J. Desmond Clark 


Jacquetta Hawkes & 


Sir Leonard Woolley 


John Waechter 


K. C. Jain 


P. C. Das Gupta 


"The Stone Ages" in Exploring 
Bengal's Past ed. by P. C. Das 
Gupta, Calcutta 1966. 


World Prehistory In New 
Perspective, Cambridge 1977. 


Prehistory And Protohistory of 
India And Pakistan, Pune 1974. 


The Stone Age Of Indonesia'- 
Gravenhage- Martinees Nijhoff 
1957. 


Catalogue Of Prehistoric 
Antiquities In The Indian Museum 
ed. by Sir John Marshall, Simla 
1917. 


The Prehistory Of Southern Africa, 
Penguin, Great Britain 1959. 


History Of Mankind, Vol. I 


(Prehistory And The Beginnings Of 
Civilisation), UNESCO 1963. 


Prehistoric Man, London 1977. 


Prehistory And Protohistory of 
India, New Delhi 1979. 


(a) Excavations At Pandu Rajar 
Dhibi, Calcutta 1964. 


(b) An Introduction To The State 
Archaeological Gallery Of 
West Bengal, Calcutta 1963. 


Paul S. Martin, George I, : 


Quimby & Donald 
Collier 1950. 


S. C. Mukherji 


S. P. Chatterjee 


Stuart Piggott 


V. D. Krishnaswamy 


William Howells 


অধ্যাপক ধরণী সেন এবং 
অধ্যাপক অশোক ঘোষ 


সম্পাদিত পরেশচন্দ্র দাশগুপ্ত : 
ভারতীয় YANG সর্বেক্ষণ এর : 


মহা-অধিকর্তা সম্পাদিত 


সংক্ষিপ্ত গ্রহথসূচী ১১৫ 


(c) Archaeological Discovery In 
West Bengal, Calcutta 1963. 


(d) Archaeological Treasures From 
Tamralipta, Tamluk 1975. 


Indians Before Columbus, U. S. A. 


"Protohistory of West Bengal" in 
Exploring Bengal's Past ed. by P. 
C. Das Gupta, Calcutta 1966. 


Bengal In Maps, Calcutta 1949. 


Prehistoric India, Penguin, Great 
Britain. 1950. 


"The Neolithic Pattern of India", 
Ancient India, No. 16, 1960. 


Mankind !n The Making, London 
1964. 


Studies In Prehistory, Calcutta 
1966. 
“প্রাগৈতিহাসিক শুশুনিয়া”, কল - ১৯৬৭। 


Indian Archaeology- A Review- 
এর বিভিন্ন সংখ্যাবলী। 


লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী 


(A Partial Bibliography by Late P. C. Dasgupta) 


. Famine Relief in ancient India — Nationalist, April 20,1947. 


. The Great Oceanian Civilization and her heritage in India _ 
Nationalist, May 18, 1947. 


. Ancient Indian Heroes in Central Asia — 
Amrita Bazar Patrika, May 18, 1947. 


. A visit in the Interior of Siam _ 


Calcutta Review, February, 1948. 


. Some Aspects of Siamese Dance - 
Amrita Bazar Patrika, May 23, 1948. 


. ব্রোঞ্জ নির্মিত সুদর্শন ও প্রাচীন বুদ্ধ মুর্তি - 
Ananda Bazar Patrika, June 3, 1948. 


. The Influence of Sumatra in Siam - 


Calcutta Review, August/Septmber, 1948. 


. Untitled? — in the proceedings of the Executive Committee 
of the council of Post Graduate Teaching in Arts — 
Headmasters Bulletin, 1948-49 No 4. Sept 29, 1948. 


. Evolution of Indo-Thai Amity — 
Amrita Bazar Patrika, Puja Issue, 1948. 


লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী ১১৭ 


10. Rama in Siam _ The Statesman, November 28, 1948. 


1 1. The Libraries of Siam - 
Bengal Library Association Bulletin Vol VII, 1948. 


12. প্রাচীন শ্যাম ও ভারতীয় প্রভাব- যুগান্তর, February 13, 1949. 


13. শ্যামদেশের ভাষায় ভারতীয় প্রভাব - 
মাসিক বসুমতী ২৭/২/৫ পৃঃ ৬৫০, 1355 B. S. March, 1949. 


14. শ্যাম দেশের নৃত্যকলা - 
Amrita Bazar Patrika 23 May, 1948. 
শতাব্দীর কথা, চৈত্র, ১৩৫৫, 


15. Some Notes on the Easy Trade between Bengal & Burma _ 
Calcutta Review, April, 1949. 


16. প্রাচীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঙালী - যুগান্তর, May 01, 1949. 


17. Archaeological Possibilities in the Mergui Lakes — 
Mordern Review, May, 1949. 


18. The Origin of the Thai Art - Mordern Review, July, 1949. 
19. প্রাচীন বাংলার চন্দ্র রাজবংশ - মাসিক বসুমতী, July, 1949. 


20. The Austrics in the Awakening of Oceania — 
Mordern Review, October, 1949. 


21. A Siamese reference in the Bengali Ramayana of Krttivasa- 
Indian Culture, July, 1949. 


22. The Deities of the Pacific World _ 
Mordern Review, December, 1949. 


23. শিল্পময় শ্যাম - প্রবাসী, কার্তিক ১৩৫৫, 
24. শ্যামসাগর - শতাব্দীর কথা, ৪৯/২/১ পৃঃ ৩২-৩৮, পৌষ ১৩৫৫, 


১১৮ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


25. শ্যামদেশের বৌদ্ধধর্ম - প্রবাসী, ৪৯/২/৩ পৃঃ ২২৮-২২৯, 1919. 


26. The Maritime People of ancient India — 


Calcutta Review, October-January, 1949-50. 


27. Marvel of the Siamese Art — 
Hindusthan Standard, January 08, 1950. 


28. Reminiscences of Netaji in the Far East — 
Nation, January 19, 1950. 


29. Siam - A Cultural reflex of Bengal - 
INFI May,1949 / Nation, January 25, 1950. 


30. Prehistoric Cultures of the World - 
— Nation, February 19, 1950. 


31. Ancient Bengali Mariners in the Pacific — 
Hindusthon Standard, March 05, 1950. 


32. প্রাচীন প্রশাস্ত মহসাগরে বাঙালী সদাগর - 
Ananda Bazar Patrika, March 10, 1950 


43. The Mythology of Indochina - 
Modern Review, March 28, 1950 


34. প্রাচীন TAND বাঙালী নারী - 
মাসিক বসুমতী চৈত্র, ২৮/২/৬ পৃঃ ৮১৬-৮৯৭, 1356 B.S. 1949/1950. 


35. প্রাচীন ভারতীয় মুদ্রাত্ব- প্রবাসী, বৈশাখ 1357 B.S. ৫০/১/১, 1950. 


36. Purnachandra Mukherjea : A Pioneer Bengali Archaeologist 
- Calcutta Review, May, 1950. 


37.Kausambi Terracottas — The Statesman, June 04, 1950. 


38. Clouds Over Indochina - 
Hindusthan Standrad, July 23-30, 1950. 


লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী ১১৯ 

39. পলিনেশিয়দের উপকথা - 
প্রবাসী, পৃঃ ৪৪৩ - ৪৪৬, ভাদ্র 1357 B.S. August, 1950. 
40. Buddhism in Thailand — Modern Review, 1950. 


41. Ancient Political Relations Between Bengal and the Far East 
Eur-Asia, October, 1950. 


42. ব্যাংককের একটি বিকাল - শারদীয়া শিশির, 1357 B.S., 1950. 
43. Some Aspects of A Forgotten Link Between Bengal and the 

Pacific — Eur-Asia, January, 1950. 
44. শ্যামভরমণ - 


প্রবাসী, 1357 B.S., অগ্রহায়ণ 1950, ৫০/২/২ পৃঃ ১৬৩-১৬৭, সচিত্র 


45. Wisdom and Belief of Australian Aboriginals — 
Eur-Asia, March/April, 1951. 


46. Transport Vessels of Ancient India — 
Amrita Bazar Patrika, Suppliment of Shipping, 
May 13, 1951. 


47. A Note on The Coins of Soter Magas - 
Calcutta Review, July, 1951. 


48. Annal of Indian Thoughts in The Quartrains of Omar 
Khayyam — Eur-Asia, October, 1951. 
49. বিস্মৃত মহানগরী তাত্রলিপ্ত - Tamralipta College Journal 
c.f. Amrita Bazar Patrika, May 26, 1952. 
Ananda Bazar Patrika, Oct 07, 1952. 
Hindusthan Standard, May 26, 1952. 


50. আমাদের কথা - 
তা্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয় পত্রিকা,সংখ্যা ১, 1358 B.S. 1951/1952. 


$30 প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


51. Hindu-Buddhist Element In The Primitive Culture of Siberia. 
Eur-Asia, Vol-6, No. 1-2, January-February, 1952. 


52. Some Newly Discovered Terracottas From Tamralipta — 
Calcutta Review, February, 1952. 
c.f. Ananda Bazar Patrika, Translation, 


Jugantar] Review, October, 1952. 


53. Some Newly Discovered Terracottas From Tamralipta — 


Modern Review/Calcutta Review, February, 1952. 


54. লুপ্ত নগরী তান্্রলিপ্ত - তরুণের FH, 1359 B.S., বৈশাখ 1952, ৫2 ৩. 


55 খৃষ্টপূৰ্ব যুগের পোড়ামাটির মূর্তি- 
Ananda Bazar Patrika, May 04, 1952. 


56. পোড়ামাটার প্রাচীন মুর্তি - যুগান্তর, May 08, 1952. 


57. Ancient Terracottas Found in Tamluk - Hindusthan Standard 
c.f. Amrita Bazar Patrika, May 26, 1952. 
Ananda Bazar Patrika, October 07, 1952. 


58. Buried Treasures in Ancient Tamralipta — 
Amrita Bazar Patrika, May 26, 1952. 


59. Tamralipta : The Forgotten City of Bengal — 
Calcutta Review, June, 1952. 


60. প্রথম মহীপালদেবের পিতৃরাজ্য উদ্ধার - 
Ananda Bazar Patrika, September, 07, 1952. 


61 অতীত ভারতীয় Pica “সাগরিকা” সভ্যতার অবদান - 
শারদীয়া তরুণের স্বপ্ন, 1359 B.S., 1952. 


62. Archaeological Finds in Tamralipta — 
Hindusthan Standard, October 02, 1952. 


লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী 
63. তমলুকে প্রাচীন শিল্পের নিদর্শন - 


Ananda Bazar Patrika, October 07, 


c.f. Amrita Bazar Patrika, May 26, 


64. Art Relics From Calcutta — 
The Statesman, October 16, 


65. তমলুক অঞ্চলে প্রাচীন শিল্প নিদর্শন - 
cf. 

Ananda Bazar Patrika, October 07, 

Hindusthan Standard, May 26, 

ORS কলেজ পত্রিকা, 


যুগান্তর, October 22, 


66. Archaeological Discovery at Tamralipta — 


Calcutta Review, November, 


67. রূপনারায়ণ উপত্যকার প্রাচীন সভ্যতা - 


Ananda Bazar Patrika, November 16, 


68. প্রাচীন তান্তলিপ্তের শিল্পকলা - তরুণের স্বপ্ন, অগ্রহায়ণ, 1359 B.S. 


69. The Mauryan Navy Anchored There — 
The Statesman, March 03 / August 08, 


70. Recent Archaeological Explorations At Tamluk — 
Modern Review, November, 
c.f. Amrita Bazar Patrika, May 14, 
Hindusthan Standard, May 21, 


71. তমলুকে নবআবিষ্কৃত একটি গ্রীক মূর্তি - 


ভারতবর্ষ 1359 B.S. পৌষ, 


72. SAAS আবিষ্কৃত একটি প্রাচীন মৃৎফলক - 


Amrita Bazar Patrika, May 26, 


১২৯ 


1952. 
1952. 


1952. 


1952. 
1952. 
1952. 
1952. 
1951. 


1952. 


1952. 


1952. 


1953. 


1953. 
1952. 
1952. 


1953. 


ভারতবর্ষ, সচিত্র ৪১/২/৫, 1361 B.S.. বৈশাখ, 1954 


১২২ প্রাগেতিহাসিক বাংলা 


73. ১0176 Accounts of Antarctica — The Great SouthLand — 
Modern Review, May, 1954. 


74. প্রাচীন রোমান ধর্মে ভারতীয় সভ্যতা - 
Ananda Bazar Patrika, November 21, 1954. 


75. A Problem of the Indus Valley Civilization — 
Tamluk College Journal, 1954. 


76. Some Aspects of the Ancient Rivalry between the Senas and 
the Gahadavalas — 
Calcutta Review, Vol.-134 No. 4 PP. 304-312, March, 1955. 


77. The Signification of the Bhoja Reliefs — 
Modern Review, August, 1955. 


78. Archaeological Finds from Berachampa — 
Modern Review, PP. 298-301, April 1956. 


79. মৌর্য শিল্পের রহস্য - তরুণের স্বপ্ন, 1363 B.S. বৈশাখ 1956 ৯ ৫ ১ 


80. চব্বিশ পরগনার পুরাতাত্তিক অনুসন্ধান - 
চব্বিশ পরগনা জেলা সাহিত্য সম্মেলন, কীচডাপাড়া, 1369 B.S., 1962. 


81. প্রাচীন চন্দ্রকেতুগড়ের মৃন্ময় শিল্প - 
প্রবাসী, পৃঃ ৫০-৫৭, 1369 B.S., 1962/1963. 


82. প্রাগৈতিহাসিক পান্ডুরাজার টিবি- আনন্দবাজার পত্রিকা, January 12, 1964. 


83. প্রাগৈতিহাসিক বাংলার প্রস্তরযুগ ও তাত্রাশ্মীয় সভ্যতা - 
অমৃত, 1372 B.S., 1965. 


84. হালিশহরে আবিষ্কৃত কয়েকটি পুরাতন চিত্র - 
সাহিত্য ও সংস্কৃতি, সচিত্র, 1373 B.S. 1966. 


85. কালিঘাট শৈলীর একটি অনন্য চিত্র - সাহিত্য ও সংস্কৃতি, 1374 B.S. 1967. 


লেখকের প্রকাশিত আংশিক রচনাবলী ১২৩ 


86. হেতমপুরের মৃন্ময় দেউল - এষা, 1374 B.S., 1968. 


87. Political Leaderships in Indochina — 


88. 
89. 
90. 
91. 


92. 
93. 


94. 


95. 
96. 
97. 
98. 


99. 


Saturday Mail (Calcutta), 1970. 
On Meditations for Kevala- Jain Journal, July, 1970. 
একটি অনুপম ভাষ্কৰ্য্য - Ananda Bazar Patrika, July 19, 1972. 
নাট্যরূপে শ্রমন উদয়ী - শ্রমন, 1383 B.S. 1976. 


Tirthankaras, Pratyeka Buddhas and the Ascent of man — 
Jain Journal, July, 1980. 


বঙ্গসংস্কৃতির আঙিনার ফুল - CIMA, July / September, 1980. 
মানিকিয়ান ধর্ম ও নিগ্রন্থ ভাবনা- শ্রমন, 1988 B.S., শ্রাবণ, July, 1981. 


The Daughters of Heaven in the Art of the Nirgrantha — 
Jain Journal, October, 1981. 


ইনাও -এর পৌরাণিক কাহিনী - ভারতবর্ষ, ৩৬৪ ১, খন্ড ৪ 
প্ৰাণকৃষ্ণ পালের চিত্রকলা - কবিতা সাহিত্য সমালোচলা, 1981. 
শ্যামদেশের বৌদ্ধধর্ম - প্রবাসী, পৌষ 
Gangaridae : A Forgotten Civilization Journal of the 


Department of Letters -  CalcuttaUniversity, Vol. 3. 1960. 


New Series. 


In the Foot Steps of Jina, The Stage Version of Atimukha 
and Nagila - . Jain Journal, July, 1976. 


100. On the Emblem of Abhinandana - 


Jain Journal,January, 1977. 


101. Introduction to The Temples of Satrunjaya _ 


Jain Journal, March, 1977. 


১২৪ প্রাগৈতিহাসিক বাংলা 


102. Stupa in Mexican Art _ Jain Journal, July, 1977. 


103. When We Remember Gommatesvara The Lord of Purity 


and Harmony - Jain Journal, April, 1977. 
104. তাপসের প্রাণ - শ্রমণ, July, 1976. 
105. পাষাণের ফুল - শরমণ, May, 1978. 
106. গেরিক প্রান্তরে - শ্রমণ, April, 1980. 
107. শিলাবতী - মণ, November, 1980. 


108. A Saga of The Green Mantle — ‘Folklore, August, 1964. 


109. On Ancient Indian Monuments 
(Unesco Convention Reprint) - 
Folklore, December, 1964. 


110. An Evidence of Cretan Bull Leaping Sport 
From Chandra - Ketugarh — Lalit Kala, March, 1979/80. 


111.Early Terracottas From Chandraketugarh — 
Lalit Kala, October, 1959. 


112. Archaeological Finds at Tamluk — Proceeding of The 16th 
Session of Indian History Congress - Waltair, 1953. 


113. An Unique Gold Coin From Tamralipta — Proceding of the 
19th session of Indian History Congress - Agra, 1956. 


114.Jaina Sculptures From Bangladesh — 
Jain Journal, April, 1975. 


115.Prince Nemi's Longing For Eternity — 
(Last Writing) Jain Journal, April, 1982. 





তিনিই একমাত্র যোগ্য অধিকারী। 
এ গ্রন্থ পৃথিবীর মানব বিবর্তনের 
প্রেক্ষাপটে 


বাঙলার ভূখণ্ডে মহাকাব্যের যুগ